ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৬ জুন ২০২৪, ১৩ আষাঢ় ১৪৩১

ছুটির দিনে মার্কেটে  ক্রেতাদের ভিড়

​​​​​​​ইয়াহইয়া নকিব

প্রকাশিত: ২২:৫৮, ৩১ মার্চ ২০২৩

ছুটির দিনে মার্কেটে   ক্রেতাদের  ভিড়

ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়ে গেছে। তাই শুক্রবার ছুটির দিনে রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় ব্যাপক ভিড় ছিল

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে এবার পুরোদমে ব্যবসা করতে দোকান সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। আর কোন ধরনের বিধিনিষেধ না থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদের শপিং শুরু করেছেন ক্রেতারাও। তবে মাসের শেষ সময়ে অনেকে এখনো বেতন-বোনাস না পাওয়ায় বিক্রির পালে পুরোদমে হাওয়া লাগেনি বলছেন ব্যবসায়ীরা। আগামী সপ্তাহ থেকে বিক্রি আরও বাড়ার প্রত্যাশা তাদের। ছুটিরে দিনে শপিংমলগুলোতে  ক্রেতাদের আগমন বেড়েছে।

রাজধানীর মগবাজার-মালিবাগ এলাকায় সুলভ মূল্যের বেশ কিছু শপিংমল রয়েছে। এগুলোতে বরাবরের মতো ঈদ শপিং শুরু হয়েছে। তবে এখনো জমে ওঠেনি বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারা। এবার পোশাকের দাম কিছুটা বেশি। তা ছাড়া মূল্য¯ফীতির চাপ থাকায় খুব দরকষাকষি করে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। আর বিক্রি নিয়েও ব্যবসায়িদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পাঞ্জাবি এবং ছোটদের কাপড় বিক্রি শুরু হলেও এখনো নারীদের পোশাকের বিক্রি পুরোদমে শুরু হয়নি। রোজার ঈদের অন্যতম আকর্ষণ থাকে বাহারি ডিজাইনের নতুন পাঞ্জাবি। ছোট থেকে বড় সবার পাঞ্জাবিতে রঙিন হয়ে উঠে ঈদের আমেজ। তাই বছরের সবচেয়ে বেশি পাঞ্জাবি বিক্রি হয় এই ঈদেই। মগবাজারের আয়েশা মার্কেট দেশের অন্যতম বড় পাঞ্জাবীর বাজার। এখানকার সানিয়া নামের একটি দোকানের ব্যবসায়ী শান্তের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, বিক্রি মোটামুটি পর্যায়ের চলছে। তবে সামনের সপ্তাহ থেকে বিক্রি বেড়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

ঢাকার অন্যতম বিক্রয় কেন্দ্র মৌচাক মার্কেট। এখানে শোভন গার্মেন্টস নামের একটি দোকান রয়েছে মোয়াজ্জেম হোসেনের। ছুটির দিনে কিছুটা বিক্রি বাড়লেও ১৫ রোজার পর বিক্রি পুরোদমে শুরু হবে বলে জানান তিনি। আর রাজধানী ফেব্রিক্সের হৃদয় বলছেন. এখনো বিক্রি শুরু করতে পারেননি। এবার কাপড়ের দাম বেশি থাকলেও ক্রেতাদের বাজেট কম। ১৫শ টাকার কাপড় ১২শ টাকা বলে ক্রেতা চলে যাচ্ছেন। একই মার্কেটে শিশুদের কাপড় বিক্রি করেন তাফাজ্জল হোসেন। নুসরাত ফ্যাশনের ব্যবসায়ী জানান, এবার মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় কম। জিনিসের দাম বাড়ায় আগের মতো ঈদের আমেজ নেই বলেও মনে করছেন তিনি। দোকানে অতিরিক্ত কর্মচারী রাখলেও তারা অলস সময় পার করছেন।

এবার রোজায় মাত্র ১১ হাজার টাকার বাচ্চাদের পোশাক বিক্রি করছেন হুমায়ুন কবির। গুড গার্লস নামের দোকানের ব্যবসায়ী গতবার একই সময়ে ৫০-৬০ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি করেছেন বলে দাবি করেছেন। তবে ১৫ রোজার পর বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। এবার পোশাকের দাম বেশি হওয়ায় বিক্রিতে প্রভাব পড়ছে। এবার আগের চেয়ে বেশি দামে তাদের কাপড় কিনতে হয়েছে বলছেন তিনি।

সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সেন্টার পয়েন্টে গিয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। কালেকশন প্লাসের সুমন বলছেন, বিক্রি মোটামুটি হচ্ছে। তবে এবার দাম বাড়তি থাকায় -৩টি না কিনে মানুষ একটা কাপড় কিনছে। প্রতি পিস কাপড়ে -৩শ টাকা বেশি খরচ হয়েছে জানান তিনি। নিউইয়র্ক কালেকশনের আওসাফও একই কথা বলছেন। এখন মোটামুটি ধরনের বিক্রি হলেও ১৫ রোজার পর বিক্রি বাড়তে পারে। আর মানুষ পাঁচ পিসের বদলে দুই পিছ প্যান্ট কিনছে জানান তিনি।

কাপড়ের বিক্রি শুরু হলেও এখনো ব্যাগ বা অন্য সাজসজ্জা পণ্যের বিক্রি শুরু হয়নি। প্রজাপতি ব্যাগ হাউজের সোহাগ জানান, ১৫ রোজার পর ব্যাগের বিক্রি শুরু হবে। তবে গতবারের তুলনায় এবার বিক্রি কমেছে। শপিংমলের সামনে ফুটপাতে কাপড় বিক্রি করছেন মোস্তফা। বাইরের এসব দোকানেও জমে ওঠেনি বেচা-বিক্রি। গতবার এমন সময়ে আরও বেশি বিক্রি ছিল জানান তিনি।

ফরচুন শপিং সেন্টারের তুলনামূলক কম ভিড় দেখা গেছে। লেডিস ওয়ার্ল্ডের ব্যবসায়ী খোকন দেবনাথ জানান, গতবারের তুলনায় তিন ভাগের একভাগ বিক্রি হয়েছে। এখনই মেয়েদের থ্রিপিস বিক্রির সময়। কারণ ২৫ রোজর পর টেইলার্সে আর সিরিয়াল পাওয়া যাবে না। দামও এবার বেশি। ১৫শ টাকার কাপড় ১৭শ থেকে হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে। আর ক্যাটলগের কাপড় কিনতে হয়েছে গড়ে এক হাজার টাকা বেশি দিয়ে। মানুষ বাজারে বেশি দামে জিনিস কিনলেও কাপড়ের বাড়তি দামের বিষয়টি তাদের বোঝানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী।

এদিকে ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতারা যাতে প্রতারণার শিকার না হয়, সে জন্য এবার আগেভাগে নড়েচড়ে বসেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভোক্তার সঙ্গে কোনো ধরনের ছলচাতুরীর আশ্রয় নিলে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×