ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সংবাদ সম্মেলনে কাদের

গণঅভ্যুত্থান থেকে বিএনপি এখন লিফলেট বিতরণে

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:৪১, ১৮ মে ২০২৪

গণঅভ্যুত্থান থেকে বিএনপি এখন লিফলেট বিতরণে

ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাকশাল একক কোনো দল নয়, ছিল জাতীয় দল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে অফিসিয়ালি আবেদন করে বাকশালের সদস্য হয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। এখন সেই বাকশালকে একটা গালিতে পরিণত করার দুরভিসন্ধি করছে বিএনপি নেতারা।
শনিবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে প্রায়ই ‘বাকশালী শাসন’ মন্তব্য করেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি ফখরুল সাহেবকে বলব, বাকশাল একক কোনো দল নয়, এটা ছিল জাতীয় দল; কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। এখন এটাকে বাকশাল বলে একটা গালিতে পরিণত করার দুরভিসন্ধি অনেকেরই ছিল।

ফখরুল সাহেবকে বলব, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, আপনাদের নেতা জিয়াউর রহমান অফিসিয়ালি বঙ্গবন্ধুর কাছে আবেদন করে বাকশালের সদস্য হয়েছিলেন। সেটার কী জবাব দেবেন? এটা আরও দুয়েকবার বলেছিলাম, জবাব পাইনি। অহেতুক ঘাঁটাঘাঁটি করলে আপনাদের চেহারাটাই উন্মোচিত হবে।’
গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, গণমাধ্যমে দেখলাম বিএনপির ভারত বিরোধিতার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করে দেখবে, বিরোধিতা না করে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা যায় কি না! তাদের সামনে কোনো ইস্যু নেই, তারা আছে এটা বোঝানোর জন্য কিছু একটা সামনে আনে। শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থান থেকে লিফলেট বিতরণে তাদের আসতে হলো। 
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ঘাটতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, গণতন্ত্রের ঘাটতিটা কোথায়? কী কী কারণে ঘাটতি? বাংলাদেশ বাংলাদেশের মতোই চলবে। বাংলাদেশে একটা নির্বাচন হয়েছে, বিএনপি সে নির্বাচনে আসেনি। সেটা অনেকেরই আজকে মেনে নেওয়া কঠিন। নির্বাচনে যে বাস্তবতা তা হলো নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। ভোটার টার্ন আউট  (উপস্থিতি) ৪২ শতাংশের বেশি।

সংসদে বিরোধী দল সমালোচনা করছে, তাদের মুখ তো আমরা বন্ধ করিনি। সংসদের বাইরে যারা বিরোধী আছে, বিএনপি যখন যা কিছু ফ্রি স্টাইলে বক্তব্য দিচ্ছে। সভা-সমাবেশ করছে। ২৮ অক্টোবর তারা যা করে গেছে। নির্বাচন বয়কটের পর তাদের ওপর দমন-পীড়ন- সেটা তো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিশ্বের অনেক নামিদামি দেশ, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রবক্তা কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলন দমন করতে গিয়ে কীভাবে মেরে, হাত-পা বেঁধে আটক করা হয়েছে। একজন প্রফেসরও এই নির্মমতার শিকার হয়েছেন। এক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমে বলেছেন, তাদের ওপর কেমিক্যাল স্প্রে করা হয়েছে।

এ কারণে অনেক ছাত্রছাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল, তাদের হাসপাতালে নিতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ তো বিএনপির সঙ্গে এমন আচরণ করেনি। বিএনপি যখন যেখানে সভা-সমাবেশ করতে চেয়েছে, করেছে। সরকার তো কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। তা হলে গণতন্ত্রের ঘাটতিটা কোথায়? আমি যদি বলি আমরা অনেক দেশের তুলনায় গণতন্ত্রে সারপ্লাস আছি।

এ সময় র‌্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রশ্নে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশটির প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, তিনি ডিনারের পর সাংবাদিকদের সামনে এ নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন, সে বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশিত হয়েছে কি না তাঁর সঙ্গে আলাপ করলে বুঝতে পারব। তিনি হয়তো মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করতে পারেন, এটা তুলে নিতে।
সরকারের ধারাবাহিকতা এবং স্থায়িত্বের জন্যই দেশে এত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা একটা কথা কেউ বলি না, আজকের বাংলাদেশের এতো উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ কেন হয়েছে? সরকারের ধারাবাহিকতায় এবং স্থায়িত্বের কারণে। এ কারণেই বাংলাদেশের এতো উন্নয়ন ও অর্জন সম্ভব হয়েছে।

এজন্যই বিশ্বের বিস্ময়ে রূপান্তরিত হতে পেরেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র অতি আপনজন এই দেশের জনগণ। হতাশাকবলিত বাংলাদেশে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। আজ এ দেশের এত উন্নয়ন সমৃদ্ধির একটাই কারণ, তা হলো সরকারের ধারাবাহিকতা। 

সাংবাদিকদের বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রবেশ করতে না দেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন,  পৃথিবীর কোন দেশে সেন্ট্রাল ব্যাংকে ঢুকতে পারছে অবাধে? কোন দেশে? ভারতের ফেডারেল ব্যাংকে কী অবাধে ঢুকতে পারছে কেউ? কেন ঢুকবে? সব ওয়েবসাইটে আছে। আপনার জানবার বিষয়, আপনি ভেতরে ঢুকবেন কেন?
রিজার্ভ কমে ১৩ বিলিয়নে নেমে আসায় অর্থনীতিবিদরা অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, কয় বিলিয়ন ডলার নিয়ে আমরা স্বাধীনতার পর যাত্রা শুরু করেছিলাম? ডলার ছিল আমাদের? বিএনপি কয় বিলিয়ন ডলার রেখে গেছে আমাদের? তিন বিলিয়ন প্লাস। তাহলে এখন ১৯-২০ বিলিয়ন ডলার আছে এটা কী কম নাকি? এখন আমাদের রপ্তানি আয় বাড়ছে, রেমিটেন্সও বাড়ছে এই মুহূর্তের যে প্রবণতা, এগুলো বাড়লে রিজার্ভও বাড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ও সুজিত রায় নন্দী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

×