নাটোরের বড়াইগ্রামে কৃষক মোবারক হোসেন (৪০) হত্যা মামলায় নারীসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও তিন বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত–৪ এর বিচারক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন আসামিদের উপস্থিতিতেই এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বড়াইগ্রাম উপজেলার ইকোরি গ্রামের আঃ বারির ছেলে আসাদুল ইসলাম (৩৫), গুরুদাসপুর উপজেলার সোনাবাজু গ্রামের ইয়ারুল প্রামানিকের ছেলে রশিদ প্রামানিক (৪২), একই এলাকার কাঁচুর খাঁর স্ত্রী আরিফা খাতুন (৩০) এবং জিয়াউর রহমানের ছেলে জিহাদ আলী (৩৪)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রুহুল আমীন তালুকদার টগর জানান, ২০২০ সালের ১৫ জুন বিকেলে বড়াইগ্রাম উপজেলার ইকোরি গ্রামের বেড়ী বিল এলাকায় একটি পাটক্ষেতের আইলে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মোবারক হোসেনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় পরদিন নিহতের স্ত্রী রানী বেগম বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বড়াইগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক রবিউল ইসলাম ঘটনার সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসাদুল ইসলাম, রশিদ প্রামানিক, আরিফা খাতুন ও জিহাদ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা পরকীয়াজনিত বিরোধের জেরে মোবারক হোসেনকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করলে পুলিশ তাদের আদালতে সোপর্দ করে।
মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের ওই কৌঁসুলি।
রাজু








