ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়ন মাত্র ৩.৫২ শতাংশ

প্রকাশিত: ২১:৪০, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১

দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়ন মাত্র ৩.৫২ শতাংশ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চলতি অর্থবছরের (২০২১-২২) দুই মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। যা টাকার অঙ্কে প্রায় ৮ হাজার ৩৩৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে এ হার ছিল ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। যা টাকার অঙ্কে ৮ হাজার ৩৫১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন করছে সরকার। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। আইএমইডির প্রতিবেদনে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের শুধু আগস্টে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। যা টাকার অঙ্কে ৫ হাজার ৬৪৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে গত অর্থবছরের আগস্টে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। যা টাকার অঙ্কে ৫ হাজার ৯৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের আগস্টের তুলনায় চলতি অর্থবছর টাকার অঙ্কে এডিপি বাস্তবায়ন বেড়েছে। আইএমইডির হাল নাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহের ১ হাজার ৫৯১ প্রকল্পের বিপরীতে খরচ মাত্র আট হাজার ৩৩৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। তথ্য পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, সরকারের ২৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার দু’মাসের অগ্রগতি বা খরচের হার ১ শতাংশেরও নিচে। এরমধ্যে তিন মন্ত্রণালয় ও চার বিভাগ গত দু’মাসে প্রকল্পের পেছনে কোন টাকা খরচ করেনি। এগুলো হলো- বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে এক শতাংশের কম অর্থ ব্যয় করেছে এমন মন্ত্রণালয়গুলো হলো- বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, আইএমইডি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং বাংলাদেশ সরকারী কর্মকমিশন। দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর বেহাল স্বাস্থ্য খাতের চিত্র সবার নজরে আসে। এরপরই স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাড়ানো হয় বরাদ্দ। তবে আইএমইডির তথ্য বলছে, অর্থবছরের প্রথম দু’মাসে এ খাত খরচ করতে পেরেছে মাত্র ১৭০ কোটি ১৬ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। আর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৫৫৮ কোটি তিন লাখ টাকা, দু’মাসে তারা ব্যয় করতে পেরেছে মাত্র ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ বা ৮৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এছাড়া গত দু’মাসে ২১৪টি প্রকল্পের বিপরীতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ব্যয় করেছে দুই হাজার ৫৩২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। বিদ্যুত খাতের ৭৫টি প্রকল্পের বিপরীতে খরচ করছে ১ হাজার ৬৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা ৩.৮১ শতাংশ। সড়ক উন্নয়নে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ১৮২টি প্রকল্পের জন্য এ সময়ে খরচ ১ হাজার ১৪৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা, যা বরাদ্দের মাত্র ৪.০৯ শতাশং। পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের কারণে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ২১ প্রকল্পে খরচ করেছে দু’মাসে খরচ করেছে ৪৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের মাত্র ০.২৩ শতাংশ। রেলপথ মন্ত্রণায়ের ৩৬ প্রকল্পের বিপরীতে খরচ হয়েছে ৫৪৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা বা বরাদ্দের ৪.০১ শতাংশ। এ প্রসঙ্গে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, বছরের শুরুতে উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের টেন্ডার দেয়া হয়। এই টেন্ডার প্রক্রিয়া হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ পেতে কিছুদিন সময় লাগে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়ে বিল উঠানো শুরু করলেই এডিপি বাস্তবায়ন বাড়তে থাকে। এজন্য বছরের শুরুতে বাস্তবায়ন হার কম থাকলেও মাস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এডিপি বাস্তবায়ন বাড়তে থাকে। তিনি আরও বলেন, এডিপি বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। অর্থবছর শেষে প্রত্যাশা অনুযায়ী এডিপি বাস্তবায়ন হবে বলে আমি মনে করছি।
×