ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১

নিয়েছেন জিএম কাদের, রওশনের ফরম নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রথম দিনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৫৫৭ জন

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:১২, ২১ নভেম্বর ২০২৩; আপডেট: ১৫:২৮, ২১ নভেম্বর ২০২৩

প্রথম দিনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৫৫৭ জন

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে জাতীয় পার্টি

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে জাতীয় পার্টি। প্রথম দিন দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ ৫৫৭ জন মনোনয়নপত্র কিনেছেন। এদিকে জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের মনোনয়নপত্র কেনা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন দলের যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম। পরে অবশ্য দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। বিরোধী দলীয় নেতার মুখপাত্র কাজী মামুনুর রশিদ জানান, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে স্যোশাল মিডিয়ায় যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। 
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অংশ নেওয়া-না নেওয়া নিয়ে জনমনে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। জাপার শীর্ষ নেতারা বলছেন, ঘোষিত তফসিলে সময়ের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে দল নির্বাচনে যাবে কি না, শীঘ্রই সে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। ফলে মনোনয়ন বিক্রি শুরু হলেও জাতীয় পার্টির ভোটে যাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে এক এক রকম বক্তব্য দিচ্ছেন দলের শীর্ষ নেতারা। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয় মিলনায়তনে মনোনয়নপত্র বিতরণ উদ্বোধন করেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

এ সময়  জাতীয় পার্টি মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামসহ জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়া আনুষ্ঠানিকভাবে পার্টির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হাতে মনোনয়নপত্র তুলে দেন। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরও মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন। প্রথম দিনে মোট ৫৫৭টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন নেতা-কর্মীরা। ২৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা যাবে। 
জাতীয় পার্টি নির্বাচনমুখী দল ॥ এ সময় জাতীয় পার্টি মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু গণমাধ্যমের সঙ্গে বলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচনমুখী দল। আমরা আশা করেছিলাম আনন্দমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে। দেশের মানুষ স্বতঃর্স্ফূতভাবে সেই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে। আমরা নির্বাচনে যাওয়ার প্রাথমিক কাজ শুরু করেছি। এটি নির্বাচনে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, নির্বাচনে যেন সাধারণ ভোটাররা শান্তিপুর্ণ  পরিবেশে ভোট দিতে পারে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করুন। নির্বাচনে আমরা আস্থার পরিবেশ চাই।

জাতীয় পার্টির সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ পার্টি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দিয়েছেন। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি নির্বাচনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত  গ্রহণ করবেন। তিনি প্রয়োজন মনে করলে, সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আবারও আলোচনা করতে পারেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি আমাদের আছে, পার্টি চেয়ারম্যান শীঘ্রই নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে শুধু আমরা মহাজোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেই। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের আসন ভিত্তিক নির্বাচনী সমঝোতা ছিল।

এখন জাতীয় পার্টি কোন জোটে নেই। আমরা তিনশ’ আসনেই আমাদের নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বারবার বলেছেন, সকল দলের সঙ্গে আলোচনা করুন। সবাই এক টেবিলে বসলে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান একটি ফর্মুলা দিতে পারতেন। যাতে সংবিধানের আওতায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হয়।
উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে, প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রতনা এমপি, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, রানা মোহাম্মদ সোহেল (অব.) এমপি, আতিকুর রহমান আতিক, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শেরীফা কাদের এমপি, নুরুল ইসলাম তালুকদার এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান এমপি মনোনয়ন ফরম গ্রহণ করেছেন।
জাতীয় পার্টির মনোনয়নপত্র মূল্য ধরা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। সোমবার থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন সংগ্রহ শুরু হয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, মনোনয়নের আপিল ও নিষ্পত্তি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর, নির্বাচনী প্রচার  ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত এবং ভোটগ্রহণ ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ভোট হতে হবে। গত ১ নভেম্বর থেকে এবারের নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। ২৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

×