ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

মেডিক্যাল কোচিং সেন্টার স্থায়ী বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হবে ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৫:০৩, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬

মেডিক্যাল কোচিং সেন্টার স্থায়ী বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হবে ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ এমবিবিএস ও বিডিএস পরীক্ষা নিয়ে গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, সব সময় জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করি। গত বছর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলেও তা পরবর্তীতে গুজব ও ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়। এবারও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এমন ষড়যন্ত্র হতে পারে। তাই এবার বাড়তি কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা তদারকি করতে বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘ওভারসাইট কমিটি’। রয়েছে পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি ও মডারেটর। মেডিক্যাল কোচিং সেন্টারসমূহ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তীতে এসব সেন্টার স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ প্রমুখ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন সুযোগ নেই জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি থেকে মুক্ত থাকতেই এবার বাড়তি নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কাজ করলে সমস্যা আসবেই। তবে যে কোন কাজের জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করি। সামনে রয়েছে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা। সাধারণত সর্বোচ্চ পর্যায়ের মেধাবীরাই প্রাপ্ত মেধাক্রম অনুযায়ী মেডিক্যাল শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়ে থাকে। গত বছর মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছে একটি চক্র। পরবর্তীতে তা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই এবার ভর্তি পরীক্ষার অনেক আগেই এ ধরনের গুজব প্রতিরোধসহ মেডিক্যাল শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ভর্তি পরীক্ষা আরও যথাযথভাবে করার ক্ষেত্রে আপনাদের পরামর্শ কামনা করছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মেডিক্যাল শিক্ষায় সীমিত আসন সংখ্যার বিপরীত অনেক গুণ বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকে। ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর প্রাপ্তদের সংখ্যাও কলেজগুলোর আসনের তুলনায় অনেকগুণ বেশি থাকে। মেডিক্যাল শিক্ষার সঙ্গে প্রকৃত চিকিৎসক হওয়া এবং মানুষের সঠিক চিকিৎসা ও জীবন বাঁচানোর বিষয়টি জড়িত রয়েছে। তাই মেডিক্যাল শিক্ষা ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে কোন আপোস করা যাবে না। এ বিষয়ে কারও অন্যায় দাবি ও অনিয়ম সহ্য করা যাবে না। পরীক্ষার পদ্ধতি, প্রশ্নপত্র তৈরি এবং সেগুলো পরীক্ষা সেন্টারে পাঠানোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন সুযোগ নেই। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে পরীক্ষা সেন্টারসমূহে পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে শক্তিশালী নিরাপত্তাবলয় থাকে। কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ছাড়াও বিভিন্ন স্তরে বেশ কয়েকটি কমিটির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে পাঁচ প্রখ্যাত শিক্ষক থাকেন, যাদের পরিচয় বাইরের কেউ জানতে পারেন না। তাঁরা পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাইরের কারওা সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। আর সেখানে কর্মরত ৪ থেকে ৫ কর্মচারীকেও একই পরিবেশে থাকতে হয়। তাঁরা যেখানে থাকেন, কাজ করেন, সেই কক্ষটি সিসিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থাকে। বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো প্রশ্নপত্রের ট্রাংকের ভেতর স্থাপন করা হবে বিশেষ ট্রাকিং ডিভাইস। প্রশ্নপত্রের ট্রাংকে স্পর্শ পড়লেই সেই ডিভাইসটি সিগন্যাল দেবে। প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কক্ষ সর্বক্ষণিক সিসি টিভি দ্বারা মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এমন পরিবেশ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কথা ভাবাই যায় না। বাড়তি উদ্যোগ হিসেবে এবার ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা তদারকি করতে বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘ওভারসাইট কমিটি’। এক প্রখ্যাত শিক্ষাবিদকে করা হয়েছে মডারেটর। ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ বলেন, মেডিক্যাল শিক্ষা ও পরীক্ষা প্রশ্নবিদ্ধ করতে ষড়যন্ত্রকারীদের দুর্বল ভাবলে হবে না। যে কৌশল ও পদ্ধতিতে যারা প্রশ্নপত্র তৈরি করছেন, তাদের চেয়েও বেশি মেধাবী হলেন ষড়যন্ত্রকারীরা। তাই আমাদেরও নতুন নতুন পদ্ধতি নিয়ে চিন্তা করতে হবে। এইচএসসি পরীক্ষা ও মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার মধ্যকার সময় কমিয়ে আনা হলে কুচক্রী মহলের সদস্যরা ষড়যন্ত্র করতে বেশি সময় পাবে না। মেডিক্যাল ভর্তি কোচিং সেন্টার উঠিয়ে দেয়াসহ বিভিন্ন কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তি দেয়ার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা আনার দাবি জানান তৌফিক মারুফ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (মেডিক্যাল শিক্ষা) আব্দুর রশিদ বলেন, এবার মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এমবিবিএসের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৭ অক্টোবর ও বিডিএসের (ডেন্টাল) পরীক্ষা ৪ নবেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এবার মোট ৩৭ কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে। আবেদন করেছে ৯০ হাজার ৪২৬। গত বছর আবেদন করেছিল ৮৪ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী।