ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও এতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক লাভ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রও উল্লেখযোগ্য অর্থ উপার্জন করতে পারে। তবে তিনি একই সঙ্গে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকে। তার মতে, দেশের জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতার কারণেই এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সুবিধা পেতে পারে।
তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর সমালোচনাও শুরু হয়েছে। মার্কিন সিনেটর মার্ক কেলি বলেন, ইরানকে ঘিরে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে সাধারণ কর্মজীবী আমেরিকানরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তার ভাষ্য, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে, অথচ এতে মূলত বড় তেল কোম্পানিগুলোই লাভবান হচ্ছে।
সম্ভাব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবেও আলোচনায় থাকা কেলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন, ট্রাম্পের অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে তিনি কেবল ধনী শ্রেণির স্বার্থ নিয়েই চিন্তা করেন। একই ধরনের সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটিক দলের আরও কয়েকজন আইনপ্রণেতা, যার মধ্যে উইসকনসিনের মার্ক পোকান ও ভার্জিনিয়ার ডন বেয়ার উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনাকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম সাময়িকভাবে বাড়লেও যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হলে বাজার আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট মূলত বোঝাতে চেয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল ও গ্যাস উৎপাদক এবং বড় রপ্তানিকারক দেশ। এটি বর্তমান প্রশাসনের শক্তিশালী জ্বালানি নীতিরই ফল বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ইরাকের একটি বন্দরে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লেগে পুড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে ইরানের সম্পৃক্ততার সন্দেহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ আটকে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে।
এ.এইচ








