ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

শ্রম আইনের আরও উন্নতি চায় যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: ১৯:৩৫, ২৩ এপ্রিল ২০২৪

শ্রম আইনের আরও উন্নতি চায় যুক্তরাষ্ট্র

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরী

শ্রম আইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তালবাহানার কথা উল্লেখ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘তারা তালবাহানা করছে। আমরা তাদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করি, কিন্তু পারি না। এটা আমাদের ভাগ্য খারাপ।’

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের শ্রম আইনের আরও উন্নতি চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সম্মেলনেও এ শ্রম আইন নিয়ে কথা হয়েছে। এর আগেও আমরা আইনটি পাস করার পর্যায়ে ছিলাম, কিন্তু আইএলও থেকে অনুরোধ করা হলো, এটিকে আরও সমৃদ্ধ ও যুগোপযোগী করতে। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত সংসদে আমরা আইনটি পাস করিনি।’

তিনি আরও বলেন, এবার তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। পরবর্তী ২ মে যে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে, সেখানে এ আইনটি সবার সঙ্গে কথাবার্তা ও পরামর্শ নিয়ে পাস করব।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় সব সময় শ্রমিকের পক্ষে। আবার মালিকদেরও গলাটিপে মেরে ফেলা যাবে না, হাঁস গলাটিপে মারলে সোনার ডিম পাওয়া যাবে না। আমরা চাই, সবাইকে সঙ্গে রেখে সমন্বয় করে একটি যুগোপযোগী শ্রম আইন পাস করতে চাই।

শ্রম আইন নিয়ে মার্কিন পরামর্শের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র একটা টালবাহানা করছে। তারা একটা করলে আরেকটা দাবি করবে। যতক্ষণ না তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারব না, ততক্ষণ তারা আমাদের এগুলো করতে থাকবে। পরাশক্তির অনেকগুলো হাত। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতা লোভী না। বঙ্গবন্ধু বলেছেন, আমরা দেশের মানুষের অধিকার চাই।

এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আমেরিকা বড়ো শক্তি। তাদের অবশ্যই পরোয়া করতে হয়। তাই বলে আমাদের স্বকীয়তা বিলিয়ে দিয়ে তাদের সঙ্গে আপস করতে রাজি না। যুক্তরাষ্ট্র যে সুপারিশ দিয়েছে, সেটা আমরা নেব, তবে যাচাই-বাছাই করে। যেগুলো নিতে পারব না, বিনয়ের সঙ্গে বলব—এগুলো নেওয়া যাচ্ছে না। আর যা নেব, সেটাও তাদের জানাব।

যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের বন্ধু আখ্যায়িত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা আমাদের সহায়তা করে। তারা বিভিন্ন খাতে আমাদের সুযোগ-সুবিধা দেয়। আমরা চেষ্টা করব, তাদের শর্ত রাখার জন্য। আমরা হয়তো অনেক সময় তাদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করি, তার পরেও পারি না। এটা আমাদের ভাগ্য খারাপ।

শহিদ

×