ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১

৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে ইএফডি চায় সংগঠনটি

স্বর্ণালঙ্কার বিক্রিতে ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব বাজুসের

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২১:৩৮, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

স্বর্ণালঙ্কার বিক্রিতে ভ্যাট কমানোর প্রস্তাব বাজুসের

স্বর্ণালঙ্কার বিক্রিতে ভ্যাটহার ৫ শতাংশের পরিবর্তে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি

স্বর্ণালঙ্কার বিক্রিতে ভ্যাটহার ৫ শতাংশের পরিবর্তে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বৃহস্পতিবার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নে বাজুসের প্রস্তাবনা বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমকে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি এবং ডলারের বিনিময় মূল্যের কারণে ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম (১ ভরি) স্বর্ণলঙ্কার কিনতে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ৬৯১ টাকা লাগে।

এর সঙ্গে বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা এবং ৫ শতাংশ ভ্যাট ৫ হাজার ৭১ টাকা যোগ করলে মোট দাম দাঁড়ায় ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা। বাংলাদেশে প্রতি ভরিতে ভ্যাট দিতে হয় ৫ হাজার ৭১০ টাকা অন্যদিকে ভারতে সমপরিমাণ স্বর্ণ কিনতে ৩ শতাংশ হারে বা ৩ হাজার ৪৩৬ টাকা ভ্যাট দিতে হয়। যার প্রভাব স্বর্ণালঙ্কার ক্রয় ও বিক্রির ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বিদ্যমান। তবে বাংলাদেশের অলংকার শিল্পের অপার সম্ভাবনা আছে উল্লেখ করে বাজুস জানায়, ভ্যাট আহরণে আগামী দিনে সরকারের একটি বড় খাত হতে পারে জুয়েলারি শিল্প। এক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাছে সহনীয় আকারে ভ্যাট নির্ধারণ করা জরুরি।
বাজুস মনে করে, সোনার অলংকার বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট হার ৫ শতাংশের পরিবর্তে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা দরকার। এতে স্বর্ণ খাত থেকে সরকার প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে পারবে।
ক্রেতারা বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে অলংকার ক্রয়ে নিরুৎসাহিত হয়, এমনভাবে ভ্যাট হার নির্ধারণ করতে হবে বলে জানায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটি বলে, বিভিন্ন সময়ে উচ্চবিত্তদের একটা বড় অংশই বিদেশে গিয়ে অলংকার কিনে থাকেন। এতে একদিকে যেমন দেশের অর্থ বিদেশে চলে যায়, অন্যদিকে সরকার প্রত্যাশিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার দেশে যারা কেনাকাটা করেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে উচ্চ কর হারের কারণে ভ্যাট প্রদানে অনীহা প্রকাশ করে থাকে। এতে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েন।

সারা দেশের ৪০ হাজার জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে ইলেক্ট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি) বসানো হলে সরকার বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আয় করতে পারবে জানিয়ে বাজুস জানায়, ‘গোল্ড ওরে’ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ককর ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১ শতাংশ করা হলে স্বর্ণ চোরাচালান বন্ধ হবে। সরকার অধিক রাজস্ব আহরণ করতে পারবে। আমদানিকারকরা পরিশোধন পরবর্তী আন্তর্জাতিক মূল্যে ব্যবসায়ীদের কাছে পিওর গোল্ড পৌঁছে দিতে পারবেন।
ফলে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক সোনার মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবসা চালাতে পারবেন স্থানীয় জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা। যার ফলে ক্রেতারা স্থানীয় বাজার থেকে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যে স্বর্ণালঙ্কার কিনতে উৎসাহিত হবেন এবং মানি লন্ডারিং অনেকাংশে কমে আসবে। স্বর্ণ পরিশোধনাগার শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে স্বর্ণের বর্জ্য ব্যবহারের জন্য শর্তসাপেক্ষে ১ শতাংশ শুল্ক দিয়ে আনার সুযোগ দিলে এ শিল্পের কাঁচামালের যোগান নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।

ফলে এ শিল্প ব্যাপকভাবে প্রসারিত হবে বলেও জানায় বাজুস।সংস্থাটি আরও জানায়, অমসৃণ হিরা আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাস করা হলে দেশের ডায়মন্ড শিল্প বিকশিত হবে। এতে হিরক খচিত অলংকার দেশীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

×