মঙ্গলবার ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

গিনেস বুকে নুসরাত জাহান

গিনেস বুকে নুসরাত জাহান

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান এগিয়ে চলায় নারীরাও সেভাবে পিছিয়ে নেই। কারণ অর্ধাংশ যদি পদে পদে হোঁচট খায় তাহলে সামগ্রিক সমৃদ্ধি দৃশ্যমান হয় না। উন্নয়নের অবধারিত যাত্রাপথে হরেক রকম বিপর্যয়ও মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে সময় লাগে না। ফলে অনেক দুঃসহ পরিস্থিতি এগিয়ে যাওয়ার পালাক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তবে বাংলাদেশ যে দুরন্ত অভিযাত্রায় দেমকে ভরিয়ে দিচ্ছে তা একেবারেই দৃষ্টিনন্দন। শুধু তাই নয়, বিশ্ব পরিসীমায়ও অবস্থান সুদৃঢ় করতে মোটেও পেছনের দিকে তাকাচ্ছে না। সে মাত্রায় নারীরাও তাদের সফল অংশীদারিত্বে প্রমাণ করতে বেগ পাচ্ছে না। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের জোর কদমে এগিয়ে যাওয়া সময়ের অপরিহার্য ঘটনা। তেমনই এক বিস্ময়কর ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল বরিশালের মেয়ে নুসরাত জাহান। একেবারে দেশের সীমিত পরিসরকে অতিক্রম করে বিশ্বসভায় নাম লেখাল বাংলাদেশের এই কৃতী নারী। গিনেস বুকে নাম ওঠে গেল বরিশালের নুসরাত জাহানের। ৭১টি কয়েন দিয়ে সাজিয়ে মাত্র এক মিনিটে ১ হাতে টাওয়ার বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন এই অসামান্য নারী। এমনকি আগের করা রেকর্ডও ভেঙ্গে গেল অবলীলায়।

বরিশালের দক্ষিণ সাগরদি এলাকার বাসিন্দা আবদুর রশিদও মোসাম্মত পারভীনের একমাত্র কন্যা নুসরাত। তিনি ইউটিবের মাধ্যমেই এই কয়েন সাজানোর চর্চা শুরু করেন। একেবারে নিজের মতো করে সময় নির্ধারণের মধ্যে দিয়ে। পরিশ্রমই সৌভাগ্যের চাবিকাঠি। এই চিরায়ত প্রবাদকে সামনে রেখে নুসরাত তার নিয়মিত অনুশীলন অব্যাহত রাখেন। কোন এক সময় তার মনে হলো এখন সে যে কোন বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে কয়েন সাজানোর দক্ষতায়। শুধু ভাবা নয়। বাস্তব প্রেক্ষাপটে কাজে নেমে পড়াটাও এক দৃঢ়চেতা সময়ের অভাবনীয় কর্মসফলতা। তবে নুসরাত কিন্তু বিবাহিতা। স্বামীর সংসারে রীতিমতো চর্চা করে যে দক্ষতা সে অর্জন করে সেটাই তাকে নিয়ে যায় বিশ্বমানের অনন্য সফলতায়। একেবারে গিনেস বুকে নাম লিপিবদ্ধ করা। কাজটি মোটেও সহজসাধ্য ছিল না। কিন্তু ভেতরের অপরিমেয় তেজ, অনুশীলন, জয় করার অফুরান প্রাণশক্তি সব মিলিয়ে নুসরাত শেষ অবধি অপরাজিতার কাতারে নিজের নামটি উজ্জ্বল করলেন। তাও আবার মেয়ে হিসেবে। বিবাহিত নুসরাতের স্বামী সর্বক্ষণিক সাহায্য-সহযোগিতা করে তাকে যে মাত্রায় উৎসাহ দেয় সেটাও সফলতার অনন্য নির্ণায়ক। তবে সবার আগে নুসরাতের নিজের পরিশ্রম, অধ্যবসায় সংশ্লিষ্ট কাজের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা এবং মনোযোগ সবই যেন অনবদ্যের ভূমিকায় দাঁড় করাল।

এর আগে গিনেস বিশ্ব খাতায় নাম ছিল সিলভিও সাভা নামে ইতালির এক তরুণের রেকর্ড। তিনি এক মিনিটে ৬৯টি কয়েন সাজিয়ে টাওয়ার নির্মাণের সফলতা দেখান ২০১৫ সালে। নুসরাতের পরিবার দারুণভাবে উপভোগ করছে তাঁর এই অসাধারণ কৃতকার্য। শ্বশুর ও বাপের বাড়ির উভয় পক্ষই। নুসরাত নিজেও দারুণ আত্মবিশ্বাসী বোধে তার এই অনন্য সক্ষমতাকে বরণ করছে বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাসে। বিশেষ করে বিয়ের পর মেয়েদের বড় কোন কাজে যে বাধা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয় সেটাকে মোটেও তোয়াক্কা না করার দৃঢ় মনোবৃত্তিই তাকে অনন্য সম্মানে ভূষিত করে। নুসরাত মনে করে বিয়েকে অজুহাত হিসেবে বিবেচনায় না আনাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ ভেতরের আত্মশক্তিকে সম্বল করে মেয়েরাও যে কোন সময়ে তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতাকে প্রমাণ করতে পারে। মানুষের প্রবল ইচ্ছেশক্তি নিজেকে সবার মাঝে দাঁড় করানোর দৃপ্ত মনোবল যদি কাজে লাগানো যায় তাহলে কোন ফারাক এক বাধা সামনে এসে দাঁড়াতে পারবে না। নুসরাতের এই অনুপ্রেরণা শুধু নারী নয় বিবাহিতাদের জন্যও এক অসাধারণ নজির। নিজেও মনে করেন বিশ্বমানের এমন খ্যাতি পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য দৃষ্টান্তও বটে। মেয়েরা যেন সমস্ত বন্ধন জাল ছিন্ন করে নিজেদের প্রমাণ করতে কোনভাবেই থমকে না দাঁড়ায়। তবে নিয়মিত চর্চা, অনুশীলন এবং কঠোর পরিশ্রমই যে কাউকে সফলতার শীর্ষে নিয়ে যেতে খুব বেশি সময় নেবে না।

অপরাজিতা প্রতিবেদক

শীর্ষ সংবাদ: