ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সড়ক যেন নরক

মো. হারুন মিয়া

প্রকাশিত: ২০:৫১, ১৫ মে ২০২৪

সড়ক যেন নরক

সড়ক যেন নরক

২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পাশ হওয়া সড়ক পরিবহন আইনের ৫৩ (১) এর ধারা অনুযায়ী দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবেন আর্থিক সহায়তা তহবিল থেকে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপেক্ষিতে সড়কে  কিছু সময় শৃঙ্খলা ফিরে আসলেও, পরবর্তী সময়ে যেই লাউ সেই কদু।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল সড়কের অব্যবস্থাপনাগুলো, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্সবিহীন গাড়ির চালকদের। রাজধানীর বিমানবন্দরে সড়কে বাস চাপায় দুজন শিক্ষার্থীর নির্মম মৃত্যুতে ২০১৮ সালে সংঘটিত হয় নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন। সরকার  শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবির পক্ষে আশ্বস্ত করলে, সেই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে তখন।

আহত এবং নিহতভেদে ক্ষতির পরিমাণও নির্ধারিত করা হয় তখন। যেমন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি পাবে ৫ লাখ আর আহত ব্যক্তি পাবে ৩ লাখ। এখানে আবার আরেকটা বিষয় আছে, দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ববরণ করলে মিলবে সেই ৩ লাখ, অন্যথায় একটু সুস্থসবল থাকলে সেই ব্যক্তি পাবে ১ লাখ। সড়কে মৃত্যুর মিছিলে প্রতিনিয়তই কেউ না কেউ যোগ দিচ্ছে। সোজা কথায় বললে সড়ক যেন এখন নরকে পরিণত হয়েছে।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সড়ক পরিবহন (সংশোধন) আইন ২০২৪ এর খসড়া ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠকে সাজা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ধারা অজামিনযোগ্য থেকে জামিনযোগ্য করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে বিদ্যমান আইনের অন্তত ১২টি ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেখানে সড়কে মৃত্যুর মিছিলই কমছে না সেখানে এখন সাজা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

৫ লাখ অথবা ৩ লাখ টাকার চাইতে একজন মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমিয়ে আনার জন্য সরকারের কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। (১) লাইসেন্সবিহীন কোনো গাড়ি সড়কে চলতে দেওয়া যাবে না। (২) ফিটনেসবিহীন যেসব যানবাহন আছে তা- সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা। (৩) দূরযাত্রায় একটা গাড়িতে দুজন প্রশিক্ষিত ড্রাইভার বাধ্যতামূলক করা। (৪) নেশাখোর গাড়ি চালককে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। (৫) নিরাপদ জায়গায় গাড়িচালকদের জন্য বিশ্রামাগারের সংখ্যা বাড়ানো। (৫) সড়ক দুর্ঘটনায় যে চালক জড়িত তার বিরুদ্ধে কঠিন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

অদক্ষ চালক আর বেপরোয়া গতিই দুর্ঘটনার মূল কারণ। রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, তাহলে সেখানে দুর্ঘটনা কমে আসার সংখ্যা কম। গণমাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায় ঘুষের বিনিময়ে ছোট ছোট যান ও ফিটনেসবিহীন অবৈধ গাড়ি চলতে দেওয়া হচ্ছে মহাসড়কে। আমাদের দেশে আইন আছে, কিন্তু সেটার বাস্তবায়ন খুব কম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর হলে সড়কে মৃত্যুর মিছিল শূন্যে নিয়ে আসা অসম্ভব কিছু নয়। 
গৌরীপুর, ময়মনসিংহ থেকে

×