মাদারীপুরে আধিপত্য নিয়ে দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে সংঘাত। দিনের পাশাপাশি রাতেও টর্চ লাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে জাড়াচ্ছে দুটিপক্ষ। এতে হচ্ছে প্রাণহানি। ভাংচুর ও লুটপাট করে জ্বালিয়ে দেয়া হয় প্রতিপক্ষের বসতঘর।
এমন ঘটনা হরহামেশা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘটলেও অনেকটাই অসহায় প্রশাসন। এতে ক্ষুব্ধ আইন বিশেষজ্ঞরা।
যদিও পুলিশের দাবি, প্রতিরোধে সর্বদাই কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারা।
জানা গেছে, শহরের কোলঘেসে গড়ে উঠেছে সদর উপজেলার ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রাম। এই গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ কৃষিকাজ করেন, আর বড় একটি অংশ প্রবাসী। দিনের বেলায় গ্রামটি শান্ত থাকলেও রাত হলেই হয়ে ওঠে ভয়ংকর আতঙ্কের জনপদ। টর্চ লাইট জ্বালিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষে লিপ্ত হয় দু'পক্ষ। বিপুল পরিমাণ হাতবোমা বিস্ফোরণ, ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এলাকার আধিপত্য নিয়ে গত একবছরে মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার ও হাসান মুন্সির বিরোধকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের দুইজনের প্রাণহানী হয়েছে। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিপক্ষের বহু ঘরবাড়ি। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। শুধু নতুন মাদারীপুর গ্রাম’ই নয়, জেলার মোস্তফাপুর, বালিয়া, সিকি নওহাটা, খাতিয়াল গ্রামসহ শহরের বটতলা, আমিরাবাদ, বাদামতলায় একাধিক এলাকায় দিনের আলো ছাড়াও রাতে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দু'পক্ষ। এ যেন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। পরিস্থিতি থামাতে অনেকটাই হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। একাধিক হত্যাকান্ড আর ধ্বংস যজ্ঞে পুলিশের ভুমিকায় ক্ষুব্ধ আইনজ্ঞরা।
এ নিয়ে পুলিশ বলছে, এলাকার শক্তি প্রদর্শনেই বার বার ঘটছে এই সংঘাত। প্রতিরোধে নেয়া হচ্ছে আইনী ব্যবস্থা।
জানা গেছে, কখনও তুচ্ছ ঘটনা, আবার কখনও এলাকার আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে দুটিপক্ষ। দিনে নয়, রাতের এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সংঘর্ষের জায়গা হিসেবে বেছে নেয়া হয় খোলা মাঠ কিংবা ফসলি জমি। গত এক বছরে এমন হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে অর্ধশত। হয়েছে একাধিক হত্যাকান্ড। এসব ঘটনায় হাতেগোনা কয়েকটি হামলা হলেও মূল অপরাধীরা রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
নাম না প্রকাশে একাধিক ব্যক্তি জানায়, এলাকার আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্থ সাধারণ মানুষ। যারা সংঘর্ষে জড়ায় তারা মুহুর্তেই পালিয়ে যায়। অথচ, পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট করে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রায়ই এমন ঘটনায় এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এটি বন্ধে পুলিশ, প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে দাবী জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।
মাদারীপুর আদালতের সিনিয়র আইনজীবি ও অতিরিক্ত জিপি অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান বলেন, ‘মাদারীপুরের পুলিশ ও প্রশাসন উভয়ই ঝিমিয়ে পড়েছে। তা না হলে একটি হত্যাকান্ডের পর বার বার এমন সহিংসতা হতে পারে না। পুলিশের এক্ষেত্রে অলস ভুমিকা দেখা যায়। তারা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনেও আনে। তবে, এই চক্রের সদস্যরা তাদের ক্ষমতা কিংবা শক্তি দেখাতে প্রায়ই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসব ঘটনায় মামলা হলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় কাজ করছে প্রশাসন।’
রাজু








