শনিবার ৯ মাঘ ১৪২৮, ২২ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

এ মাসেই সার্চ কমিটি, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নতুন ইসি

  • সংলাপ শেষ হবে ১৭ জানুয়ারি

শরীফুল ইসলাম ॥ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষে এ মাসেই গঠন করা হচ্ছে সার্চ কমিটি। আর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তায় গঠন করা হবে নতুন নির্বাচন কমিশন। ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নির্বাচন কমিশন ৫ বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এ জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয় যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

এদিকে রাষ্ট্রপতির ডাকে সাড়া দিয়ে বঙ্গভবনে গিয়ে এ যাবত ১৭ টি রাজনৈতিক দল সংলাপে অংশ নিয়েছে। সংলাপে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে দলীয় প্রস্তাব তুলে ধরেছে। কোন কোন দল সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা বললেও আবার কোন কোন সংগঠন আইন প্রণয়ন করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। আর বিএনপিসহ সাতটি রাজনৈতিক দল সংলাপে অংশ নেয়নি। ১৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির ডাকা সংলাপ শেষ হবে। এর আগে আরও ক’টি দলের সঙ্গে সংলাপ হবে। এর পর এ মাসের শেষ দিকেই গঠন করা হবে সার্চ কমিটি। আর ওই সার্চ কমিটি নতুন নির্বাচন কমিশনের জন্য কিছু নাম প্রস্তাব করলে সেখান থেকে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত বেশ ক’টি রাজনৈতিক দল নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের দাবি জানালেও এত অল্প সময়ের মধ্যে আইন প্রনয়নের সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ ছাড়া সরকারী দল আওয়ামী লীগসহ বেশ ক’টি রাজনৈতিক দল সার্চ কমিটির মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশন গঠনের পক্ষে অবস্থান করছে। তাই এবারও সার্চ কমিটির মাধ্যমেই গঠন করা হবে নতুন নির্বাচন কমিশন।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জনকণ্ঠকে জানান, রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। তিনি যেভাবে ভাল মনে করবেন সেভাবেই নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।

সংলাপ শেষে রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠনের পর ওই কমিটির সদস্যরা বসে অভিজ্ঞ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্যদের নিয়ে একটি তালিকা করে রাষ্ট্রপতির কাছে এই তালিকা হস্তান্তর করবেন। আর সার্চ কমিটির সুপারিশ করা নামের তালিকা থেকেই রাষ্ট্রপতি ৫ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। এর মধ্যে একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ৪ জনকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ ১৭ জানুয়ারি সংলাপে অংশ নেয়ার আগেই সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের পক্ষে অবস্থান জানান দিয়েছে। সংলাপে অংশ নিয়ে তারা সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেবেন। ইতোমধ্যেই দলের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাবের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। ১৭ জানুয়ারির আগেই এই প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে।

আওয়ামী লীগ মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সার্চ কমিটির মতো স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন গঠন ছাড়া তেমন কোন বিকল্প নেই। এ ছাড়া এর আগে ২ বার সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে তেমন কোন সমালোচনা হয়নি। আর মাত্র ১ মাসের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য নতুন একটি আইন প্রণয়ন করাও প্রায় অসম্ভব। তাই, এবার সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করে পরবর্তীতে আইন প্রণয়ন করে করা যাবে।

এদিকে বিএনপি রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ না নিলেও তাদের সমমনা ক’টি দল আইন করে নির্বাচন কমিশন গঠনের পক্ষে মতামত দিয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে বিগত তিনটি নির্বাচনে অংশ নেয়া দল জাতীয় পার্টিও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপকালে আইন করে নির্বাচন কমিশন গঠনের পক্ষে মত দিয়েছে।

এর আগে ২০১৭ সালে ৫ বছরের জন্য গঠন করা হয় বর্তমান নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে যচ্ছে এ কমিশনের মেয়াদ। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবিতে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সোচ্চার হয়ে উঠেছে। সরকারী দল আওয়ামী লীগ সার্চ কমিটির মাধ্যমে একটি ভাল নির্বাচন কমিশন গঠন হবে বলেই আশা করছে।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষপ্রান্তে চলে আসায় ২০ ডিসেম্বর থেকে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছেন। আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৩৯ টি রাজনৈতিক দলের মধ্য থেকে ৩২টি দলকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে বিএনপিসহ সাতটি দল সংলাপে অংশ নেয়নি। এই সাতটি দলের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), এলডিপি, জেএসডি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও বিএনপি। জাসদ, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরাম, ন্যাপসহ ১৭টি রাজনৈতিক দল সংলাপে অংশ নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনে তাদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে। ১৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সর্বশেষ রাজনৈতিক দল হিসেবে রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নেবে।

বিএনপি এবার রাষ্ট্রপতির ডাকা সংলাপে সাড়া না দিলেও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এ দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোন প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারেনি তারা। ২০১৭ সালে নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাব দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেয়া হয়। অবশ্য পরে রাষ্ট্রপতি ওই সময় সরকারী দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত প্রভাবশালী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে বঙ্গভবনে ডেকে সংলাপ করেন। সব দলের প্রস্তাবের ভিত্তিতে একটি সার্চ কমিটি গঠন করে দেন তিনি। ওই সার্চ কমিটির মাধ্যমে বাছাই করে কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করে দেন রাষ্ট্রপতি। এই নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ আর মাত্র ১ মাস পর ১৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, আগের দুবার সার্চ কমিটি গঠনের পর যেভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন রাষ্ট্রপতি এবারও সেভাবেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হোক, তা চায় না বিএনপি। বিএনপির পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা বলেছেন, আগের পদ্ধতি অনুসরণ করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার দায়িত্ব পালন করেন এই কমিশন।

অভিজ্ঞ মহলের মতে, সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন গঠনের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির। আগে রাষ্ট্রপতি সরাসরি নির্বাচন কমিশন গঠন করে দিতেন। কিন্তু বিগত ২টি নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি গঠন করেছেন সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে। এক্ষেত্রে সাচিবিক দায়িত্ব পালন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সার্চ কমিটির সদস্যদের সভায় উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি পদের বিপরীতে ২ ব্যক্তির নাম সুপারিশ করা হয়। রাষ্ট্রপতি তাদের মধ্য থেকে ১ জনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ৪ জন কমিশনার নিয়োগ দেন।

নির্বাচন কমিশন বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে বিএনপি সমালোচনা করলেও এর বিরুদ্ধে জোরালো কোন তথ্য উপস্থাপন করতে পারেনি। বিএনপি এখন পর্যন্ত এ নিয়ে যেসব কথা বলেছে তা রাজনৈতিক বক্তব্য। সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে তারা প্রমাণ করতে পারেনি সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত নির্বাচন কমিশনের কি ধরনের সমস্যা রয়েছে। অথবা নতুন একটি আইন প্রণয়ন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলেও যে নির্বাচন নিয়ে তাদের কোন প্রশ্ন থাকবে না সে বিষয়েও তারা সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে পারেনি।

সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠিত নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে Ñএর আগে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে সব দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। দেশে এর আগে কোন সরকার এমন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন গঠন করেনি। বিএনপি আমলে বিতর্কিত লোককেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়, যা নিয়ে সারাদেশের মানুষের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অথচ বর্তমান নির্বাচন কমিশনে বিএনপির দেয়া নামের তালিকা থেকেও কমিশনার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অতীতে ক্ষমতায় থাকা কোন দল তা করেনি।

শীর্ষ সংবাদ:
সাকিবের হাসিতে শুরু বিপিএল         ফের বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ॥ করোনার লাগাম টানতে পাঁচ জরুরী নির্দেশনা         বাবার সম্পত্তিতে পূর্ণ অধিকার পাবেন হিন্দু নারীরা ॥ ভারতীয় সুপ্রীমকোর্ট         উচ্চারণ বিভ্রাটে...         বাণিজ্যমেলার ভাগ্য নির্ধারণে জরুরী সিদ্ধান্ত কাল         আলোচনায় এলেও আন্দোলনে অনড় শিক্ষার্থীরা         ‘আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়টি ভালো নেই’         করোনা ভাইরাসে আরও ১২ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৪৩৪         ‘১৫ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু’         ঢাবির হল খোলা, ক্লাস চলবে অনলাইনে         করোনারোধে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৫ জরুরি নির্দেশনা         আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ স্কুল-কলেজ         ভরা মৌসুমে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি         মাদারীপুরে সেতুর পিলারে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, ২ শিক্ষার্থী নিহত         বিপিএম-পিপিএম পাচ্ছেন পুলিশের ২৩০ সদস্য         অভিনেত্রী শিমু হত্যা : ফরহাদ আসার পরেই খুন করা হয়         দিনাজপুরে মাদক মামলায় নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য গ্রেফতার         শাবিপ্রবিতে গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের মশাল মিছিল         ঘানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৫শ’ ভবন ধস, নিহত ১৭         করোনায় রেকর্ড সাড়ে ৩৫ লাখ শনাক্ত, মৃত্যু ৯ হাজার