ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

এডিপিতে বিদ্যুৎ খাতে ৩৬ প্রকল্পে বরাদ্দ অনুমোদন

সর্বাধিক গুরুত্ব সঞ্চালন লাইন নির্মাণে

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: ২৩:২৮, ২৩ মে ২০২৪

সর্বাধিক গুরুত্ব সঞ্চালন লাইন নির্মাণে

সর্বোচ্চ উন্নয়ন বাজেট প্রস্তাবিত হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে

আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেট বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)র মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উন্নয়ন বাজেট প্রস্তাবিত হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে। মোট বাজেটের ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ পেয়েছে এই খাতগুলো। এই বাজেটের মধ্যেই আগামী অর্থবছরে অন্তত ৫৭টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় বিদ্যুৎ বিভাগ।

একইভাবে ৩৬টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ প্রস্তাবনা অনুমোদন হয়েছে। এসবের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সঞ্চালন লাইন নির্মাণ কাজে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধান, কূপ খননসহ রয়েছে নানা পরিকল্পনা। নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি বিভিন্ন বৈদেশিক সহায়তায় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৫৭টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দের জন্য সরকার থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে ৯ হাজার ৯শ’ ৮৮ কোটি টাকা। বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে ১৮ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। আর খোদ মন্ত্রণালয় থেকে খরচ করা হবে ৫ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন উৎস থেকে থোক বরাদ্দ পাওয়ার আশা করা হয়েছে ৬শ’ ১৮ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে ৩৪ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। একইভাবে ৩৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার থেকে পাওয়া অর্থ থেকে ২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজেদের তহবিল থেকে ১ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা খরচ করার হবে।

সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুকূলে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ২৯ হাজার ১শ’ ৭৬ কোটি টাকা। যা মোট এডিপির ১১ দশমিক ০১ শতাংশ। প্রস্তাবিত বরাদ্দ বিবেচনায় সেক্টর হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টর ২য় অবস্থানে রয়েছে (১৫ দশমিক ৩৮শতাংশ)। এবং মন্ত্রণালয়/বিভাগ হিসেবে বিদ্যুৎ বিভাগ ৩য় অবস্থানে রয়েছেন। 
জানা যায়, এর আগের অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে এডিপি বরাদ্দ ছিলো সরকারের পক্ষ থেকে ৮ হাজার ৭৬ কোটি টাকা।  ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর মোট ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ১২৫ কোটি টাকা (৫১ দশমিক ০৮ শতাংশ)। আর প্রকল্প সাহায্যের বরাদ্দ থাকা ১৯ হাজার ৫০ কোটি টাকার মধ্যে এপ্রিল পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা (৭৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ)।

আর নিজস্ব তহবিলের বরাদ্দকৃত ২ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে হয়েছে ১ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা (৬৫ দশমিক ৯৯শতাংশ)। সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি হয়েছে ২০ হাজার ৫২৯ কোটি টাকার, যা মোট বরাদ্দের ৬৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। 
একইভাবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতের মোট বরাদ্দের ৩ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ১৯৪ কোটি টাকা, যা মোট শতাংশের হিসাবে ৮৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ খাত ধারাবাহিকভাবে প্রাধান্য পেয়ে আসছে। ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা চাহিদার চেয়েও বেশি। কিন্তু জ্বালানি সংকটে চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এ সংকট কাটাতে জ্বালানি খাতে বেশি বরাদ্দ রাখা উচিত। বিশেষ করে গ্যাস অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কাজে বেশি অর্থ বিনিয়োগ করা প্রয়োজন।

এ বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছে জানিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জনকণ্ঠকে বলেন, সাম্প্রতিক সময় বিশ্বব্যাপী জ্বালানির বাজারে অস্থিরতার প্রভাব চরমভাবে পড়েছে দেশে। এরই মধ্যে কয়েক দফায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেড়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য। বিদ্যুতের দাম খুব বেশি হা মোট চাহিদার থেকে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসেরও সংকট রয়েছে।

ফলে বাধ্য হয়েই চাহিদা মেটাতে উচ্চ মূল্যে আমদানি করতে হচ্ছে এলএনজি। আমরা এর বিকল্প চিন্তা করছি। দেশীয় কূপগুলো খননে জোর দেওয়া হয়েছে। ওগুলোতে গ্যাস অনুসন্ধান, উন্নয়ন ও ওয়ার্কওভারে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক পরিকল্পনা। আগামী ২ বছরে দেশজুড়ে অন্তত ৪৬টি কূপে অনুসন্ধান, উন্নয়ন এবং ওয়ার্কওভারের কাজ পরিচালনা করা হবে। এতে করে দেশের গ্যাসের মজুত এবং সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে আমরা মনে করছি।

তবে একই সময়ে আমরা প্রাপ্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে সঞ্চালন লাইন তৈরিতেও জোর দিচ্ছি। বিশেষ করে রূপপুরের বিদ্যুৎ যেন সময়মতো পাই সেজন্য সঞ্চালন লাইন তৈরিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। 
একই কথা জানান বিদ্যুৎ সচিব মো. হাবিবুর রহমানও। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আমাদের সঞ্চালন লাইন যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।

বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিতরণ ও ট্রান্সমিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল প্রতিষ্ঠান ও সংস্থারও এ লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করা জরুরি। জাইকাসহ আমাদের সকল উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত সহযোগিতা এ ব্যাপারে আমাদের এগিয়ে যেতে ভূমিকা রাখবে। আসন্ন এডিপিতেও আমরা এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছি। 
প্রসঙ্গত, অনুমোদন হওয়া এডিপির মোট বরাদ্দের মধ্যে দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সরকারি তহবিল  থেকে আসবে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। আর বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে ১ লাখ কোটি টাকা।

বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে খাদ্য নিরাপত্তার লক্ষ্যে কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিদ্যুৎ খাত, শ্রম-শক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাসকরণ সংক্রান্ত প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

×