ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০

এলএনজি ও সার সংগ্রহে জোর

নেপাল থেকে ৪০ মে.ও জলবিদ্যুৎ আমদানি হবে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৪৬, ৬ ডিসেম্বর ২০২৩

নেপাল থেকে ৪০ মে.ও জলবিদ্যুৎ আমদানি হবে

ভারতের জাতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানি করা হবে

ভারতের জাতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) এ বিদ্যুৎ আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ ছাড়া সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ৯ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৭ ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এলএনজি, সার ও ভোজ্যতেল আমদানিতে জোর দিয়েছে সরকার। বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে জলবিদ্যুৎ আমদানির এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানির নীতিগত অনুমোদন  দেওয়া হয়। 
জানা গেছে, নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করতে বছরে ব্যয় হবে ১৩০ কোটি টাকা। এই বিদ্যুৎ আসতে  ভেড়ামারার এইচভিডিসি সাব-স্টেশন ব্যবহার করা হবে। ভেড়ামারার এইচভিডিসি সাব-স্টেশনের এক হাজার  মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে বর্তমানে এ সাব-স্টেশনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৯৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে। বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে গত মে মাসে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে একটি চুক্তি করা  হয়েছিল। 
৯ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৭ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন ॥ এলএনজি, সার ও ভোজ্যতেলসহ ১৭টি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৯ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। ক্রয় প্রস্তাবে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫টি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ৫টি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৩টি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ২টি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ১টি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারের মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সক্ষমতা হবে ৬০০ এমএমসিএফ (মিলিয়ন কিউবিক ফুট)। এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে টার্মিনাল কোম্পানিকে রিগ্যাস চার্জ বাবদ প্রতিদিন ৩ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা (ট্যাক্স ভ্যাট বাদে) দিতে হবে।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের প্রথম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সুইজারল্যান্ড থেকে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুইজারল্যন্ডের একটি কোম্পানি থেকে এক কার্গো বা ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সাঈদ মাহবুব খান জানান, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অধীন  পেট্রোবাংলাকে (২০২৪ সালের প্রথম) এলএনজি সুইজারল্যান্ডের টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এতে  মোট ব্যয় হবে ৬৯১ কোটি ৭৩ লাখ ২০৮ টাকা। রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় মরক্কো, সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২ লাখ টন সার কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ১৮৩ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার ৬৫০ টাকা। এ ছাড়া রুমানিয়া থেকে দুই কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে প্রায় ১৫৫ টাকা। টিসিবির মাধ্যমে বিক্রির লক্ষ্যে এ তেল কেনা হবে।

×