শুক্রবার ১৪ মাঘ ১৪২৮, ২৮ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

ভরা শীতে গ্রীষ্মের আমেজ

  • দিনে গরমের পর রাতে বৃষ্টি

কাওসার রহমান ॥ শীতের এখন ভরা মৌসুম চলছে। পৌষের শেষে মাঘ আসি আসি করছে। কিন্তু দিনের বেলায় অনেকটা গ্রীষ্মের আবহাওয়া অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে এখন শীতকালের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে দুই থেকে তিন ডিগ্রী বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করছে। ৯ জানুয়ারি ছিল গত ৪৪ বছরের মধ্যে শীতকালের সবচেয়ে উষ্ণতম দিন। এদিন রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আর একই দিন কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ৩১ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এরকম তাপমাত্রা সাধারণত গ্রীষ্ম মৌসুমে দেখা যায়।

শীতে এর চেয়ে বেশি তাপমাত্রা বর্তমান প্রজন্ম আর দেখেনি। আবার আগের প্রজন্মেরও খুব বেশি মানুষের এই অভিজ্ঞতা হয়নি। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য বলছে, ৪৪ বছর আগে ১৯৭৮ সালে আজকের দিনে ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল এর চেয়ে বেশি; ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। অথচ দিনটি ছিল বাংলা সনের ২৫ পৌষ। যেখানে হাড় কাঁপানো শীত শুরু হয়ে যাওয়ার কথা।

এই দিনটিতে ঢাকায় সর্বনিম্ন যে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে, তাতে শীতের ভারি কাপড় গায়ে না চাপালেও চলে। বরং সর্বনি¤œ ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের এই তাপমাত্রায় অনেক মানুষই সাধারণ কাপড় পরে চলাফেলা করেছেন। ১১ জানুয়ারি সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আর একদিনের ব্যবধানে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রী থেকে বেড়ে হয়েছে ১৭ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। অর্থাৎ আবহাওয়ার পারদে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ ডিগ্রী আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এই সময়ে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস বেশি বিরাজ করছে।

আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, আবহাওয়া বিভাগের ৪৩টি স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে শুধু দুটি স্টেশন বাদ দিয়ে বাকি সবগুলোতেই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় দুই থেকে তিন ডিগ্রী সেলসিয়াস করে বেশি আছে।

এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর আবহাওয়া অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছিল, ডিসেম্বরের ২০ এবং ২১ তারিখে সারাদেশে যে তাপমাত্রা, তা গত ৩০ বছরের একই সময়ের স্বাভাবিক তাপমাত্রার গড়ের চেয়ে বেশ কম ছিল। এই তাপমাত্রা গত ৩০ বছরের দেশের স্বাভাবিক তাপমাত্রার গড়ের চেয়ে এক থেকে পাঁচ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত কম। সে সময় দেশের অন্তত ১০টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছিল। ধারণা করা হয়েছিল, এবার শীতকালে শীতের প্রভাব হয়তো বেশিই থাকবে। কিন্তু বর্তমান চিত্র তার উল্টো। উল্লেখ্য, স্বাভাবিক তাপমাত্রা বলতে গত ত্রিশ বছরের তাপমাত্রার গড়ের হিসাবকে বোঝায়।

আবহাওয়ার এই বৈরী আচরণ যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়েই বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বাড়ছে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এবং সর্বনি¤œ তাপমাত্রা। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। বাংলাদেশেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব দেখা যাচ্ছে। তারই অংশ হিসাবে এই ভরা শীতেও গ্রীষ্মের আবহাওয়া বিরাজ করছে।

শীতের মাঝামাঝিতে এসে আবহাওয়ার এমন উল্টোগতির বিষয়ে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ার কারণেই শীতের পরিবর্তে উষ্ণতা বাড়ছে। বৃষ্টিপাতের আগের কয়েক দিন বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যায়। যার কারণে আবহাওয়া গরম থাকে। আগামী চার দিন বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে তাই গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি। তবে বৃষ্টিপাত শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরই সারাদেশে তাপমাত্রা আবার কমে যাবে। তখন দেশে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে নামতে পারে। মে হিসাবে আগামী ১৪ তারিখের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যও বলছে, পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে এটা ঘটছে। এর ফলেই বেড়েছে তাপমাত্রা। ফলে পৌষের শেষের দিকে এসে শীতের তীব্রতা অনেকটাই কমে গেছে। রাজধানীতে তেমন শীত অনুভূত হচ্ছে না। বৃষ্টির পর শীত কিছুটা বাড়বে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হয়ে পশ্চিমা লঘুচাপ কেটে আবার তাপমাত্রা কমতে থাকবে। তখন আবারও শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বলেন, ‘পশ্চিমা লঘুচাপ না থাকলে ঠা-া থাকবে। এই লঘুচাপ তৈরি হয় ভূমধ্যসাগরে। পরে তা পূর্ব দিকে এগোতে থাকে, কাশ্মীরের দিকে এসে দুই ভাগ হয়ে যায়। একটি হিমালয় পাহাড়ের উত্তর দিকে চলে যায়। আরেকটি দিল্লী, উত্তর প্রদেশ, বিহার হয়ে বাংলাদেশে ঢোকে।

তিনি বলেন, ‘পশ্চিমা লঘুচাপ যখন দিল্লী হয়ে ঢোকে তখন বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশের দিকে চলে এসেছে প্রায়। সে ক্ষেত্রে আমাদের দেশেও এ সপ্তাহের শেষে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। এরপর ১৪-১৫ তারিখের দিকে তাপমাত্রা কমতে থাকবে।’

মঙ্গলবারও দেশের ছয় বিভাগে হাল্কা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। এর ফলে আপাতত দিনের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তবে আগামী তিনদিনের মধ্যে বৃষ্টি চলে যাওয়ার পর রাতের তাপমাত্রাও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলসহ রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা, সিলেট এবং ময়মনসিংহ বিভাগের দু-এক জায়গায় হাল্কা বা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এ সময়ে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা এক থেকে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস কমতে পারে। তবে আগামী দু-দিন পর রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে।’

গত ৮ বছরের তাপমাত্রার চিত্র ॥ ২০২১ সালের ৯ জানুয়ারি ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল এবারের তুলনায় ১ ডিগ্রী কম, ২৭ দশমিক ৬ ডিগ্রী। তবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল এই দিনের তুলনায় অনেক বেশি, ১৮ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

ঢাকায় ২০২০ সালে ৯ জানুয়ারি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ ডিগ্রী এবং সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

২০১৯ সালের এই দিনে দিনে ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ১ ডিগ্রী এবং সর্বনিম্ন ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

২০১৮ সালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৮ ডিগ্রী এবং সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ২০১৭ সালে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৭ দশমিক ৩ ডিগ্রী এবং সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ২০১৬ সালে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রী এবং সর্বনিম্ন ১৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

২০১৫ সালে এই দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৩ ডিগ্রী এবং সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আর ২০১৪ সালের এই দিনে ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ১ ডিগ্রী এবং সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

বৃষ্টি আরও দু-তিন দিন থাকতে পারে

পৌষের শেষভাগে উষ্ণ দিনের পর রাতে হাল্কা বর্ষণে ভিজল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান। আর এমন বৃষ্টি আরও দুই-তিন দিন চলতে পারে বলে আভাস মিলেছে। আর তাতে শীতের অনুভূতিও বাড়াবে। মঙ্গলবার রাতে বৃষ্টির পর আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান বলেন, আগামী কয়েকদিন এ ধরনের বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী এবং চুয়াডাঙ্গায় সামান্য বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় হাল্কা অথবা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। হাফিজুর বলেন, এ ধরনের বৃষ্টিতে রাতের বেলায় তাপমাত্রা কমতে পারে ১-২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এ সময় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে না গেলেও উত্তরের হাওয়ায় শীতের অনুভূতি থাকবে বেশ। তিন-চার দিন পরে ধীরে ধীরে রোদেলা আবহাওয়া বাড়বে। তবে তখন শৈত্যপ্রবাহের আমেজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

শীর্ষ সংবাদ:
লবিস্ট নিয়োগের এত টাকা কোথা থেকে এলো         মেট্রোরেলের পুরো কাঠামো দৃশ্যমান         ইসি গঠন আইন পাস ॥ স্বাধীনতার ৫০ বছর পর         দেশী উদ্যোক্তাদের বিদেশে বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত         এ মাসে নির্মল বাতাস মেলেনি রাজধানীতে         কঠিন হলেও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনই সমাধান         শাবিতে অহিংস আন্দোলন চলবে ॥ ভিসি সরিয়ে নেয়ার গুঞ্জন         দেশে করোনায় আরও ১৫ জনের মৃত্যু         জাতির পিতা হত্যার পর কবি, আবৃত্তিকাররাই প্রতিবাদ করেছেন         দেশে করোনার চেয়ে অসংক্রামক রোগে মৃত্যু বেশি         নায়ক না ভিলেন-শিল্পীরা কাকে বেছে নেবেন?         রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কে- বের হয়ে আসছে         পরপর দু’বছর দেশসেরা, সিএমপির গতি আরও বাড়বে         দেশের সর্বনাশ করতেই বিএনপির লবিষ্ট নিয়োগ : সংসদে প্রধানমন্ত্রী         ৪৪তম বিসিএসের আবেদন ২ মার্চ পর্যন্ত         জমি অধিগ্রহণে আমার লাভবান হওয়ার খবর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : শিক্ষামন্ত্রী         জানুয়ারিতে ‘অস্বাস্থ্যকর বায়ু’ ছিল ঢাকায়         করোনায় আরও ১৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৫৮০৭         গাইবান্ধায় ইভিএম এর মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে ॥ কবিতা খানম