ছবি: দৈনিক জনকণ্ঠ।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার চরগোলক নগর গ্রামে ভিজিএফ কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও যুবদলের দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় রাত ১১টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে চরগোলক নগর গ্রামে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সায়েম মন্ডলের কাছে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে কথা বলতে যান যুবদল নেতা শামীম। এ সময় শামীম তার সমর্থকদের জন্য কিছু কার্ড দাবি করলে বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। শামীমের অভিযোগ, ওই সময় সায়েম মন্ডলের লোকজন তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে খুঁজতে থাকে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে সায়েম মন্ডলের সমর্থকরা শামীমের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৬০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হিমশিম খেলে পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
যুবদল নেতা শামীম অভিযোগ করে বলেন, ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে সায়েম মন্ডলের কাছে অনেকগুলো ভিজিএফ কার্ড ছিল। আমি আমার কিছু সমর্থকের জন্য কার্ড চাইলে তিনি আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং তার লোকজন আমাকে হুমকি দেয়। সমঝোতা বৈঠকের নামে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সায়েম মন্ডল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী কার্ড বণ্টন করেছি। শামীম যুবদল করে, সে আমার সঙ্গে মূল দল বিএনপি করে না, তাই তাকে কার্ড দেওয়া হয়নি।
এদিকে সরকারি ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে দুই নেতার এই বিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় দরিদ্র মানুষের অভিযোগ, প্রভাবশালী নেতা ও মাতব্বরদের খামখেয়ালিপনার কারণে প্রকৃত গরিবরা কার্ড পাচ্ছেন না। তালিকায় রাখা হচ্ছে শুধুমাত্র নেতাদের পছন্দের লোকজনকে।
শৈলকুপা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাকিল আহমেদ জানান, এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এম.কে








