একটি বিয়ের আনন্দঘন অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৯ সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায়। এ দুর্ঘটনায় স্বজন হারিয়ে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, খুলনার কয়রা থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস মোংলার উদ্দেশে ফিরছিল। পথে বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন এবং পরে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
এই দুর্ঘটনায় আশরাফুল আলম জনি তার স্ত্রী, তিন সন্তান, ভাই, বোন ও ভাতিজাসহ পরিবারের মোট ৯ সদস্যকে হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের তিন সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম, ছোট ভাই সাব্বির, বোন ঐশী এবং ভাগনে ফাহিমসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হলে সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের হারিয়ে জনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। চেতনা ফিরলেই তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন। তার এই আর্তনাদে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
মোংলা পৌরসভার শেলাবুনিয়া গ্রামে জনির বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা সেখানে ভিড় করলেও কেউই যেন সান্ত্বনার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। এলাকাবাসীর ভাষ্য, একই পরিবারের এতজন সদস্যকে একসঙ্গে হারানোর ঘটনা তারা আগে কখনও দেখেননি।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী আজম জানান, খুলনা-মোংলা মহাসড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ত হলেও এখনো এটি চার লেনে উন্নীত করা হয়নি। সরু রাস্তা এবং ভারী যানবাহনের চাপের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করা এবং দুর্ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এদিকে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল, জেলা পরিষদ এবং সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে নিহত মাইক্রোবাস চালকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো মোংলা এলাকায়। এক পরিবারের এতজন সদস্যের মৃত্যু স্থানীয়দের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
Mily








