শুক্রবার ৭ মাঘ ১৪২৮, ২১ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

এবার নিজের করা মামলায় গ্রেফতার বাবুল

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চাঞ্চল্যকর মাহমুদা খানম মিতু হত্যা ঘটনায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে তারই করা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় মিতুর বাবার করা মামলায় বাবুল গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। তার কৌঁসুলির ভাষ্য, একই ঘটনায় দু’বার গ্রেফতার দেখানোর সুযোগ নেই। এ বিষয়ে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। এদিকে, ঘটন অঘটনের এই মামলা বারবার নাটকীয় মোড় নেয়ায় শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোচ্ছে তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

রবিবার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় বাবুল আক্তারকে তার নিজের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ প্রদান করেছেন আদালত। তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) করা আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মোঃ আবদুল হালিম এ আদেশ দেন।

আদালত প্রাঙ্গণে মিতু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই মেট্রোর পরিদর্শক আবু জাফর মোঃ ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আদালতের কাছে গ্রেফতার আবেদন করেছিলাম। আদালত শুনানি শেষে সেটা মঞ্জুর করেছেন। তদন্তে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলায় আদালত গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন। এর আগে ৩০ ডিসেম্বর আদালতে বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত ৯ জানুয়ারি অভিযুক্তের উপস্থিতিতে শুনানির সময় নির্ধারণ করেন।

বাবুল আক্তারের উপস্থিতিতে তাকে গ্রেফতার করার আবেদনের শুনানি হয়। সকালে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাবুলকে আদালতে আনা হয়। এ সময় উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়। শুনানি শেষে তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশের খবর শুনে আদালত প্রাঙ্গণে আলোচনা শুরু হয় নিজের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর বিষয়টি। আইনজীবীরা বলছেন, একই ঘটনায় দুটি মামলায় একটিতে বাদী, অপরটিতে আসামি বাবুল আক্তার। শ^শুরের দায়ের করা মামলায় বাবুলসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। সেই মামলায় তিনি এখন কারাগারে। এবার নিজের মামলায়ও গ্রেফতার।

এসব বিষয় উল্লেখ করে বাবুলের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, তদন্তকারী সংস্থার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে বাবুল আক্তাকে নিজের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। অথচ অপর একটি মামলায় তো গ্রেফতার হয়ে তিনি কারাগারেই আছেন। একই ঘটনায় একসঙ্গে দুটি মামলা চলতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে যাব। পরবর্তীতে যা হওয়ার হাইকোর্টে হবে।

মাহমুদা খান মিতু হত্যার পর প্রথমে জঙ্গী টার্গেটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কাজ এগোচ্ছিল। কেননা, বাবুল আক্তার জঙ্গীদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। কিন্তু পরে অনুসন্ধানে মেলে তারই সম্পৃক্ততা। শুধু তাই নয়, তার পরিকল্পনাতেই হয়েছে এ হত্যাকা-। বাবুলের বিশ্বস্ত সোর্স মুছাকে ঘটনাস্থলে দেখেই বাবুলের সম্পৃক্ততার কথা তখন থেকেই চাউর ছিল। মুছা এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর খাতায় পলাতক। তবে তাকে শেষ পর্যন্ত পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

মিতু হত্যার ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ অনেকটা পরিষ্কার হয়ে যায়, বাবুল ঘটনার নেপথ্যে ছিল। এরপর বিভিন্ন নাটকীয়তায় পুলিশের চাকরি থেকে বাবুলের অব্যাহতি। ঢাকা গোয়েন্দা কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যখন নিয়ে যাওয়া হয় তখন মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে যায় স্ত্রী খুনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা। এরপর বাবুলের শ্বশুর অনুকূল অবস্থান থেকে প্রতিকূল হয়ে পড়েন মেয়ের জামাইয়ের ব্যাপারে। সবমিলিয়ে একের পর এক ঘটনা পরিবর্তন হতে থাকে। এর মধ্যে গত বছর বাবুলের আরেক সোর্স ভোলাও তার জবানবন্দীতে মুছা যে কিলিং মিশনে বাবুলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অংশ নেয় তাও স্বীকার করে। সবমিলিয়ে মামলা গতিপ্রকৃতি জট গত বছর খুললেও এবছর কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা সর্বত্র। বাবুল কী জামিনে বের হবেন, নাকি তার নিজের করা মামলায় আরও জড়িয়ে খুনের কারণ বের হবেন, তা এখন দেখার অপেক্ষা।

উল্লেখ্য, এর আগে ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদন বিষয়ে বাবুলের নারাজি আবেদনের শুনানি হয় গত ২৭ অক্টোবর। একইদিন তিনি স্ত্রী মিতু হত্যার ঘটনায় নিজের করা মামলাটিতে পুনর্তদন্তও চেয়েছিলেন। বাবুল সেদিন আদালতকে সিআইডি বা অন্য কোন সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মাধ্যমে ঘটনার পুনর্তদন্ত চান বলে জানান।

পুলিশের সাবেক এসপি বাবুলের স্ত্রী হত্যার মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল পিবিআই ২০২১ সালের ১২ মে। এতে আসামি করা হয় মিতুর স্বামী বাবুলকে। আদালতে ৫৭৫ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। মামলাটির তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই মেট্রোর পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা। এরপর একইদিন পাঁচলাইশ থানায় বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেনও মিতু হত্যার ঘটনায় একটি মামলা করেন। যেখানে বাবুল আক্তারসহ মোট নয়জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় প্রধান আসামি বাবুলকে পিবিআই রিমান্ডে নেয়। তখন বাবুল তার সোর্স মুছাকে চিনেছেন বলেও তথ্য দেন। যদিও এর আগে বাবুল ঢাকার গোয়েন্দা কার্যালয়ে তার সোর্স মুছাকে চেনেন না বলে জানিয়েছিলেন।

এদিকে পিবিআই’র দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন বিষয়ে গত ১৪ অক্টোবর নারাজি আবেদন করেন বাবুল। এরপর গত ৩ নবেম্বর ওই মামলাটি অধিকতর তদন্ত করতে আগের আইওকেই নির্দেশ দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমান। এজন্য ১২ ডিসেম্বর সময়ও নির্ধারণ করে দেয় আদালত। আদেশে পিবিআই’র দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বিচারক। আবার বাবুলের করা নারাজি আবেদনটিও নামঞ্জুর করেন আদালত। এরপর আগের তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার বদলির পর তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন মহিউদ্দিন সেলিম। তিনিও পদোন্নতি পেয়ে বদলি হলে বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ ওমর ফারুক দায়িত্ব নেন এই চাঞ্চল্যকর মামলার।

শীর্ষ সংবাদ:
তিন পণ্য দ্রুত আমদানির পরামর্শ         শতবর্ষী কালুরঘাট সেতুর আরও বেহাল দশা         ঐক্য সুদৃঢ় আওয়ামী লীগের বিএনপি হতাশ         ইসি নিয়োগ আইন চলতি অধিবেশনেই পাসের চেষ্টা থাকবে         শান্তিরক্ষা মিশনে র‌্যাবকে বাদ দিতে ১২ সংগঠনের চিঠি         মাদকসেবীর সঙ্গে মাদকের বাজারও বাড়ছে         দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১১ হাজার ছুঁই ছুঁই         বঙ্গবন্ধু জাতীয় আবৃত্তি উৎসব শুরু ২৭ জানুয়ারি         এবার কুমিল্লা ভার্সিটিতে রেজিস্ট্রার হটাও আন্দোলন         শাবিতে অনশনরতরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, ৪ জন হাসপাতালে         ওয়ারীতে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে যাত্রী হত্যা         বিএনপি কখনও লবিস্ট নিয়োগের প্রয়োজন বোধ করেনি         অবশেষে চট্টগ্রামে হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ, জাদুঘর         ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৪, শনাক্ত ১০৮৮৮         দুর্নীতি রোধে ডিসিদের সহযোগিতা চাইলো দুদক         সন্ত্রাসীরা অস্ত্র তুললেই ফায়ারিং-এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী         সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধে ডিসিদের নির্দেশ         ব্যাংকারদের বেতন বেধে দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক         মগবাজারে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় প্রাণ গেল কিশোরের         জমির ক্ষেত্রে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বন্ধ হচ্ছে