ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০২ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০

শিক্ষিকার প্রেমে ঘর ছাড়লেন ছাত্রী

প্রকাশিত: ২১:৪৪, ৫ জুলাই ২০২৩

শিক্ষিকার প্রেমে ঘর ছাড়লেন ছাত্রী

দুই পরিবার থেকেই আন্দোলন করা হয়। 

রাজস্থানের বিকানির থেকে গত ৩০ জুন নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন দুই তরুণী। তাদের একজনের বয়স ১৭ বছর ও অপরজনের বয়স ২০ বছর। ১৭ বছর বয়সী ওই তরুণী শহরের একটি বেসরকারি স্কুলের দ্বাদশ শেণির ছাত্রী। অন্যদিকে ২০ বছর বয়সী অপর তরুণী ওই স্কুলেরই প্রাক্তন শিক্ষিকা।

এদিকে, তাদের এই আচমকা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রহস্য দানা বাঁধে। ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরীর পরিবারের দাবি, ওই শিক্ষিকা ও তার পরিবার তাদের মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে রয়েছে। তবে তাদের এই নিখোঁজ হওয়ার পরে শোরগোল ফেলে দিয়েছে একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। তারা আবার গোটা বিষয়টিকে লাভ জেহাদের সঙ্গে তুলনা করছেন। তাদের দাবি, ১৭ বছর বয়সী ওই নাবালিকা হিন্দু ধর্মের। অন্য়দিকে ওই শিক্ষিকা মুসলিম ধর্মের। সেক্ষেত্রে ভুল বুঝিয়ে হিন্দু ধর্মের ওই নাবালিকাকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে ওই মুসলিম শিক্ষিকা।

এনিয়ে একটি ভিডিও মেসেজ সামনে এসেছে। সেই মেসেজে তারা স্বীকার করছে যে তারা হলো সমকামী। একে অপরের প্রতি তাদের ভালোবাসা রয়েছে। গত ১ জুলাই বিকানীরের পুলিশ স্টেশনে ওই নাবালিকার পরিবারের তরফে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল জোর করে তাদের মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে।

সেই ভিডিও বার্তায় বলা হয়েছিল, ‘আমরা এটা বুঝতে পারছি যে পরিবারের তরফে বলা হচ্ছে যে আমাকে অপহরণ করা হয়েছে। কিন্তু আসল বিষয়টি হলো আমরা আমাদের নিজেদের ইচ্ছায় ঘর ছেড়েছি। কারণ, আমাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। আমরা এক সঙ্গে ঘর করতে চাই। আমরা দুজনেই সমকামী। সেকারণে অন্য কোনো পুরুষকে বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’

ভিডিও বার্তায় পরিবারের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন ওই কিশোরী। সে জানিয়েছে, আমাদের মধ্য়ে কাউকে একজনকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিতে পারে পরিবারের লোকজন। সে কারণে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছি।

সেই ভিডিও বার্তায় আরো জানানো হয়, পরিবারের চাপ থেকে বাঁচতে আমরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছি। কারণ, আমরা লেসবিয়ান। আমি নিজের ইচ্ছায় ওর সঙ্গে ঘর ছাড়ছি। সে আমাকে চাপ দেয়নি। এই ভিডিও করার জন্যও বলেনি। তবে এ নিয়ে যাতে কোনো ভুলবোঝাবুঝি না থাকে, সে কারণেই এই ভিডিও।

এম হাসান

সম্পর্কিত বিষয়:

×