ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

সরকারী জমি বিক্রয়ে নথিতে ঘষামাজা থেকে যার সূত্রপাত

দুর্নীতির অভিযোগ ॥ আবের পক্ষে পার্লামেন্টে সাফাই

প্রকাশিত: ০৬:৩০, ২৮ মার্চ ২০১৮

দুর্নীতির অভিযোগ ॥ আবের পক্ষে পার্লামেন্টে সাফাই

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজে আবের সরকারী জমি বিক্রি সংক্রান্ত কেলেঙ্কারি নিয়ে সংশ্লিষ্ট এক উর্ধতন কর্মকর্তা মঙ্গলবার পার্লামেন্টে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, জমির দলিল জাল করার পেছনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কোনভাবেই জড়িত নয়। উল্লেখ্য, এই জমি বিক্রয় কেলেঙ্কারির ঘটনায় আবের জনপ্রিয়তা দারুণভাবে ক্ষুণœ হয়েছে। -এএফপি। পার্লামেন্টে সাক্ষ্য দানকালে কর্মকর্তা নবুহিসা সাগাওয়া (৬০) সাক্ষ্য গ্রহণ সেদেশের জাতীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। দৃশ্যত, প্রধানমন্ত্রী আবেকে চাপমুক্ত রাখার লক্ষ্যেই সাগাওয়া বলেন, বিতর্কিত ভূমির বিক্রি সংক্রান্ত মূল দলিলে যে পরিবর্তন ও ঘষামাজা হয়েছে তাতে তার কার্যালয়ের হাত রয়েছে এবং বিষয়টি যেহেতু অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত তাই আমরা এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বাইরে কোথাও কাউকে জানাইনিÑ প্রধানমন্ত্রীর দফতর তো নয়ই। সাগাওয়া আরও বলেন প্রধানমন্ত্রী আবে অথবা তার কেবিনেট সচিব অথবা অর্থমন্ত্রী কেউ খাস জমি বিক্রয় সংক্রান্ত উল্লিখিত দলিলে কোন ধরনের পরিবর্তন বা ঘষামাজা করতে বলেননি। নতুন এক জনমত জরীপে আবে সরকারের প্রতি জনসমর্থন দুই অঙ্কের ঘরে হ্রাস পাওয়ায় বিরোধী পক্ষ তাকে পদত্যাদের আহ্বান জানানোর মধ্যে সাগাওয়ার এই সাক্ষদান অনুষ্ঠিত হলো। পালাঁমেন্টে সাক্ষ্যদানের সময় সাগাওয়া কখন ও কীভাবে এসব দলিলে পরিবর্তন সাধন করা হয় তা নিয়ে বিস্তারিত জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়টি এখন অপরাধ মামলায় তদন্তাধীন আছে। ফৌজদারী মামলার দোহাই দিয়ে প্রশ্নের জবাব না দেয়ায় জাপানী পার্লামেন্টের সদস্যরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিরোধীদলীয় সদস্যরা সাগাওয়ার এই সাক্ষ্যদানকে সময়ের অপচয় বলে নাকচ করে দেন। কোন কোন সদস্য এটিকে নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করেন। জাপানী কম্যুনিস্ট পার্টি থেকে নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্য আকিরা কোইকে বলেন, তাকে জিজ্ঞাসা করার মতো আর কোন প্রশ্ন আমাদের নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাগাওয়াকে দিয়ে পার্লামেন্টে সাক্ষ্য দেওয়ানোর মাধ্যমে আবে এখনও সঙ্কটমুক্ত হতে পারেননি। বিশ্লেষক ইয়োশিনোবু ইয়ামামোতু বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আগামী দিনে আবে সরকারের সঙ্কট আরও বাড়বে, কারণ জনগণ বিশ্বাস করে না যে, সমস্যা এখানেই শেষ হয়ে গেছে। তবে, আবেকে এখনই পদত্যাগের জন্য চাপ দেয়ার মতো সময় এখনও আসেনি। যে আলোচিত জমি নিয়ে এত কা-Ñসে জমিটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি ভূমি-যা একটি স্কুল কর্তৃপক্ষকে বাজার মূল্য থেকে অনেক কম দামে দেয়া হয়েছে। এই স্কুলের মালিকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবে ও তার স্ত্রী আকি’র সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। এই সঙ্কট আরও ঘণীভূত হয় যখন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি স্বীকার করে নেয়া হয় যে, প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রী তারো আসোর প্রভাবে জমি বিক্রির সরকারী নথিপত্রে ঘষামজা করে পরিবর্তন করা হয়েছিল। জমি বিক্রির এ ঘটনায় আবে বারবার ক্ষমা প্রার্থনা করেন- তবে এতে তার কোন হাত ছিল না বলে নিজের সাফাই গান। সেই সঙ্গে তিনি বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দেন। বিরোধী দল বলেছে, অপরাধ চক্রে যেহেতু আবে পতœী আকি’র নামও আছেÑতাই তাকেও পার্লামেন্টে জবাবদিহি করতে হবে। কিন্ত প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাসীন দল তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ইতোমধ্যে, এই জমি বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা তদন্ত সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে অথবা আত্মগ্লানির দরুন আত্মহত্যা করেন। যা তদন্তে এক মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দেয় এবং সেই সঙ্গে ঘটনার সারবত্তা সম্পর্কে সবাই নিশ্চিত হয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে চলতি মাসে এক জনমত জরীপে দেখা গেছে আবের জনসমর্থন ১৪ শতাংশ কমে ৪২ শতাংশে ঠেকেছে। সোমবার ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত দৈনিক নিক্কেই-তে এক জনমত সংক্রান্ত জরীপের ফলাফলে বলা হয়েছে যে, এখন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জনমত ৪৯ শতাংশ। অন্যদিকে আশাহি টিভি চ্যানেলের জরীপে আবের প্রতি সমর্থন ১১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে বর্তমানে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে। এমতাবস্থায়, আগামী সেপ্টেম্বরে শিন জো আবে তার দলীয় প্রধানের পদ ধরে রাখতে পারবেন কী না তা নিয়ে ঘোরতর সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।