ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১

ধর্ষণ মামলা

বিয়ে ছাড়াই এক রুমে থাকতেন লায়লা-মামুন

প্রকাশিত: ১২:২২, ১১ জুন ২০২৪

বিয়ে ছাড়াই এক রুমে থাকতেন লায়লা-মামুন

লায়লা-মামুন 

বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে কন্টেন্ট বানিয়ে বরাবরই আলোচনায় ছিলেন প্রিন্স মামুন ও লায়লা। অসম প্রেম নিয়েও দেশজুড়ে বেশ আলোচনায় ছিলেন তারা। কিন্তু হঠাৎই ঘটে ছন্দপতন। মদ্যপানে যেতে বাধা দেওয়ায় লায়লাকে মারধরের অভিযোগ উঠে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে।

২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি প্রিন্স মামুন তার মাকে সঙ্গে নিয়ে লায়লার বাসায় গিয়ে বসবাস করতে থাকেন। বিয়ে না হলেও ওইদিন থেকে মামুন ও লায়লা থাকতেন একই রুমে। জানা যায়, লায়লাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে একাধিকবার তার সঙ্গে শারীরিক সর্ম্পক গড়েন মামুন। লায়লা বিয়ের বিষয়ে বললে মামুন ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে বাসা থেকে চলে যান।

এ ঘটনায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে রবিবার (৯ জুলাই) প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করেন লায়লা। আদালত মামলার এজহার গ্রহণ করে ৩ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। মামলার এজাহারেই উঠে আসে এসব তথ্য।

অভিযোগে লায়লা উল্লেখ করেন, মামলার বিবাদী আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের সঙ্গে আমার গত তিন বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে মামুন আমাকে বিয়ে করবে মর্মে প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করে। সে আমাকে জানায়, তার ঢাকায় থাকার মত নিজস্ব কোনো বাসা নেই। যেহেতু প্রেমের সম্পর্ক সৃষ্টি হয় এবং মামুন আমাকে বিয়ে করবে বলে জানায়, তাই তার কথা সরল মনে বিশ্বাস করে তাকে আমার বাসায় থাকার অনুমতি দিই।

২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি মামুন তার মাকে সঙ্গে নিয়ে আমার বাসায় এসে বসবাস করতে থাকে। ওইদিন থেকে সে আমার বাসায় আমার সঙ্গে একই রুমে থাকতে শুরু করে। আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে একাধিকবার আমার সঙ্গে শারীরিক সর্ম্পক স্থাপন করে। মামুন আমার বাসায় থাকাকালে তার বাবা-মা মাঝেমধ্যেই সেখানে এসে অবস্থান করতো। আমি মামুনকে একাধিকবার বিয়ের বিষয় বললে সে বিভিন্ন অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১৪ মার্চ মামুন আমার শয়ন কক্ষে আগের মতো আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে। পরবর্তীসময়ে আমি তাকে বিয়ের বিষয়ে বললে সে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। আমাকে বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে।

গত ১৫ মার্চ মামুন আমাকে বিয়ে করবে না মর্মে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আমার বাসা থেকে চলে যায়। এরপর আমি লোকমুখে জানতে পারি মামুন বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছে। তখন আমি একাধিকবার তার বাসায় গেলে সে আমাকে বিয়ে করবে না মর্মে চরমভাবে অপমান করে এবং তার বাসার দরজা থেকে আমাকে বের করে দেয়। আমি উপায় না পেয়ে মামুনের বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিষয়ে বললে তারাও আমার কথায় কর্ণপাত না করে বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় আমাকে গালিগালাজ করে।

এদিকে, লায়লাকে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় চার্জশিট আমলে নিয়ে গত ৩ জুন প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ৪ জুন  ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেনের আদালতে মামুন আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত এক হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই বায়োজিদ বোস্তামী গত ৩১ জানুয়ারি মামুনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার বাদী লায়লা আকতার ফরহাদ (২৮) আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের (২০) হবু স্ত্রী। আসামি হেলাল (২৫) ও জুবায়ের (২৪) প্রিন্স মামুনের বন্ধু।

মামলার ঘটনার প্রায় তিন বছর আগে প্রিন্স মামুনের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে লায়লার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীকালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের কথা চূড়ান্ত হয়। বিয়ের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই মামুন বাদীর বারিধারা ডিওএইচএসের বাসায় একসঙ্গে বসবাস করতে থাকেন। মামুন বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে লায়লার কাছ থেকে টাকা নিতেন এবং প্রায়ই মদ্যপান করে গভীর রাতে বাসায় ফিরতেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেছেন, ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর বাদী ও আসামি উত্তরায় একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফেরেন। পর দিন মামুনসহ তার বন্ধুরা মদ্যপান করতে মিরপুর যাওয়ার পরিকল্পনা করলে লায়লা সেটি টের পেয়ে যান। পরে মামুনকে মদ্যপানের জন্য বাসার বাইরে যেতে নিষেধ করলে আসামি মামুন উত্তেজিত হয়ে লায়লাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। লায়লা এর প্রতিবাদ করলে মামুন তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে জখম করে। এতে লায়লার মুখমণ্ডলসহ দুই চোখের নিচে-উপরে ও মাথায় জখম হয়। পরে মামুন বাদীকে টেনেহিঁচড়ে বাসা থেকে বের করে রাস্তায় নিয়ে যান।

চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়, লায়লা রাস্তায় পড়ে গেলে প্রিন্স মামুন তাকে হত্যার উদ্দেশে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। শোরগোল শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে লায়লা প্রাণে বেঁচে যান এবং মামুনসহ তার বন্ধুরা লায়লাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যান।

৪ জুন জামিন পেয়ে প্রিন্স মামুন আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের বলেন, আমার বিরুদ্ধে করা মামলাটি মিথ্যা। আসলে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাকে হয়রানির জন্য মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলাটি তদন্তকালে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণে দেখা যায়, মামলার ১ নম্বর আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুন (২০) দেশীয় ভোতা অস্ত্র দিয়ে বাদীকে সাধারণ জখম করেন। বাদীকে শ্বাসরোধের চেষ্টা এবং ভয়ভীতি ও হুমকি দেখানোয় মামুন, হেলাল ও জুবায়েরের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩/৩০৭/৫০৬ ধারায় চার্জশিট দাখিল করেনি। হেলাল ও জুবায়েরের নাম-ঠিকানা সঠিক না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হলো।

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের এসআই উত্তম কুমার সোমবার (১০ জুন) বলেছেন, রবিবার (৯ জুন) এ মামলার এজহার আদালতে এসেছে। আদালত মামলার এজহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ বলছেন, প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।

এবি 

×