ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১

চলছে বাংলা নববর্ষ বরণের প্রস্তুতি

সম্প্রীতি মানবতা ও শান্তির বার্তা দেওয়া হবে

মোরসালিন মিজান 

প্রকাশিত: ২৩:৪৯, ২৯ মার্চ ২০২৩

সম্প্রীতি মানবতা ও শান্তির বার্তা দেওয়া হবে

ঢাবির চারুকলায় চলছে বৈশাখ বরণের প্রস্তুতি

বাঙালি উৎসব প্রিয় জাতি। বারো মাসে তের পার্বণ না হলে এখানে চলে না। তবে পহেলা বৈশাখ ঘিরে শুধু উৎসব নয়, বাঙালিত্বের সচেতন চর্চা উজ্জীবন চোখে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকারের জায়গা থেকে, অসাম্প্রদায়িক বোধ থেকে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। এবারও বাংলা সনের প্রথম দিন সব ধর্ম বর্ণের মানুষ ভেদাভেদ ভুলে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হবেন। সকলে মিলে সমান আনন্দ উচ্ছ্বাসের সঙ্গে উদ্যাপন করবেন পহেলা বৈশাখ। আলাদা আলাদা মঞ্চ থেকে গ্রামীণ জীবন ও শেকড়ের সংস্কৃতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা হবে। সে লক্ষ্যে এখন চলছে জোর প্রস্তুতি। রাজধানী ঢাকায় নববর্ষ বরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে 
ছায়ানট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। 
প্রতিবারের মতো এবারও রমনায় মূল বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। বৃক্ষশোভিত মঞ্চ থেকে গান কবিতা কথনে বাঙালিত্বের মূল ধারণা ব্যাখ্যা করবে আয়োজক সংগঠন ছায়ানট। শেকড়ের সংস্কৃতির প্রতি নত হওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করবে। ছায়ানটের সঙ্গে বছরের প্রথম দিনটি শুরু করতে অধির আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে রাজধানীবাসীও। সাধারণ মানুষের এই আগ্রহের কথা মাথায় রেখে বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লায়সা আহমেদ লিসা বলছেন, প্রভাতী অনুষ্ঠানে যে গানগুলো এবার গাওয়া হবে সেগুলো তারা আগেই চূড়ান্ত করেছিলেন। এখন চলছে রিহার্সাল। এবার সব মিলিয়ে শতাধিক কণ্ঠ ও যন্ত্রসংগীত শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। গান কবিতা কথনের মধ্য দিয়ে মানবতা সম্প্রীতি ও জীবনবোধের কথাই বলা হবে বলে জানান তিনি। 
এদিকে, মঞ্চ ও পোশাক পরিকল্পনার কাজও এগিয়ে চলেছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঞ্চের শিল্পীদের পোশাকে এবার প্রাধান্য পাবে অফ হোয়াইট রং। মেয়েরা অফ হোয়াইট রঙের তাঁতের শাড়ি পরবেন। লাল পাড়ে থাকবে ঐতিহ্যবাহী জামদানীর ফর্ম। ছেলেদের পাঞ্জাবির মূল রং হবে অফ হোয়াইট। আর কলারের অংশটি শাড়ির পাড়ের ফর্মে হতে পারে।       
তবে সবচেয়ে বড় খবর হচ্ছে, অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন বাঙালির সাংস্কৃতিক আন্দোলন সংগ্রামের পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব ছায়ানট সভাপতি সনজিদা খাতুন। বলার অপেক্ষা রাখে না, তার উপস্থিতি বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে।    
এ দিকে, পহেলা বৈশাখের বর্ণিল আয়োজন যে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সেটির প্রস্তুতিও থেমে নেই। প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ শোভাযাত্রার আয়োজন করছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বর্তমানে চারুকলা অনুষদের আঙিনায় দিন রাত চলছে ছবি আঁকার কাজ। কেউ ক্যানভাসে কাজ করছেন। কেউবা মাটির সরায়। পাখি পুতুল ইত্যাদিও তৈরি হচ্ছে। এগুলো বিক্রি করে পাওয়া অর্থে অয়োজন করা হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ শিল্পপ্রেমী মানুষ প্রতিদিনই চারুকলায় ভিড় করছেন। কৌতূহল নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাজ দেখছেন। আর মনে মনে অপেক্ষা করছেন পহেলা  বৈশাখের। 
এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে অনুষদের ডিন নিসার হোসেন বলেন, কাজ ভালোভাবেই এগোচ্ছে। এখন বৈরী সময়। যুদ্ধ দেখছে পৃথিবী। এর বিপরীতে আমরা শান্তির বার্তা দিতে চাই। সে লক্ষ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রার স্লোগান ঠিক করা হয়েছে, ‘বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারি।’ এ বাণী তুলে ধরা হবে মঙ্গল শোভাযাত্রায়। শোলা দিয়ে তৈরি পায়রার একটি ফর্ম আমরা ব্যবহার করব। স্ট্রাকচারাল এই ফর্মটিই মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল আকর্ষণ হবে। তা ছাড়া আরও একটি বড় স্ট্রাকচারাল ফর্ম রাখা হবে। মুখোশ ফুল পাখি ইত্যাদিও হাতে হাতে বহন করা হবে। 
এ দিকে, পোস্টার তৈরির কর্মশালা শুরু হবে আগামী শুক্রবার। কর্মশালার মধ্য দিয়ে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার পোস্টার বাছাই করা হবে।  
সব মিলিয়ে জোরেশোরে চলছে উৎসব প্রস্তুতি। রাজধানীবাসীও প্রস্তুত হচ্ছেন। পহেলা বৈশাখে তাই বর্ণিল ঢাকাকেই দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

×