ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

এবার যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন ট্রাম্প

প্রকাশিত: ১৪:৪৮, ১৩ মার্চ ২০২৬

এবার যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ইরান ইস্যু নিয়ে হোয়াইট হাউসের অন্দরমহলে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টারা মেতেছেন এক জটিল রেষারেষিতে। প্রশ্ন উঠেছে—কখন ও কীভাবে এই যুদ্ধে ‘বিজয়’ ঘোষণা করে বের হওয়া উচিত? ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এই সামরিক অভিযান এখন ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ট্রাম্পের উপদেষ্টারা এখন তিনটি স্পষ্ট ব্লকে বিভক্ত। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের ফলে তেলের দাম অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়লে মার্কিন বাজারে আগুন লাগবে, যার চড়া রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে ট্রাম্পকে। চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসও ট্রাম্পকে পরামর্শ দিচ্ছেন অভিযানের লক্ষ্য সীমিত করে দ্রুত ‘বিজয়’ ঘোষণা করতে।

বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছেন লিন্ডসে গ্রাহাম ও টম কটনের মতো কট্টরপন্থী রিপাবলিকানরা। তাঁদের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখতে এবং মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার বদলা নিতে সামরিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। এর বাইরে স্টিভ ব্যানন ও টাকার কার্লসনের মতো জনতুষ্টিবাদী সমর্থকরা ট্রাম্পকে সাবধান করছেন, যেন তিনি মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি ‘অন্তহীন যুদ্ধে’ (Forever War) জড়িয়ে না পড়েন।

অভ্যন্তরীণ এই টানাপোড়েনের প্রভাব পড়ছে খোদ প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে। গত বুধবার কেন্টাকিতে এক সভায় ট্রাম্প একদিকে দাবি করেন, ‘আমরা জিতেছি’, আবার পরক্ষণেই বলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।’ এই পরিবর্তনশীল বার্তার কারণে বিশ্ব তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা জানান, প্রেসিডেন্ট মূলত তিন পক্ষকেই খুশি রাখতে চাইছেন—কট্টরপন্থীদের বলছেন অভিযান চলবে, বাজারকে বোঝাচ্ছেন যুদ্ধ দ্রুত থামবে, আর সমর্থকদের বলছেন উত্তেজনা বাড়বে না।

রয়টার্স বলছে, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় এক ঝটিকা অভিযানে নিকোলা মাদুরোকে বন্দি করার সাফল্য দেখে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা ভেবেছিলেন ইরান যুদ্ধও তেমন সহজ হবে। কিন্তু বাস্তবে ইরান অনেক বেশি সুসজ্জিত প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। যদিও মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ২ হাজার ইরানি এবং অনেক শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন, তবুও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং তেলের চড়া দাম আমেরিকার সামরিক সাফল্যকে ম্লান করে দিচ্ছে।

যুদ্ধের গতিপথ এখন হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভর করছে, যেখান দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়। ইরানের নতুন নেতা মোজতবা খামেনি এই পথ বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যদি তেলের দাম আরও বাড়ে, তবে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের ভরাডুবির আশঙ্কায় ট্রাম্পের ওপর যুদ্ধ বন্ধের চাপ আরও তীব্র হবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বিষয়টিকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিলেও, পর্দার আড়ালে যে চরম অস্থিরতা চলছে তা এখন স্পষ্ট।

এফএ

×