ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

বায়ান্ন বাজার তপ্পিান্ন গলি

মোরসালিন মিজান

প্রকাশিত: ০০:০৭, ২১ জুন ২০২৪

বায়ান্ন বাজার তপ্পিান্ন গলি

কোরবানির পশুর বর্জ্য ভালোভাবে পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধে টেকা  যাচ্ছে না

কী যে দুর্গন্ধ! কী যে দুর্গন্ধ! ভালোভাবে নিঃশ্বাস নেওয়া যাচ্ছে না। দম বন্ধ হয়ে আসছে। রাজধানীর প্রায় সব অলি গলিতে এখন কোরবানির পশুর রক্ত কিংবা অন্যান্য তরল বর্জ্য। শুকিয়ে যাওয়ায় অতটা চোখে পড়ছে না বটে। উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে বাতাসে। হঠাৎ নাকে এসে লাগতেই ঈদের সব খাওয়া যেন বমি হয়ে বের হয়ে আসতে চায়। গা গুলিয়ে ওঠে। বলার অপেক্ষা রাখে না, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণেই এমনটি হচ্ছে।

দৃশ্যমান বর্জ্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিষ্কার করতে পেরেছে দুই সিটি করপোরেশন। তবে তরল বর্জ্য নিয়ে তাদের আলাদা কোনো ভাবনা ছিল বলে মনে হয়নি। নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি দেওয়ার ব্যাপারেও জোর দেয়নি সিটি করপোরেশন। এই সুযোগে যে যেখানে খুশি জবরদস্তি করে পশু শুইয়ে দিয়েছেন। ছুরি চালিয়েছেন গলায়। রক্ত কোথায় যাচ্ছে বা যাবে তা নিয়ে মাথাব্যথা ছিল না। গরুর মল মূত্রের সঙ্গে রক্ত ইত্যাদি মিশে বিচ্ছিরি এক অবস্থা হয়েছে পাড়া-মহল্লায়। সারাদিনের শেষে কেউ কেউ দুই ঘটি জল ছিটিয়ে দেওয়ার কষ্ট স্বীকার করেছেন।

কিন্তু ওই জলে কাজ হয়েছে কি না তা দেখার সময় কারও হাতে ছিল না। বহু বাসার সামনের ফুটপাত দখলে নিয়ে কশাইখানা খোলা হয়েছিল। এমনকি মূল সড়কে কোরবানি দেওয়ার অসংখ্য নজির এখনো চোখে পড়ছে। বৃষ্টি না হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে বর্জ্য পরিষ্কারের কাজটি এবার হয়নি। বেশি করে পানি ছিটানো বা ধুয়ে পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়নি সিটি করপোরেশনও। এখন তাই দু’হাতে নাক চেপে ধরে বাসা থেকে বের হতে হচ্ছে। গত সোমবার ছিল কোরবানির ঈদ। এর পর তিনদিন পার হয়ে গেছে।

কিন্তু দুর্গন্ধ বাড়ছে বৈ কমছে না। এমন ভয়াবহ একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কেন এখনো আমাদের যেতে হবে? পৃথিবীর আর কোন দেশ আছে, যেখানে রাস্তা ঘাটে পশু কোরবানি দেওয়া হয়? মুসলিম প্রধান দেশগুলোর দিকে, শহরগুলোর দিকে তাকাই না কেন আমরা? কেন শিখি না? কবে আর শিখব? 
ফাঁকা ঢাকায় উদ্যাপন ॥ ঢাকা এখনো মোটামুটি ফাঁকা। রাস্তা ঘাটে আগের মতো ভিড় নেই। গণপরিবহনের সংখ্যা অনেক কম। প্রধান প্রধান সড়কে রিক্সা চলছে দিব্যি। যারা বাসা থেকে বের হচ্ছেন তাদের কারও তেমন তাড়া নেই। ফুরফুরে মন নিয়ে মূলত ঘুরে কেড়াচ্ছেন। ফুডকোর্টগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। সিনেপ্লেক্সে নতুন সিনেমা দেখার লাইনও বেশ দীর্ঘ। খোলা জায়গা উদ্যান পার্ক বা অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্রে নিজের মতো করে সময় কাটাচ্ছেন রাজধানীবসী।

অবশ্য একই সময়ে নিতে হচ্ছে কাজে ফেরার প্রস্তুতি। এরই মাঝে সরকারি ছুটি শেষ হয়েছে। উপস্থিতি আপাতত কম হলেও, যত দিন যাবে বাড়বে। খুলতে শুরু করেছে দোকানপাট শপিংমল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কয়েকদিনের মধ্যেই আপন চেহারায় ফিরবে বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির শহর ঢাকা।

×