ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

সংবাদ সম্মেলনে কাদের

১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে জোট শরিকদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:২৪, ৩ ডিসেম্বর ২০২৩

১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে জোট শরিকদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত

ওবায়দুল কাদের

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সকল সিদ্ধান্তের বিষয়ে আওয়ামী লীগের পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত কোথাও কোনো সংঘাত, বিশৃঙ্খলা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পুরো দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কমিশন যে সিদ্ধান্ত দেবে আওয়ামী লীগ তা মেনে নেবে।
শনিবার ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে জোট শরিকদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। 
নির্বাচন কমিশন এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন রুটিন ওয়ার্ক করবে। কমিশনের ব্যবস্থা আমাদের বিরুদ্ধে গেলেও তাকে আওয়ামী লীগ সাধুবাদ জানাবে। নির্বাচন সংক্রান্ত সারাদেশে যে কোনো ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত তথ্য নেওয়ার এখতিয়ার এখন নির্বাচন কমিশনের। কমিশন নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তাতে আস্থা আছে আওয়ামী লীগের।
বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে আসা অপরাধ নয় জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, শাহজাহান ওমরের মতো অনেকেই ভেতরে ভেতরে বলছেন জীবনেও আর বিএনপি করব না। প্রার্থী স্বতন্ত্র হোক বা দল মনোনীত হোক- এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি দলটির নেতাকর্মীরা হতাশ এবং আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। এ থেকেই দলটির সাবেক ও বর্তমান নেতারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। কাজেই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে যা বোঝায় ২৯টি নিবন্ধিত দল অংশ নিয়েছে।
বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরকে নৌকার প্রার্থী করার বিষয়ে তিনি বলেন, অনুপ্রবেশ তো জোর করে আসা। কিন্তু তিনি স্বেচ্ছায় এসেছেন। এখানে গণতান্ত্রিক বিধি-ব্যবস্থার লঙ্ঘন হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দল পরিবর্তন করা যায়। তিনি বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে এসেছেন। এটা কি অপরাধ?
জামিনে মুক্তির পর শাহজাহান ওমরের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়া নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখানে অপরাধের সঙ্গে বিষয়টা তুলনা করতে হবে। প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশ হত্যার দায়ে জেলে যেসব হেভিওয়েট নেতারা আছেন তাঁরা দায় এড়াতে পারেন না। তাদের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রধান বিচারপতির বাড়িতে হামলা, পুলিশ হাসপাতালে হামলা, একজন পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাসের চোখের সামনে। একটা অপরাধের সঙ্গে আরেকটা অপরাধের পার্থক্য বুঝে নিতে হবে।
তিনি বলেন, এটা তাঁর (শাহজাহান ওমর) ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটাও গণতন্ত্র। আমার এ দল ভালো লাগে না, আরেক দলে যাব, সেটা তো আমরা হস্তক্ষেপ করিনি। তিনি স্বেচ্ছায় এসেছেন, তা তাঁর বক্তব্যে বলেছেন। দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বসিয়ে দিতে হস্তক্ষেপ করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বতন্ত্র বসিয়ে দেওয়ার চেষ্টার কোনো অভিযোগ আমি পাইনি। নির্বাচন করুক, দেখা যাক, যাকে জনগণ চায়, সে-ই জিতবে।
বিএনপি বলছে ব্ল্যাকমেইলই করে তাদের নেতাদের নির্বাচনে আনা হচ্ছে- এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন,  ব্ল্যাকমেইল করে কাকে নেওয়া হচ্ছে? বিএনপির নেতৃত্ব কি এতই দেউলিয়া যে ব্ল্যাকমেইলই করলেই চলে আসবে? রাজনৈতিক পরীক্ষায় এতই ব্যর্থ যে, কারও ব্ল্যাকমেইলিংয়ে প্রলুব্ধ হয়ে অন্য দলে যাবে বিএনপির ভুল নীতির জন্য দলটির নেতাদের দায়ী করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির কর্মীরা হতাশ। তারা আওয়ামী লীগের প্রতি নয়, তাদের নেতাদের প্রতিই হতাশ। কারণ, বিএনপি নিজেরাই ভুল নীতি নিয়েছে। এজন্য আজ নিজেরাই বিভক্ত হয়ে গেছে। কোনো দলকে ভেঙে দেওয়া আওয়ামী লীগের নীতি নয় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির চলমান এক দফা দাবি গভীর গর্তে পড়ে গেছে। তাদের আন্দোলন ভুলের চোরাবালিতে আটকে গেছে। এখন যত চেষ্টাই করুক লাভ নেই। বিএনপি আর আন্দোলন করতে পারবে না।  
দেশের জনগণ ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু দল নির্বাচন বিরোধী কর্মকা-ে লিপ্ত থাকলেও জনগণ নির্বাচনমুখী। আন্দোলনের নামে কিছু দল নির্বাচন ঠেকাতে চেয়েছে এখনো চাচ্ছে। কিন্তু বিজয়ের মাসে নবশক্তিতে বলিয়ান জনগণ ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে। তারাই বিএনপিকে প্রতিহত করবে।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও সুজিত রায় নন্দী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনোয়ার হোসেন, নির্মল চ্যাটার্জী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

×