ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

কিভাবে পানি খেলে পাওয়া যাবে সবথেকে বেশি উপকার

প্রকাশিত: ২০:৫৭, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

কিভাবে পানি খেলে পাওয়া যাবে সবথেকে বেশি উপকার

পানি আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। কিন্তু শুধু পানি পান করলেই যথেষ্ট নয়, কীভাবে পানি পান করা হচ্ছে—সেটাও শরীরের সুস্থতার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে ‘পানি চিবিয়ে খাওয়া’ শব্দবন্ধটি। যদিও নাম শুনে মনে হতে পারে পানিকে সত্যিই চিবানোর কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে এর অর্থ হলো ধীরে ধীরে, ছোট চুমুকে মুখে কিছুক্ষণ রেখে পানি পান করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে ধীরে পানি পান করলে হজম ভালো হয়, গলার আরাম বজায় থাকে এবং শরীর দীর্ঘসময় হাইড্রেটেড থাকে।

সার্জন ডা. অর্চনা এস জানান, মুখে কিছুক্ষণ পানি রেখে পান করলে তা লালারসের সঙ্গে মিশে হজমকারক এনজাইমকে সক্রিয় করে এবং পাকস্থলীকে খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করে। বিপরীতে, হঠাৎ করে দ্রুত পানি গিলে ফেললে মুখ, গলা ও পাকস্থলীর স্বাভাবিক সমন্বয় ব্যাহত হয়, যা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

ডায়েটিশিয়ান কানিকা মালহোত্রা বলেন, পানিতে সরাসরি কোনো পুষ্টিগুণ না থাকলেও এটি লালা নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়, যা হজমতন্ত্রকে সক্রিয় করে। ফলে ধীরে পানি পান করলে খাবার দ্রুত ও সহজে হজম হয় এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা কমে।

ছোট চুমুকে পানি পান করলে লালা গলা ও ইসোফ্যাগাসে একটি স্বস্তিদায়ক আবরণ তৈরি করে। এতে গিলতে সুবিধা হয়, গলা কম জ্বলে এবং ঠান্ডা পানি হঠাৎ পান করলে যে তীব্র শীতলতার অনুভূতি হয়, তা অনেকটাই কমে যায়। ডা. অর্চনা আরও জানান, ধীরে পানি পান করলে গলা ও নাকের পেশিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে। ফলে কাশি হওয়া, চোকিং কিংবা ঠান্ডা পানি খেয়ে হঠাৎ নাক দিয়ে পানি পড়ার ঝুঁকি কমে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে ধীরে ধীরে পানি পান করলে শরীর দীর্ঘসময় হাইড্রেটেড থাকে। দ্রুত পানি পান করলে তা দ্রুতই মূত্র হিসেবে বেরিয়ে যায়, ফলে শরীর পুরোপুরি পানি শোষণ করতে পারে না। কিন্তু ছোট চুমুকে পানি পান করলে তা ধীরে ধীরে রক্তে শোষিত হয়। এতে শরীরের শক্তি বাড়ে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় থাকে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

যাদের এই অভ্যাসে বেশি উপকার হবে—

যারা খুব দ্রুত খাবার খান

পানি পান করলেই যাদের পেট ফুলে যায়

যাদের গলায় জ্বালা বা অস্বস্তি হয়

যারা নিয়মিত অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন


ধীরে পানি পান করলে মুখে থাকা খাবারের কণা পরিষ্কার হয়, গলার অস্বস্তি কমে এবং শরীর ও হজমতন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় থাকে। পর্যাপ্ত পানি শরীরের পুষ্টি পরিবহন, বর্জ্য অপসারণ এবং ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ব্যস্ত জীবনের মাঝেও ধীরে ও মনোযোগ দিয়ে পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে সুস্থ থাকার সহজ চাবিকাঠি।
 

মিমিয়া

×