ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২০ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

শিমুলের সৌন্দর্যে নতুন সাজে সেজেছে প্রকৃতি

আর এম সেলিম শাহী, ঝিনাইগাতী, শেরপুর 

প্রকাশিত: ১৭:২০, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

শিমুলের সৌন্দর্যে নতুন সাজে সেজেছে প্রকৃতি

থোকায় থোকায় শিমুল ফুল। ছবি: জনকণ্ঠ

পাতা ঝরার গান আর কোকিলের কুহুতান। শুরু হয়েছিল আরও কিছুদিন আগে। এবার সরে গেল শীতের চাদরখানি। চারিদিকে আলো ছড়াচ্ছে রৌদ্রোজ্জ্বল দিন। বাতাসে ভাসছে আনন্দ আভা।

এমন দিনে ভালোবাসার ডাক শুনে জেগে উঠেছে মনপ্রাণ। প্রকৃতি একাকার হবে জাগরণে। শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ঋতুরাজ বসন্তের শুরু লগ্নেই গ্রাম বাংলার প্রকৃতিতে রাঙিয়ে ফুটছে শিমুল ও পলাশ ফুল। নানা ছন্দে কবি সাহিত্যিকদের লেখার খোরাক যোগায় রক্ত লাল এই শিমুল ফুল। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার মাজার রোডের পাশের কালী মন্দিরের চারিপাশে দেখা মিলল কয়েকটি ফুটন্ত ফুলের রক্ত লাল পলাশ-শিমুল গাছ। অন্যদিকে ঋতুরাজ বসন্তে এখন আর হরহামেশাই চোখে পরে না রক্ত লাল শিমুল গাছ। 

উপজেলার দিঘিরপাড়, ভারুয়া, মানিক কুড়া, হলদীগ্রাম গারোকোনা, সন্ধ্যাকুড়া, ফাকরা বাদ, কুশাইকুড়া, রাংটিয়া, শালচুড়া, ডেফলাই স্কুল মাঠ, গান্ধীগাও, বাকাকুড়া, দুধনই, ধানশাইল, বাগেরভিটা ও নলকুড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গুটি কয়েক শিমুল গাছে ফুল দেখা গেলেও বর্তমানে কালের বিবর্তনে গ্রাম বাংলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে শিমুল ফুল।গাছে গাছে সবুজ পাতা, মুকুল আর ফুল আর কোকিলের ডাক মনে করিয়ে দেয় বসন্তের আগমনী বার্তা। আম কাঁঠালসহ, লিচু লেবু ও বিভিন্ন গাছের পাতা ও মুকুল দেখে বোঝা যায় শীত বিদায় নিয়ে আবার এলো ফাল্গুন, এলো বসন্ত। কিন্তু কালের বিবর্তনে গ্রাম বাংলার প্রকৃতি থেকে এখন বিলুপ্তির পথে শিমুল গাছ। তাই আগের মতো খুব একটা চোখে পরে না ফাল্গুনের রক্তে রাঙানো রক্ত লাল শিমুল।

গ্রামে শিমুল গাছ ঔষধি গাছ হিসেবেও পরিচিত। গ্রামাঞ্চলের মানুষ বিষফোঁড়া, আখের গুড় তৈরিতে শিমুলের রস ও কোষ্ট কাঠিন্য নিরাময়ে গাছের মূল কে ব্যবহার করতো। কিন্তু নানা কারণে তা হ্রাস পেয়েছে।

এখন আর শিমুল গাছ কেউ রোপণ করে না। শিমুল গাছ এমনিতেই জন্মায় তা দিনদিনে বড় হয়ে একদিন বিশাল আকৃতি ধারণ করে। বসন্তে শিমুল গাছে রক্ত কবরী লাল রক্তে ফোটে তোলে, দৃষ্টি কেড়ে নেয় সবার মন। কিছু দিন পরে রক্ত লাল থেকে সাদা ধুসর হয়ে তুলার তৈরি হয়। গ্রামবাংলার এই শিমুল গাছ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনে দিতো।

এসআর

×