ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

‘জীবন-মরণ যাই হোক, সাজ্জাদ ভাইয়ের সঙ্গে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না’

প্রকাশিত: ১৭:৫৪, ১৩ মার্চ ২০২৬

‘জীবন-মরণ যাই হোক, সাজ্জাদ ভাইয়ের সঙ্গে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না’

চট্টগ্রামে এক শিল্পপতির বাসা লক্ষ্য করে ভারী অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), একটি বিদেশি রিভলভার, একটি পিস্তল ও বেশ কিছু গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন, মনির এবং সায়েম। পুলিশ জানিয়েছে, এদের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতারদের কাছ থেকে একটি ভিডিও ক্লিপও উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সাজ্জাদ আলী খানের বাহিনীতে যোগ দিতে নতুন সদস্যদের পবিত্র কুরআন বা অন্য ধর্মগ্রন্থ স্পর্শ করে আনুগত্যের শপথ নিতে হয়। পরে সেই শপথের ভিডিও বিদেশে অবস্থানরত সাজ্জাদের কাছে পাঠানো হতো। তার অনুমোদন পেলেই সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাংয়ের হয়ে কাজ করার সুযোগ পেতেন।

উদ্ধার করা ভিডিওতে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, “জীবন-মরণ যাই হোক, সাজ্জাদ ভাইয়ের সঙ্গে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না।” নিরাপত্তার কারণে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের মুখ ঝাপসা করা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশে অবস্থান করেও সাজ্জাদ আলী খান তার সহযোগীদের মাধ্যমে নগরীতে খুন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বাহিনীতে বর্তমানে প্রায় ২০ থেকে ২২ জন সক্রিয় সন্ত্রাসী রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের কাছে একে–৪৭ রাইফেল, এসএমজি ও অন্যান্য আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।

সম্প্রতি শিল্পপতি মুস্তাফিজুর রহমান ও মুজিবুর রহমানের বাসায় প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর সিএমপি নগরীকে ১০টি জোনে ভাগ করে ‘এস-ড্রাইভ’ নামে বিশেষ অভিযান শুরু করে। অভিযানের প্রথম ১০ দিনে কয়েকশ অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী এবং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যও রয়েছে। অভিযান চলাকালে বিদেশি পিস্তল, গোলাবারুদ ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাজ্জাদ বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে ছোট সাজ্জাদ, রায়হান, বোরহান উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, আলাউদ্দিন, মোবারক হোসেন ওরফে ইমন এবং হেলাল ওরফে মাছ হেলাল রয়েছে। ছোট সাজ্জাদ গ্রেফতার হওয়ার পর বর্তমানে রায়হান বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ডে এই বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় চট্টগ্রাম মহানগর ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Mily

×