ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

ডিজেল সংকটে দিশেহারা‎ টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলের চাষিরা বোরো চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কা

‎‎শফিকুল ইসলাম শাহীন, নিজস্ব সংবাদদাতা ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল

প্রকাশিত: ১৮:০০, ১৫ মার্চ ২০২৬

ডিজেল সংকটে দিশেহারা‎ টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলের চাষিরা বোরো চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কা

‎টাঙ্গাইলের বিভিন্ন চরাঞ্চলে ডিজেল সংকটে সেচ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়ছে কৃষক। গত দুই সপ্তাহ যাবদ চরা দামে সামান্য সামান্য ডিজেল মিললেও গত পাঁচ দিন যাবৎ কোথাও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না।

‎এদিকে তেলের ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহন বিহীন কোন ব্যক্তিকে গেলন বা ড্রামে ডিজেল দিচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসনের পরামর্শ কৃষি অফিস থেকে টোকেন সংগ্রহ করে পাঁচ লিটার ডিজেল নিতে পারবে সেচ পাম মালিকরা। ‎কিন্তু ফিলিংস্টেশন কর্তৃপক্ষেও দাবি দু-তিন দিন পর পর সামান্য কিছু ডিজেল মিললেও তা দূরপাল্লার গাড়িগুলোর অর্ধেক গাড়িকে দিতে পারি। যা সর্বোচ্চ চার ঘন্টায় শেষ হয়ে যায়। 

‎চরবিহারি গ্রামের সেচ পাম্প মালিক জিয়াউর বলেন, আমাদের গ্রাম থেকে ভূঞাপুর শহর প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুরে। পায়ে হেটে ৮ কিলোমিটার গিয়ে নদী পার হয়ে যেতেই এক দুপুর চলে যায়। তাছাড়া কখন তেল আসে জানবো কি করে। আর এভাবে তেল সংগ্রহ করে মেশিন চালানো অসম্ভব। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি আমাদের সেচপাম্প চালানোর জন্য ডিজেলের বিশেষ ব্যবস্থা রাখার জন্য। 

‎এদিকে ইতোমধ্যেই অনেক শেষ পাম্পের আওতায় বোরো জমিতে কয়েকদিন যাবত পানি দিতে পারছে না ডিজেলের সংকটের কারণে। ফলে অধিকাংশ কৃষকের চিন্তার ভাঁজ পরেছে কপালে। সেচ মৌসুমের গুরুপূর্ণ সময়ে জ্বালানির অভাবে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

‎ভূঞাপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যসূত্রে জানা যায়, উপজেলায় বোরো চাষের জন্য ডিজেল চালিত সেচ পাম্পের সংখ্যা ৬১০টি। এসব সেচ পাম্পের আওতায় বোরো ধান অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ৫৫০ সেক্টর। এছাড়া ভুট্টা চাষে অগভীর নলকূপ রয়েছে ৪২৫টি। এতে অর্জিত হয়েছে ২ হাজার ২২০ হেক্টর। 

‎কৃষকরা জানান, সম্প্রতি ইরান ইসরাইল যুদ্ধের অজুহাতে বিভিন পেট্রোল পাম্প ঘুরেও সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতারা তীব্র সংকটের কথা বলে সরকার নির্ধারিত টাকার চেয়ে লিটার প্রতি ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি আদায় করছে। বর্তমানে বেশি দাম দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না।‎ আর এ অবস্থা চলতে থাকলে বোরো চাষে বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। 

‎‎‎‎উপজেলার রাজাপুর গ্রামের সেচ পাম্প মালিক রজব আলী বলেন, ‘ভূঞাপুরের সব কয়টি তেল পাম্পে ঘুরেও ডিজেল পাইনি। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় এক খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে প্রতি লিটার ১৫০ টাকায় কিনেছি ৫ লিটার কিনেছি।’

‎‎আরো বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, বুধবার থেকে স্থানীয় বাজারের সব খুচরা দোকানে ঘুরেও এক লিটার ডিজেল সংগ্রহ করতে পারিনি।

‎‎উপজেলার বেলটিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক বাদল বলেন, ‘আমার বোরো ধানের জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। বেশি দাম দিয়েও তেল পাচ্ছি না। অন্যদিকে জ্বালানির দাম বাড়ায় সেচ খরচও অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ফলে অন্য বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হবে।

‎‎ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: মোকলেছুর রহমানকে জালানি তেলে সংকট আরো তীব্র হলে কৃষকদের কি পরামর্শ দিবেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন সেচের বিষয়টি বিএডিসি ভালো পরামর্শ দিতে পারবে।

 

রাজু

×