ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জাতীয়

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

প্রকাশিত: ২৩:২৩, ২০ মে ২০২২

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

মোরসালিন মিজান ॥ বেড়েই চলেছে গরম। গ্রীষ্মের গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। হ্যাঁ, কথা হবে এ প্রসঙ্গে। তার আগে একটি গানের কথা আজ বিশেষভাবে স্মরণ করা যাক। গান তো কতই হয়। কিন্তু কিছু গান গানের অধিক। এই যেমন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কী ভুলিতে পারি...।’ প্রজন্মের পর প্রজন্ম অমর এ সঙ্গীতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পৃথিবীর অন্য ভাষাভাষী মানুষও এই গান গাওয়ার চেষ্টা করেন। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উল্টোদিকের দেয়ালে নতুন রং করা হয়। গ্রাফিতি আঁকা হয়। আর সবচেয়ে বড় ও বিশেষভাবে দৃশ্যমান দেয়ালে লেখা থাকে প্রভাতফেরির সেই গানের প্রথম চরণ। গত ফেব্রুয়ারির লেখা এখনও অবিকল রয়ে গেছে দেয়ালে। তবে চলে গেছেন সঙ্গীতের কিংবদন্তি ¯্রষ্টা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। ছাত্রাবস্থায় বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির শহর ঢাকায় বসেই এ গান রচনা করেছিলেন তিনি। এ নিয়ে কয়েক বছর আগে কথাও হয়েছিল গীতিকবির সঙ্গে। সরল স্বীকারোক্তি করে তিনি বলেছিলেন, ‘তখন ১৮ বছর বয়স। ঢাকা কলেজে পড়ি। এত বড় কবিতা হবে, সঙ্গীত হয়ে যাবে, বুঝি নাই। ইটস এন এক্সিডেন্ট যে, এটা এখন এত বড় হয়ে গেছে।’ তিনি বলছিলেন, ‘আবেগ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রতি। শহীদদের লাশ দেখেছি। দেখে কবিতা লিখেছি। আমি তো গান লিখিনি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে লাশটা দেখার পরে হোস্টেলে ফিরে গিয়ে লেখা শুরু করেছিলাম। পরে শেষ করেছি। অনেক লম্বা কবিতা তো। লতিফ সাহেব সুর দিয়েছেন। আলতাফ মাহমুদ সুর দিয়েছেন। জহির রায়হান গানটি তার ছবিতে নিয়েছেন। আর এখন তো আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের গান।’ আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর মৃত্যুর খবর লন্ডন থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছার পর নতুন করে এ গানের কথা সামনে আসছে। এক গানেই কেমন মূর্ত হয়ে উঠছে বাঙালীর ভাষাসংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। একই ইতিহাস হয়ত বাঁচিয়ে রাখবেন গীতিকারকেও। ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস ॥ ভ্যাপসা একটা গরম। কখনও খুব রোদ। কখনও কিছুটা কম। কিন্তু গরম কমছে না মোটেও। হাঁসফাঁস করছে রাজধানীবাসী। বৈদ্যুতিক পাখার নিচে বসেও ঘামতে হচ্ছে। আর বাইরে বের হলে তো কথাই নেই। স্থাানগোসল হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি নেই। তবুও ছাতা উঠেছে মাথায়। রোদ থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে মানুষ। ঢাকার রাস্তায় দীর্ঘ যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় বসে থাকা। এ অবস্থায় গরম কবে কমবে, ভেবে অস্থির সবাই। উত্তরে আবহাওয়া অফিস বলছে, দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আর রাজধানী ঢাকা তো যান্ত্রিক নগরী। এখানে তাপমাত্রা যত বাড়ছে তার তুলনায় অনেক বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। কারণ হিসেবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্যও কম। এখন বছরে অন্য সময়ের চেয়ে দিন বড়। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের তাপ মাটিতে পড়ছে। অন্যদিকে বাতাসের গতিবেগ কম। এসব কারণে তাপমাত্রা যা তার চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। জলীয়বাষ্পের কারণেই শরীরে প্রচুর ঘাম হচ্ছে। সহজে তা শুকোচ্ছে না। তাই হাঁসফাঁস করছে মানুষ। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান তো দুঃসংবাদ দিয়ে বলেছেন, বর্ষার আগে এই গরম কমবে না। তার মানে আরও অনেকদিন ভুগতে হবে রাজধানীবাসীকে। বিল পরিশোধ না করেই গ্যাস ॥ গত কদিন ধরেই আলোচনায় আছে কামরাঙ্গীরচরের গ্যাস সঙ্কট। মূল কর্তৃপক্ষ তিতাস ওই এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। তার পর থেকে প্রতিবাদ ইত্যাদি চলছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠকও করেছে তিতাস। বৈঠকেও কোন সমাধান আসেনি। তবে বৈঠক থেকে কিছু তথ্য সামনে এসেছে। তিতাসের তথ্য অনুযায়ী, কামরাঙ্গীরচরে বৈধ গ্রাহক রয়েছে ১২ হাজার। কিন্তু অবৈধ সংযোগ প্রায় ৮০ হাজার! গ্রাহকের বড় অংশটি নাকি নিয়মিত বিল পরিশোধ করে না। অন্যদিকে, বৈধ গ্রাহকরা বলেছেন, গ্যাস পর্যাপ্ত না পাওয়ায় চুলায় রান্না করা সম্ভব হয়নি। তাই বিল পরিশোধ করব না। আর তিতাস তাদের হিসাব দেখিয়ে বলছে, বকেয়া বিল পরিশোধ করা না হলে গ্যাস সংযোগ দেয়া সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে অদ্ভুত এক পরিস্থিতি বটে! এ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার উপায় কী? উপায় খুঁজে বের করে দ্রুত সমস্যার সমাধান হোক। নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসা গ্রাহকরা তা-ই চাইছেন শুধু।