মাত্র এক বছর আগে লোন্দা থেকে নমরহাট পর্যন্ত সড়কটির সংষ্কার করা হয়েছে। অন্তত টানা সাতটি বছর সড়কটিতে খানাখন্দে একাকার ছিল। পিচ ছিল না। দেবে গর্ত হয়ে মাটি বের হয়ে গিয়েছিল। অনেক কাঙ্খিত ছিল সড়কটির সংস্কার কাজ করার। মানুষ যেন স্বস্তি খুঁজে পেয়েছেন। কিন্তু এখন আবার সড়কটি নিয়ে এলাকার মানুষের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সড়কটির স্লোপের মাটি ধসে গেছে। পাকা অংশসহ দুই তিন ফুট ভেঙে গেছে। এমন অন্তত ৬০টি স্পটে এমন নতুন খানা-খন্দ তৈরি হয়েছে। এজিংসহ ধসে গেছে বহু স্পটে। কোথাও মাঝ বরাবর নষ্ট হয়ে গেছে। পিচ নষ্ট হয়ে গেছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ধানখালীর লোন্দা থেকে নমরহাট পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলজিইডি নির্মিত বেড়িবাঁধ সড়কটিতে ফের খানা-খন্দ শুরু হওয়ার কারণে মানুষ উৎকন্ঠা প্রকাশ করেছেন। সাতটি বছর সড়কটি ছিল যান চলাচলের অনুপযোগী। তাই নতুন ভোগান্তির শঙ্কায় পড়েছেন। অন্তত তিন গ্রামের মানুষ। শুক্রবার সরেজমিনে এসব দৃশ্য দেখা গেছে। মানুষের দাবি টুকিটাকি যে সমস্যা এখন হয়েছে তা দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন মো. ইব্রাহিম। তিনি বললেন, ‘অল্প ঢালাই দেছে। টাকা বাছাইছে। কাম ভালো করে নাই।’ আবার ভিন্নমত লুৎফর রহমানের। বললেন, ‘ ট্রলি হামজা চালাইয়া রাস্তা মেরামত করার আগেই ভাইঙ্গা দিছে। হামজায় রাস্তাঘাট সব ধ্বংস করছে।’ সাত বছর ধরে ভাঙা রাস্তাটি এখন আবার খারাপ হয়ে যাচ্ছে তাই এসব মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন।
একই দশা কলাপাড়া পৌরশহরের শেষপ্রান্ত ফিশারি অফিস থেকে বালিয়াতলী ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটির। গেল বছর সড়কটির সংষ্কার কাজ করা হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় স্লোপসহ (সোল্ডার) মেইন রাস্তা ধসে গেছে। কোথাও কোথাও দেবে গেছে। এই বর্ষার আগে ভাঙা অংশ রিপেয়ার না করলে সড়কটিতে খানাখন্দেও আশঙ্কা করছেন মানুষ।
বালিয়াতলী থেকে কুয়াকাটাগামী বিকল্প সড়কটিরও বহু অংশে স্লোপসহ রাস্তার সিলকোটসহ ধসে গেছে। মাত্র দেড় বছর আগে এই সড়কটিও সংষ্কার করা হয়েছে। রাস্তার পাশের বাসীন্দা বাদশা মিয়া ক্ষুব্ধ কন্ঠে জানালেন, হামজা ট্রলি চলাচল করায় রাস্তাটি ভেঙে গেছে। বিলে হামজা ট্রলি নামানো আর উঠানোর কারণে রাস্তা ভেঙে গেছে। এসব মানুষ এখনই জরুরি মেরামত করে ভাঙা অংশ ঠিক করার দাবি করেছেন। তাদের মতামত এখন অল্প টাকা ব্যয় করে মেরামত করা সম্ভব। পরে কোটি কোটি টাকা লাগবে। সকল মানুষের দাবি রাস্তাটি যান চলাচলের অনুপযোগী হওয়ার আগেই টুকটাক যতটুকু খারাপ হয়েছে তা জরুরিভাবে মেরামত করা দরকার।
ভাড়াটে মোটর সাইকেল চালক মধাব চন্দ্রের দাবি রাস্তা মেরামতের সময় দুই পাশের স্লোপে ঠিকমতো মাটি না দেওয়ায় রাস্তাগুলোর এইভাবে ভেঙে যাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো: মনিরুজ্জামান জানান, ঈদের পর থেকে যেসব রাস্তার স্লোপের কমবেশি সমস্যা হয়েছে তা মেরামত করা কাজ শুরু করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে এসব সড়ক জরুরিভাবে রক্ষণাবেক্ষণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মানুষের ভোগান্তি লাঘবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজু








