ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

সংসদের শোক প্রস্তাবে দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের নাম, যুক্তফ্রন্টের প্র

প্রকাশিত: ১৭:৪২, ১৩ মার্চ ২০২৬

সংসদের শোক প্রস্তাবে দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের নাম, যুক্তফ্রন্টের প্র

সংসদের শোক প্রস্তাবে দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা এ ঘটনার সমালোচনা করে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতীয় মর্যাদার পরিপন্থী।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংসদের শোক প্রস্তাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আলবদর ও রাজাকার বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত এবং পরবর্তীতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। একই সঙ্গে বিএনপির একজন চিফ হুইপের মাধ্যমে ওই নামগুলো প্রস্তাব আনার বিষয়টিও তারা সমালোচনা করেন।

নেতারা বলেন, লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের প্রতি শোক প্রকাশ করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি জাতির ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংসদের ভেতরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় কিছু স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির প্রতিনিধিরা দাঁড়াতে অনীহা প্রকাশ করেন, যা জাতীয় মর্যাদার প্রতি অবজ্ঞার শামিল। এমন আচরণ রাষ্ট্রের প্রতি অসম্মানজনক বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

এছাড়া সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেলে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি এটিএম আজহারুল ইসলামকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যুক্তফ্রন্টের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত একজন ব্যক্তিকে এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা সংসদের মর্যাদার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণআন্দোলন বৈষম্য ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ছিল, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির পুনর্বাসনের জন্য নয়। তাই সংসদের শোক প্রস্তাব থেকে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের নাম প্রত্যাহার, জাতীয় সংগীতের সময় দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানানো সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং এটিএম আজহারুল ইসলামকে সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেল থেকে অপসারণের দাবি জানান তারা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের বিভিন্ন দলের নেতারা। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্কাফী রতন, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধানসহ আরও কয়েকটি বাম ও প্রগতিশীল দলের নেতা।

Mily

×