ছবিঃ সংগৃহীত
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি জলবায়ু আক্রান্ত ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৯ম। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, তাপচাপ, লবণাক্ততা অনুপ্রবেশ ও বন্যা এ দেশের জীবন, জীবিকা এবং বাস্তুতন্ত্রের জন্য প্রতিনিয়ত অস্তিত্বগত হুমকি তৈরী করছে। এসব কারণে প্রতিবছর দেশে ঘূর্ণিঝড়ে গড়ে ১০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন এবং বড় ধরনের দূর্যোগে কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে জিডিপিতে কৃষির অবদান এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঘরবাড়ি হারাবে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ইনে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট উইক-২০২৫’ এর গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান।
সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ এসোসিয়েট ফখরুদ্দিন আল কবির প্রতিবেদন উপস্থাপন করে জানান, ২০২২ সালে বিশ্বে মোট কার্বন ও গ্রীন হাউজ গ্যাস (জিএইচজি) নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান ছিল যথাক্রমে ০.৩ শতাংশ এবং ০.৫১ শতাংশ। এ দেশের জীবন, জীবিকা এবং বাস্তুতন্ত্রের জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, তাপচাপ, লবণাক্ততা অনুপ্রবেশ ও বন্যা প্রতিনিয়ত অস্তিত্বগত হুমকি তৈরী করছে। এসব কারণে দেশে প্রতিবছর প্রাকৃতিক দূর্যোগে প্রায় ১শ’ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়। তবে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং জিডিপি’তে কৃষির অবদান কমবে এক-তৃতীয়াংশ।
তিনি জানান, ২০১৫-২০ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে যেসব দুর্যোগ হয়েছে তার মধ্যে খরায় আক্রান্ত হয়েছে ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ পরিবার, জলাবদ্ধতায় ১০ দশমিক ১৬ শতাংশ, ঘূর্ণিঝড়ে ৩৪ শতাংশ, টর্নেডোতে ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ, ঝড়/জলোচ্ছ্বাসে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ, বজ্রপাতে ১৪ দশমিক ২২ শতাংশ, নদী/উপকূলীয় ক্ষয় ১০ দশমিক ৪ শতাংশ, ভূমিধসে শূণ্য দশমিক ৪০ শতাংশ, লবণাক্ততায় ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ, শিলাবৃষ্টিতে ১৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে শূণ্য দশমিক ০৯ শতাংশ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জিএইচজি ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে বাংলাদেশকে শক্তি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস বাড়াতে মনোনিবেশ করতে হবে। পাশাপাশি টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তির প্রচার, পরিচ্ছন্ন উৎপাদন প্রযুক্তি এবং বর্জ্য হ্রাসকরণ অনুশীলনের বাস্তবায়ন, নিঃসরণ কমাতে জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি পদ্ধতি গ্রহণ এবং মিথেন নির্গমন কমাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতিকরণ করতে হবে।
এতে বলা হয়, জাতিসংঘের বৈশ্বিক নীতি মডেল (ইউএনজিপিএম) পূর্বাভাস দিয়েছে ২০২৫ সাল থেকে জলবায়ু অর্থায়নের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারে বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু কপ২৯ সম্মেলনে উন্নত দেশগুলি ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতি বছর জলবায়ু অর্থায়নের জন্য কমপক্ষে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করতে সম্মত হয়েছে।
তবে এসব সমস্যায় বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) বাস্তবায়নের জন্য ২০২৩ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে ২৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। এছাড়া এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়নের জন্য ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট ১১ হাজার ৬১৮ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। আবার জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতাকে অভিযোজনে রূপান্তরের জন্য ব্যয় করতে হবে বর্তমান ব্যয়ের সাতগুণ বেশি। ফলে ঋণের চাপ এড়িয়ে এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থায়নের জন্য প্রয়োজন হবে অনুদান। ফলে আগামী নভেম্বরে (১০-২১ নভেম্বর) ব্রাজিলের বেলেমে আসন্ন কপ-৩০ সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে অভিযোজন অর্থায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহায়তা এবং ক্ষতি ও ক্ষয়ক্ষতি অর্থায়নের ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি আদায় করার কথা বলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সেশনে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন- পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মঞ্জুর হোসেন, বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. সৈয়দ আমির আহমেদ, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান ব্রিক্স মুলার, ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো ডিয়েস ফেরেস। দ্বিতীয় অধিবেশনে সিপিডির বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য খুশি কবিরের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় বক্তব্য দেন- পরিবেশ ও পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ু) জিয়াউল হক প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেন, আমাদের কার্বন নিঃসরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব সমস্যার সমাধান হচ্ছে, টেকনোলজির ব্যবহার। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরিত হতে হবে।
অভিযোজন পদক্ষেপে গুরুত্ব দিয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, উপকূলীয় বনায়ন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও স্বল্পব্যয়ী লবণাক্ততা অপসারণ প্রযুক্তি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের সহনশীলতা বাড়াতে অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া বাংলাদেশে স্থানীয় সমাধান বাস্তবায়নে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানোর জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, নদী বা বাঁধ মেরামতের জন্য বছরে ৪০০ কোটি টাকা থাকে বালুর বস্তার জন্য। এই ভাঙন মোকাবিলায় নতুন কিছু বুদ্ধি দিতে হবে। কপে প্রতিবছর একটা করে নতুন শব্দ ধরিয়ে দেওয়া হয়। আমরা সেই শব্দের অর্থ ও ব্যাখ্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকি, কাজ করবো কীভাবে?
অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, বিশ্বের ৫০ শতাংশ পুষ্টি সমুদ্র থেকে আসতে পারে। অথচ আমরা সমুদ্রের মাছ খাই না। তিনি বলেন, বোমা মেরে বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিলেও মিটিগেশনের কিছুই হবে না। আমাদের করতে হবে অভিযোজন। মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। বাঁধ ভাঙলে কোন প্রতিষ্ঠান ঠিক করবে- এসব নিয়ে হযবরল অবস্থা।
টেকনোলজি সম্পর্কে অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, নদীর ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ব্যবহার হয়। এর ভালো কোন প্রযুক্তি আমরা গ্রহণ করতে পারিনি। তা ছাড়া রেগুলেটরির টেকনোলজি বদলাতে হবে। কেননা ৯৯ শতাংশ রেগুলেটর কাজ করছে না। টেকনোলজির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয় একটা রিপোর্ট তৈরি করেছিল। এটি কোথায় আছে সেটি এখন খুঁজতে হবে।
অনুষ্ঠানে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শিরিন সুলতানা লিরা বলেন, সুইজারল্যান্ড গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডে (জিসিএফ) দেশটির নির্ধারিত ৮৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইতোমধ্যে প্রদান করেছে। একই সঙ্গে দেশটি এনডিসি-৩.০ দাখিল করেছে, যা বিশ্বে তৃতীয় সংস্করণের মধ্যে প্রথম দিককার একটি দৃষ্টান্ত। তিনি জানান, সুইজারল্যান্ড বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের জলবায়ু কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয়করণ ছাড়া টেকসই জলবায়ু অভিযোজন সম্ভব নয়। তাই সুইজারল্যান্ড অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের মতো শুধুমাত্র জাতীয় পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ না থেকে স্থানীয় সংস্থা ও কমিউনিটিগুলোর ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিচ্ছে-যাতে তারা সরাসরি মাঠপর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কাজ করতে পারে।”
লিরা আরো বলেন, “গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের উন্নয়নের সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে-বিশেষত স্থানীয় গণতন্ত্র, বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় শাসনব্যবস্থা শক্তিশালীকরণে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও আমরা সেই নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছি। আমি যখন এই জলবায়ু কর্মসূচি তৈরির কাজ শুরু করি, তখন থেকেই দূতাবাসকে পরামর্শ দিয়েছি-আমাদের স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করতে হবে। কারণ, শুধু আলোচনা নয় এখন বাস্তব পদক্ষেপই সবচেয়ে জরুরী।” এসময় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপই বেশি কার্যকর বলে তিনি মন্তব্য করে বলেন, “আলোচনা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে না যদি মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হয়।”
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বলেন, “আমরা নিঃসন্দেহে অসংখ্য প্রমাণ দিতে পারি যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে, বৈশ্বিক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নের বাস্তবতা সবসময় নৈতিকতার ভিত্তিতে চলে না। উন্নত দেশগুলো প্রথমে নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিয়েই ভাবে। তাই আমাদের যতই আহ্বান জানাই না কেন-‘আমাদের জনগণ ডুবে যাচ্ছে, উপকূল তলিয়ে যাচ্ছে’-তা হয়তো ইউরোপ বা উন্নত বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের মনোভাব পরিবর্তন করবে না। এটি হয়তো কঠোর শোনায়, কিন্তু এটি বাস্তবতা। তাই আমাদের প্রয়োজন বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা গভীরভাবে বুঝে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করা। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও নীতিগত অগ্রাধিকারের ভেতরে থেকেই বাস্তবসম্মত উপায়ে নিজেদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে জার্মান ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন (জিআইজেড) এর হেড অব ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন উলরিশ ক্লেপম্যান বলেন, জার্মানি প্রতিবছর বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে প্রায় ২ শতাংশ অবদান রাখে। অনেকেই বলবেন-১৫০টি দেশের মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ? এটা তো খুবই কম। কিন্তু আমি মনে করি, সংখ্যা ছোট হলেও দায় ছোট নয়। আমরা যদি অবদান রাখি, তার মানে এটাও যে আমাদের দায়িত্ব আছে। এটি কেবল অন্য দেশের সমস্যা নয়-এটি আমাদের সবার সমস্যা।
তিনি বলেন, সম্প্রতি আমরা একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছি যেখানে দেখা গেছে-গত বছর পর্যন্ত জার্মানি প্রায় ১৩ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ইউরো সহায়তা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুত তহবিলের প্রায় ১৪ শতাংশ। এই অর্থ বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য গ্লোবাল ক্লাইমেট ফান্ডের আওতায় আবেদনযোগ্য। এখানে প্রশ্ন আসে-বাংলাদেশ কতটা সহায়তা পাচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের একা দেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সরকার, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জানি, কিছু তহবিল রয়েছে যেগুলিতে বাংলাদেশ নিয়মিত আবেদন করে, আবার কিছু তহবিল অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয়-কারণ আবেদন প্রক্রিয়া জটিল। কিন্তু তহবিলের সুযোগ এখনও আছে, সেটিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা দরকার।
কপ সম্মেলনে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, কপ-এ অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। আমি এখানে একটু ভিন্নমত পোষণ করি। যদি কপ কখনো না হতো, তাহলে কি আমরা এত আলোচনার প্ল্যাটফর্ম, উদ্যোগ বা সমাধানের পথ দেখতে পেতাম? নিশ্চয়ই না। বাস্তবতা হলো-সবকিছু অর্জিত না হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
বেসরকারি খাতের ভূমিকা নিয়ে উলরিশ ক্লেপম্যান বলেন, যদি বাংলাদেশে পুনর্নবায়নযোগ্য শক্তি (রিনুয়েবল এনার্জি) প্রযুক্তি আমদানি সহজ করা যায়, তাহলে বেসরকারি খাত বিনিয়োগ বাড়াতে পারবে। আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে-যদি বেসরকারি খাতকে আরও সম্পৃক্ত করা যায়, তাহলে জলবায়ু উদ্যোগ আরও কার্যকর ও টেকসই হবে। ছোট ছোট পদক্ষেপও বড় পরিবর্তনের জন্ম দেয়। প্রত্যেকের নিজস্ব প্রচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত বৃহৎ বৈশ্বিক ব্যবস্থার অংশ হয়ে যায়। কেবল পরিসংখ্যানের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। নতুন ধারণা, নতুন উদ্ভাবন ও বাস্তব পদক্ষেপের দিকে নজর দিন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে-আজই, এখনই।
এম/আই








