ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জাতীয়

‘দুই মাসের রেমিটেন্স দিয়ে বৈদেশিক ঋণের পুরো বছরের দায় মেটানো সম্ভব’

প্রকাশিত: ২৩:১৮, ২০ মে ২০২২

‘দুই মাসের রেমিটেন্স দিয়ে বৈদেশিক ঋণের পুরো বছরের দায় মেটানো সম্ভব’

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশকে যারা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা করছেন তাদের কঠোর সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ একটি সেরা দেশ। ‘অনেকে প্রশ্ন করে- বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হবে কিনা? তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, বাংলাদেশ বিদেশ থেকে যে ঋণ নেয় তার ৭২ শতাংশই নমনীয় ও সহজ শর্তের। আর শ্রীলঙ্কার নেয়া ঋণের সবই কঠোর শর্তের। আমাদের বিদেশী ঋণের পরিমাণ জিডিপির ৩৫ শতাংশ, যা বিশ্বে সর্বনিম্ন।’ এ কারণে শ্রীলঙ্কা কিংবা অন্য কোন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করা যাবে না। অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রবাসীরা এই মাসেও ২ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠাচ্ছেন। প্রবাসীদের পাঠানো দুই মাসের রেমিটেন্সের অর্থ দিয়েই বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পুরো বছরের দায় মেটানো সম্ভব হবে।’ বৃহস্পতিবার রাতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন। প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নেন চ্যানেল আইয়ের পরিচালক (বার্তা) শাইখ সিরাজ, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, ইংরেজী দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ ও অনলাইন পোর্টাল বিডিনিউজ২৪ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালেদি। আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। সভায় গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীরা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আগামী অর্থবছরের বাজেটে সংবাদপত্র শিল্পে বিদ্যমান কর্পোরেট করহার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০-১২ শতাংশে নামিয়ে আনা, নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে শুল্ককর কমানোসহ বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন সংবাদপত্রের সম্পাদকরা। এছাড়া বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা বিজ্ঞাপন বিল পরিশোধে আগামী বাজেটে বাড়তি বরাদ্দের দাবি জানান সম্পাদকরা। সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সংবাদপত্রের কী পরিমাণ বিল বকেয়া রয়েছে, সে তথ্য জানানোর পরামর্শ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, একটু সময় নিয়ে হলেও এটি সমাধানের উদ্যোগ নেব। আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা বাজেট করি দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। আগামী বাজেট হবে স্বচ্ছ এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। বাণিজ্যিকভাবে কোন ঋণ নেয় না বাংলাদেশ। আমাদের নেয়া সব ঋণেই সুদ কম। তাছাড়া আমরা ঋণ নিয়েছি কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পের জন্য। অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হওয়ার বিষয়টি মূল্যায়ন করে আমরা ঋণ নিয়ে থাকি। কাজেই বাংলাদেশের কোন সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। বরং অনেক দেশের তুলনায় আমরা ভাল আছি। মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, শ্রীলঙ্কার মূল্যস্ফীতি ৩০ শতাংশ, পাকিস্তানে ১৪ শতাংশ আর বাংলাদেশে ৬ শতাংশের কিছু বেশি। সে হিসাবে ওইসব দেশের তুলনায় আমাদের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশের ব্যয় হবে ২.৪ বিলিয়ন ডলার, যা পরের বছর বেড়ে ২.৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈদেশিক দেনা মেটাতে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার এবং তার পরের বছর ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। অথচ আমাদের প্রবাসীরা এই মাসেও ২ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠাচ্ছেন। প্রবাসীদের পাঠানো দুই মাসের রেমিটেন্সের অর্থ দিয়েই বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পুরো বছরের দায় মেটানো সম্ভব হবে। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রভাবে দেশেও মূল্যস্ফীতির উর্ধমুখী পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্কট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই ধরনের সঙঙ্কট মোকাবেলা করে আমরা অভ্যস্ত, আমাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে। মুস্তফা কামাল বলেন, জ্বালানি তেলের দাম যতটুকু বেড়েছে, তা ভোক্তা ও সরকার ভাগাভাগি করে বহন করবে। এককভাবে সরকার বা ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেয়া হবে না।