ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০

গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে বেশিরভাগ ইসরাইলি

জনমত জরিপ

প্রকাশিত: ২১:০৩, ২ ডিসেম্বর ২০২৩

গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে বেশিরভাগ ইসরাইলি

যুদ্ধবিরতির সময় যেসব ফিলিস্তিনি গাজায় ফিরে এসেছিল তারা আবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাচ্ছে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন ৫৪ শতাংশ ইসরাইলি। অতি সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে এই তথ্য। ৭ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষে শুক্রবার গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বিমান ও স্থলবাহিনী দ্বিতীয় দফা অভিযান শুরু করার পর তাৎক্ষণিক এক জনমত জরিপ চালায় ইসরাইলের থিঙ্কট্যাংক সংস্থা লাজার ইনস্টিটিউট।
 জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, হামাসের হাতে থাকা জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি অব্যাহত দেখতে চান ৫৪ শতাংশ ইসরাইলি। অন্যদিকে উপত্যকায় ইসরাইলি অভিযান জারি রাখার মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্তির পক্ষে রয়েছেন ইসরাইলের ২৫ শতাংশ নাগরিক। বাকি ২১ শতাংশ ইসরাইলি এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। শুক্রবার বিকেলে জরিপের ফল প্রকাশ করেছে ইসরাইলি দৈনিক মারিভ।গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলার পর জিম্মি-বন্দি বিনিময় এবং গাজায় মানবিক ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ দিতে ২৫ নভেম্বর সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে ইসরাইল এবং গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস। সেই বিরতি শেষ হয় শুক্রবার ভোরে উপত্যকায় ইসরাইলি বিমান ও স্থলবাহিনীর অভিযান শুরুর মধ্যে দিয়ে। ২য় দফা অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত গাজায় নিহত হয়েছেন ১৭৮ জন ফিলিস্তিনি।
শুক্রবার ভোরের দিকে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হিলোটের বাসিন্দারা সাইরেনের শব্দে জেগে ওঠেন। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, গাজা থেকে রকেট ছোড়া হয়েছিল এবং ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই রকেট আঘাত হানার আগেই তা ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
এই ঘটনার পর এক তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে গাজায় ফের অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয় আইডিএফ। গাজার হামাস নেতৃত্বাধীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উপত্যকার অন্তত ১০০টি স্থানে গোলাবর্ষণ করেছে ইসরাইলি বিমানবাহিনী।
গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা ইসরাইলের ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালানোর পর ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বিমান বাহিনী। পরে ১৬ অক্টোবর থেকে অভিযানে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও।

ইসরাইলি বাহিনীর টানা দেড় মাসের অভিযানে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা, নিহত হয়েছেন ১৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। নিহত এই ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। অন্যদিকে, হামাস যোদ্ধাদের হামলায় ইসরাইলে নিহত হয়েছিলেন ১ হাজার ২০০ জন ইসরাইলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিক।-আনাদোলু এজেন্সি

×