ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জাতীয়

৪-৮ হাজারে বিক্রি হয় দোকানে, পরে ১৫-৩৫ হাজারে ॥ গ্রেফতার ৮

মোবাইল চুরি, ছিনতাই চক্রে ব্যবসায়ী ও টেকনিশিয়ান

প্রকাশিত: ২৩:১৯, ১৯ মে ২০২২

মোবাইল চুরি, ছিনতাই চক্রে ব্যবসায়ী ও টেকনিশিয়ান

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ওরা মোবাইল ফোন চুরি ও ছিনতাইয়ে পারদর্শী। ওদের চক্রে রয়েছে ব্যবসায়ী-টেকনিশিয়ান। চুরির পর তিন হাত বদল হয় চোরাই মোবাইল। এরপরই বেশ কয়েকদিন অপেক্ষায় থেকে পরে তা বিক্রি করে দেয়। আর এই ঝোঁক বেশি আইফোনে। এরকমই একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে মনির হোসেন (২৮), মোঃ মোতাহার হোসেন (৫৫), মোঃ সুরুজ হোসেন (২২), মোঃ শাহজালাল (২৩), মোঃ মেহেদী হাসান (২০), কুমার সানি (২৫), মোঃ হৃদয় (২৫) ও শামীম ওসমান (১৯)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫৮টি মোবাইল সেট ও ১টি ল্যাপটপ এবং নগদ ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। সোমবার ও মঙ্গলবার রাতভর রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি’র প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার এ তথ্য জানান। ডিবি পুলিশের মুখপাত্র হাফিজ আক্তার জানান, বর্তমানে মোবাইল ফোনের চাহিদা বেড়েছে এই সুযোগে মোবাইল ফোন চুরি-ছিনতাইও বেড়েছে। তবে মোবাইল ফোন চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে জোরালো অভিযান পরিচালনা করছে গোযেন্দা (ডিবি) পুলিশ। শুধু চোর বা ছিনতাইকারী নয়, চোরাই মোবাইল ফোন বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। ডিবি প্রধান হাফিজ আক্তার জানান, চোরাই মোবাইল বিক্রির কারণে চোররা অনুপ্রাণিত হয়। এই কারণে মোবাইল ফোন চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে। এছাড়াও মোবাইল ফোন চুরির ঘটনায় আসামি গ্রেফতার করা হলেও খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিরা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। এতে চোররা কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে আবার একই কাজ করছে। তিনি জানান, ২৯ এপ্রিল উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১০ নং সেক্টর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে মসজিদের অজুখানা থেকে এক ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সেট চুরির ঘটনায় একটি মামলার তদন্তে গিয়ে এই চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ডিবি পুলিশকে জানায়, তারা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মোবাইল চুরিসহ সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সঙ্গে জড়িত। হাফিজ আক্তার জানান, চুরি বা ছিনতাই করা মোবাইল ফোন সাধারণত তিনটি হাত বদল হয়ে থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় চোর বা ছিনতাইকারী। তারা ৪-৮ হাজার টাকায় দ্বিতীয় হাতে বিভিন্ন মোবাইল মার্কেটে বা দোকানে বিক্রি করে দেয়। এরপর তারা ব্যক্তি বা ক্রেতাদের কাছে ১৫-৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে থাকে।