নিজের বলয়ে
তাহমিনা কোরাইশি
সম্পদ থই থই ভাদরের জলভরা নদী
হাত বাড়াই বুকের কোটরে
য²ের ধন রাখা যেখানে
নেই কিছু, কিছুই নেই
ভালোবাসা হয়ে ওঠে মরীচিকা
হৃদয়ের চারপাশে পদধ্বনি অনেকের
অথচ আমি একা, বড্ড একা।
জীবন ওষুধি কদলীবৃক্ষ; ফলেই যার আয়ু ক্ষয়-
দ্ব›েদ্ব কেটে যায় কেন পুরোটা সময়
ওপারে কি আশায় হাত বাড়াব?
নৌকা যে এখনও ঘাটে বাঁধা।
একা আসা, একা যাওয়া-এ আশ্রয় শিবিরে
একই গীত নিত্য গাওয়া একই আলো-আঁধারে
নিঃসঙ্গতায় ফালিফালি তন্তু হৃদয়ের
ঠাঁয় দাঁড়িয়ে তবু হৃদয় থেকে আত্মার দুয়ারে।
গুচ্ছ গুচ্ছ ফুলে শোভিত কানন, চারাগাছ বিলাসী জীবন
মিশে যাবে নশ্বর দেহ মায়াবতী মৃত্তিকায়
নিজের বলয়ে টানাপোড়েনের এমনই কালাকালে
সম্পর্কগুলো বীভৎস হয়ে ধরা দেয়
গড়মিল ছিল না নিজের নামতা পাঠে
হেরে গেছি; ফাঁদ পাতা নিয়তির নীড়ে!
** দেখা আর লেখা
আসিফ নূর
কবিতা দেখা সহজ, লেখা খুব কঠিন।
এই যে বাগানভরা বারোমাসি ফুলের মচ্ছব-
তাদের গন্ধের রং আমি দেখি, লিখতে পারি না।
অথবা চিরজাগরূক সাগরের শেষহীন কর্মজীবী ঢেউ-
এদের রঙের গন্ধ আমি পাই, বলতে পারি না।
পাহাড়ের মৌনতার গহিনে যে জাগরণী গান কিংবা
প্রচণ্ড কোলাহলের ভেতর নৈঃশব্দ্যের যে দীর্ঘশ্বাসগাথা-
এসবের অনেক কিছুই আমি বুঝি, বোঝাতে পারি না।
কবিতা লেখা খুব কঠিন, দেখা অনেক সহজ।
** শরৎরানী
কাব্য কবির
আকাশ তুমি আমাকে বলে দাও
শরৎরানী কোথায় লুকিয়ে আছে?
কাশবনে, ঘাসবনে, নাকি শুভ্র বকের ভিড়ে?
নাকি লুকিয়ে আছে মাঝির পালতোলা নৌকায়।
রূপালি চাঁদের ঝলমল জোছনায়।
আমি তাকে শয়নে দেখছি
তার রংবাহারি রূপ।
যখনি তাকে ছুঁতে গেলাম আর অমনি
হারিয়ে গেলো অজানায়।
তার খোঁপায় শিউলি ফুল
কাজল কালো আঁখি
ভোমর কালো চুল।
আমি তন্দ্রার ভেতর এঁকে রেখেছি তার
মায়াবী ছবি, আজও ভুলতে পারিনি তাকে।
** যদি রাতের নাম হয় সূর্যের অভিমান
নবনিতা রুমু সিদ্দিকা
যদি তুমি নিষেধের প্রাচীর ভেঙে ফেলো অকস্মাৎ আমূল উপড়ানো কোনো বৃক্ষের মতোন
যদি মিথ্যে সুখের নিষিদ্ধ ফল খেতে বারণ করো জীবনের মগ্নতা ঝেড়ে খুঁচিয়ে তোলো মাটির হৃদয়
তুষার শুভ্র কান্নায় মেঘ জমে এই গতিহীন পথে অকারণ হেমলক করোটিতে শ্বেত শবাধার আটকে যায়
যদি আমার আত্মমুগ্ধ আর নিরুদ্বিগ্ন নার্সিসাস সেই অন্তহীন রাত্রির দরজায় আমার কবিতার তরতাজা দেহ নিয়ে কাটাছেঁড়া হয় দুচোখের ঝিল মেরে আমিও স্বপ্নের ভেতর মরে যাবো দ্রাবিড় বিশ্বাসের ভালোবাসায় বি¯্রান্ত স্পর্শের প্রবারণা মন আমার বিষাদ রক্তের পালক ছিঁড়ে ছিঁড়ে স্বাধীনতা হারাবো
যদি কখনো অনিন্দিতা বুকের খাঁচায় অজানা আগুনপাখির বাসা বাঁধে নষ্ট সময় আমার অভুক্ত রোদ্রের ধ্রোধ অন্তর্লীন ছায়ার এপিটাফে মেঘের শূন্যতায় উড়ে যাবে বহুদূর...
যদি রাতের নাম হয় সূর্যের অভিমান
যদি অভিমানের বৈশাখে জোসনাভ‚ক আলোগুলো পাখি হয়
আমি নিষেধের ম্লান সেরে নেবো এই বুনো শরীরের ভাঁজে ভাঁজে।








