ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৬ জুন ২০২৪, ১৩ আষাঢ় ১৪৩১

সাম্যবাদী দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মেনন

দেশে অস্বাভাবিক সরকার আনার চক্রান্ত চলছে

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০০:২৪, ৪ অক্টোবর ২০২৩

দেশে অস্বাভাবিক সরকার আনার চক্রান্ত চলছে

রাশেদ খান মেনন

কেউ নির্বাচনে আসুক বা না আসুক সঠিক সময়েই নির্বাচন হবে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোট অংশগ্রহণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন ১৪ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ। তারা আরও বলেছেন, আমরা আমাদের রাজনীতি নির্ধারণ করব। কোনো বিদেশী শক্তি নির্ধারণ করবে না। দেশে খালকেটে অস্বাভাবিক সরকার আনার চক্রান্ত চলছে। এ চক্রান্তকে নস্যাৎ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। মঙ্গলবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সাম্যবাদী দলের ৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেছেন।

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ১৪ দলীয় নেতা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি, সাবেক মন্ত্রী জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ)  সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি, চীনা দূতাবাসের রাজনৈতিক কাউন্সিলর ইয়াং হু এলোং, গণতন্ত্রী পার্টির ড. শাহাদাত হোসেন, জাতীয় পার্টির (জেপি) সাদেক সিদ্দিকী, গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে সিকদার, সাম্যবাদী দলের সাইফুল ইসলাম, মহিউদ্দিন, সুলীল শীল, সুলতান বিশ্বাস ও লুৎফর রহমান। ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ম-লীর সদস্য আমির হোসেন আমু অসুস্থ থাকায় অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। তিনি সাম্যবাদী দলের ৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণী দিয়েছেন। 
অনুষ্ঠানে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, আমরা আমাদের রাজনীতি নির্ধারণ করব। কোনো বিদেশী শক্তি নির্ধারণ করবে না। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন যাতে অবাধ নিরপেক্ষ হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। কেউ কেউ নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা মনে করছে তৃতীয় শক্তি এসে ক্ষমতা দখল করবে এই আশা আকাশকুসুম। তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের স্বতস্ফূর্ত ভোটে নয়, বরং তাদের জিম্মি করে ক্ষমতায় আসতে চায়। এজন্য তারা তাদের বন্ধু নয়, বরং প্রভু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর নির্ভর করছে।

রাশেদ খান মেনন বলেন, বিএনপি-জামায়াত ঘোষণা দিয়েছে অক্টোবরেই সরকার পতন ঘটাবে। তাদের এই কল্পনা আকাশ কুসুম। কেউ কেউ ভিসানীতি নিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকে রুখতে হবে। জিয়াউর রহমান সম্পূর্ণ অবৈধ সরকার গঠন করেন সংবিধানকে ভূলুুণ্ঠিত করে। ওই সময়েই ঐক্যের মধ্য দিয়ে ১৫ দল গঠিত হয়েছিল। তারপরেও আমাদের মধ্যে অনেক বিভক্তি এসেছে। আবার ১৪ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আমরা গণতান্ত্রিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।  
জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, খাল কেটে অস্বাভাবিক সরকার আনার চক্রান্ত চলছে। এ চক্রান্তকে নসাৎ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমার দেশের রাজনীতি কি হবে তা আমরা ঠিক করব। তুমি বাধা দেওয়ার কে ? তিনি বলেন, দেশে ঐক্যের রাজনীতি শুরু হয়েছে। আগামী নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবেই ১৪ দল অংশগ্রহণ করবে। 
হাসানুল হক ইনু বলেন, ২৩ দফা ভিত্তির ঐক্যটা হয়েছে। সেটাকে ধরে রাখতে হবে। আমরা সংবিধানের চার নীতি ফেরত পেয়েছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্বীকৃতি দিতে পেরেছি। আমাদের ত্রিশ লক্ষ শহীদের স্বীকৃতি দিতে পেরেছি। জয় বাংলা ধ্বনিকে রাষ্ট্রীয় ধ্বনি হিসেবে আমরা নির্দিষ্ট করতে পেরেছি। তারপরে মীমাংসিত বিষয় জাতির পিতা স্বীকৃতি মীমাংসিত বিষয়। ত্রিশ লক্ষ শহীদ মীমাংসিত বিষয়। সংবিধানের চার নীতি মীমাংসিত বিষয়। যুদ্ধাপরাধ মীমাংসিত বিষয়। যুদ্ধাপরাধের বিচার আচার এবং সাজা মীমাংসিত বিষয়।

এ বিষয়গুলো অর্জন করতে পেরেছি। তবে এখনো জামায়াত নিষিদ্ধ করতে পারেনি। এখনো সকল সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে কিছুটা ছাড় দেওয়ার রাজনীতি এখনো বন্ধ করতে পারিনি। সুতরাং আমরা মনে করি যে, কিছু অর্জন হয়েছে। কিছু হয়নি। যেগুলো অর্জন হয়েছে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভুল জায়গাটা আমরা অর্জন করার সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছি। বাকি যে সামরিক শাসনের রেশগুলো সাম্প্রদায়িকতার রেশগুলো রয়েছে বা লুটপাটের যে সমস্যাগুলো রয়েছে দুর্নীতির যে সমস্যা রয়েছে বৈষম্যের যে সমস্যা রয়েছে এবং বাংলাদেশের নারী ক্ষমতায়নের সমস্যা রয়েছে এসব বিষয় নিয়ে আমাদের মতবিরোধ আছে। যা আস্তে আস্তে দূর হবে। 
সভাপতির বক্তৃৃতায় সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, দেশে সময় মতোই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কে আসল আর কে আসল না তাতে কিছু যায় আসে না। নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ষড়যন্ত্র করে কিছু করা যাবে না। এটা অসম্ভব। তিনি বলেন, গত নির্বাচনে  সাম্যবাদী দল আসন পায়নি। এবার আশা করছি আমরা পাবো। এবার আমরা একটি আসন চাইবো। 
বিএনপি সরকারের সঙ্গে দেন-দরবার করে তাদের নির্বাচনে আসা উচিত। এখানে বিএনপি মনে করছে তারা নির্বাচন না করলে নির্বাচন প- হয়ে যাবে নির্বাচন হবে না। বা অন্য কোনো তৃতীয় শক্তি অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করে আসবে। এই বার অন্তত এটা হবে না। এবার এটা হবার সম্ভাবনাটা নেই। কারণ হচ্ছে বিএনপি এমনকিছু করতে পারবে না।

×