ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

খোশ আমদেদ মাহে রমজান

অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম রফিক

প্রকাশিত: ২৩:৪০, ১ এপ্রিল ২০২৩

খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আজ মাহে রমজানের ১০ম দিবস। বিদায় রহমতের ১০ দিন

আজ মাহে রমজানের ১০ম দিবস। বিদায় রহমতের ১০ দিন। এ যেন মুমিনের কলিজায় একটি বড় আঘাত। কারণ এক একটি করে সিয়ামের জন্য মুমিনরা বাকি ১১ মাস অধীর চিত্তে অপেক্ষা করেন। এ মাস আসার আগ থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সিয়াম সাধনার সুযোগদানের জন্য খোদাতায়ালার কাছে ফরিয়াদ জানান, মোনাজাতে রোনাযারি করেন। কারণ, মৃত্যু কোনো বয়স মানে না। যে কোনো সময়, যে কারও তলব আসতে পারে।

বিষয়টি চিন্তা করে বহু মুমিন মুসলমান সিয়াম সাধনার মাধ্যমে জীবনকে শেষবারের মতো মহামহিম প্রভুর দরবারে পেশ করার নিয়ত করেন। আর এমনিতেই সিয়ামের মাসের পূর্ণ কর্মসূচি স্মৃতিময় ইবাদতগুলো শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত যে কাউকে নাড়া দেয়। যেমন- ইফতার গ্রহণের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য, তারাবিহর সালাতের মুবারক জামাত, সেহরি গ্রহণের ভিন্ন এক আমেজ, সবশেষে ঈদ উপলক্ষে সর্বত্র নতুনত্বের প্রাদুর্ভাব। সবকিছুই হৃদয়ছোঁয়া। তাই এ মৌসুম কোনোমতেই ভোলার নয়।

এ ছাড়া ইমানদারদের অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হলো রমজানের সিয়াম পালন করা। এটি মূলত আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার হুকুম বরদারি করা। কিন্তু এরপরও এ মাসের সিয়াম সাধনার ফলে রোজাদার ইহ-পরকালে বহুবিধ আশীর্বাদপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন। এ মাসে দিনভর উপবাসব্রত পালন ইফতার ও সেহরি অনুষ্ঠান, তারাবিহ ও তেলাওয়াত প্রভৃতি সর্বক্ষেত্রে মুমিনদের শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক শক্তিতে বলীয়ান করে তোলে এবং এসবের বরকত ও উপকারিতা তাদের দু’জাহানে সৌভাগ্যম-িত করে। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেছেন : হে মুমিনগণ !

তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর দেওয়া হয়েছিল- যাতে তোমরা পরহেজগারি অর্জন করতে পার।’ বস্তুত, আয়াতে বর্ণিত পরহেজগারি বা তাকওয়া হচ্ছে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়। রমজান মুসলিম দুনিয়ায় নানা অনুশীলনের মধ্য দিয়ে সে বিশেষ গুণ ও বৈশিষ্ট্য অর্জনের আশীর্বাদ নিয়ে আসে। হাদিসের বর্ণনা থেকে জানা যায়, এ মাসে কোনো লোক যদি কোনো নফল ইবাদত করে, তবে তার সওয়াব বা শুভ পরিণতি হবে অন্য মাসের ফরজের সমতুল্য।

আর এ মাসের একটি ফরজের সওয়াব অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায়ের সওয়াবের সমতুল্য। এ মাস ধৈর্যের। আর ধৈর্যের প্রতিদানই হলো জান্নাত। এ মাস পরস্পরের মধ্যে সহানুভূতি প্রকাশের। এ মাসে মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তার গুণাহ মাফ করে দেওয়া হবে এবং তাকে দোজখ থেকে নাজাত দেওয়া হবে, রোজাদারের রোজার সমান সওয়াবও পাবে। তবে রোজাদারের সওয়াবের কোনো কমতি হবে না..।’
পরকালীন পুরস্কার আর খোদার দিদারই নয় শুধু রোজার মাস আশির্বাদস্বরূপ। রমজানের মর্মবাণী আদর্শ সমাজ, আদর্শ জীবন গঠনেও এক অপরিহার্য প্রশিক্ষণ হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। রমজান মানুষকে ত্যাগ শেখায়, সুখ-দুঃখের অনুভূতি জাগায়। বলা হয়েছে, ‘রমজানে যখন কোনো ব্যক্তি গায়ে পড়ে ঝগড়ায় আসে, তখন যেন বিনীতভাবে রোজাদার আরজ করে- ছুমতু লির রাহমান... ভাই আমি যে রোজাদার !

দয়াময় প্রভুর নামে মৌনতা অবলম্বন করেছি, সুতরাং আজ তর্কাতর্কি নয়, নয় বাড়াবাড়ি...।’ ইসলামের এ শিক্ষা, রমজানের এ দর্শন বাকি এগারো মাসে প্রতিফলিত করা গেলে সমাজের চেহারায় নিশ্চয় স্বর্গীয় আবরণযুক্ত হবে। যারা আত্মনিবেদন করে সিয়াম পালন করে, তাদের দ্বারা মানুষ ক্রমাগত উপকৃত ও আশ্বস্তই হবে।

×