ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

সিএনজি অটোর নৈরাজ্য!

প্রকাশিত: ০৩:৫১, ১৯ আগস্ট ২০১৬

সিএনজি অটোর নৈরাজ্য!

ঢাকা নগরীর হতচ্ছাড়া দশা কাটতেই যেন চাচ্ছে না। কত বড় হয়েছে এই নগরী, কত ইমারত প্রাসাদ, কত রাস্তা, সন্ধ্যা হবার আগেই পথে পথে জ্বলে ওঠে আলোকমালা, কত দোকানপাট, মার্কেট, রং-বেরঙের বাতি! এখানেই তৈরি একটা সিনেমায় গান ছিল এই রকম : ঢাকা শহর আইসা আমার আশা পুরাইল, লাল লাল নীল নীল বাতি দেইখ্যা নয়ন জুড়াইল। সে সময় কথাটি হয়ত ঠিকই ছিল; কিন্তু এখন ঢাকাকে দেখে এমন আনন্দ প্রকাশ করবেন খুব কম লোকই। এই সময় ঢাকার অবস্থা যে রকম হয়েছে তাতে গাইতে ইচ্ছা করবে হয়ত বিষাদের কোন গান। ঢাকার চেহারা, অবয়ব এবং অবস্থা বেশ কয়েক বছর ধরে পাল্টাতে পাল্টাতে এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, এখানে চলাফেরা, ঘোরাফেরা বা স্বাভাবিক কাজকর্মের জন্য এখানে-ওখানে যাওয়ার ব্যাপারটা হয়ে উঠেছে চরম কষ্টকর। রাজধানীর বহু রাস্তার অবস্থা এক কথায় বিতিকিচ্ছিরি, যানজট যেন এখানে স্থায়ী রূপ নিয়েছে। কত রাস্তা, কত ফ্লাইওভার তাও যানজট দিন দিন যেন বাড়ছে! যাঁর গাড়ি আছে তিনিও রাস্তায় বেরিয়ে গলদঘর্ম, যিনি বাসযাত্রী বা রিক্সাযাত্রী, এমনকি যিনি পদযাত্রী তিনিও গলদঘর্ম, যেতে বা কোনখান থেকে আসতে গেলে সবারই ভোগান্তি চরমে! এই অবস্থার মধ্যে সাধারণ নাগরিকের অবস্থা যে কী তা বলার অপেক্ষা রাখে না! এখানে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ স্কুল, কলেজ, অফিসে যাচ্ছে, হাজার রকমের কাজ এখানে হাজারো মানুষেরÑ কিন্তু পথের দুর্ভোগ যানবাহনের! রিক্সা ভাড়া বাড়ছে চালকের ইচ্ছামতো, বাস ভাড়া নির্ধারিত হলেও বহু ক্ষেত্রেই বেশি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ ওঠে। ট্যাক্সি মাঝে-মধ্যে চোখে দেখা যায়। কিন্তু যাত্রীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মিটারবিহীন অটোরিক্সা ছিল একদা, ছিল মিশুক, সেসব বিতাড়িত হলো, সাধারণের সুখের জন্য কর্তৃপক্ষ আনলেন মিটার লাগানো অটোরিক্সা। মানুষ ভীষণ খুশি হলো। মিটারের ভাড়া ঠিক করে দেয়া হলো। মানুষ বুঝল এবার বুঝি ভাড়ার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, নিয়মনীতি চালু হবে। হলোও তাই। দিন কয়েক চলল ভালমতো। কিন্তু নাগরিকদের কপালে যেন সইল না মিটার। শুরু হলো গাঁইগুঁই। এ ভাড়ায় চলে না। কেউ বলে মিটার খারাপ। কেউ বলে অটোর মালিক নির্ধারিত জমার টাকার চেয়েও বেশি টাকা দাবি করে। আবার সেই পূর্বাবস্থা। এভাবে চলল বেশ কিছুদিন। নাগরিকদের দুর্ভোগ আর হতাশা চলল বেশ অনেক দিন। তারপর আবার ভাড়া পুনর্নির্ধারণ। মিটার ভাড়া বাড়ানো হলো, মালিকের জমার অঙ্কও বাড়ানো হলো- সাধারণ মানুষ তাতেই খুশি- ব্যস এবার চলুক অটোরিক্সা নির্ঝঞ্ঝাটে! কিন্তু চলল না বেশিদিন। মিটারে যাব না, টাকা দিতে হবে বেশি অথবা মালিক জমা নিচ্ছে বেশি অথবা মিটার খারাপ! আবার শুরু হলো নৈরাজ্য। আবার চরম ভোগান্তি সাধারণ মানুষের। এই দুর্ভোগ কতকাল চলবে? কতকাল চলবে অটো নিয়ে এই নৈরাজ্য? এর অবসান জরুরী। ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে যে সমঝোতার ভিত্তিতে মিটার চালু করা হয়েছে সেই ব্যবস্থাকে আবার চালু করতে হবে। এটা করতে হবে হাজার হাজার নারী-পুরুষ-শিশু অর্থাৎ নাগরিকদের জন্য চালকদের স্বার্থে এখনই এই নৈরাজ্য দূর করতে হবে। এই নৈরাজ্য যারা সৃষ্টি করছে তাদের চিহ্নিত করতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে একই অবস্থা। এই নৈরাজ্য দীর্ঘদিন চলতে পারে না, বার বার এমন নৈরাজ্য হবে কেউ তা আশা করে না।