সোমবার ৪ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

বিদ্যুতে আলোকিত সারাদেশ

বিদ্যুতে আলোকিত সারাদেশ

স্বপ্না চক্রবর্তী ॥ একটা সময় ছিল যখন কৌতুক করে বলা হতো, ‘দেশে বিদ্যুত যায় না, মাঝে মাঝে আসে’। বিদ্যুতের অভাবে দেশের অর্থনীতি ছিল পর্যুদস্ত। শিল্প, বাণিজ্য, ছিল স্থবির। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কবলে মানুষের জীবন ছিল অসহনীয়। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরে বিদ্যুত উৎপাদনে রেকর্ড করেছে দেশ। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচেষ্টায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য ছুঁতে আর মাত্র সামান্য ধাপ বাকি। বিদ্যুতের আলো পৌঁছে গেছে দেশের দুর্গম প্রান্ত থেকে প্রান্তে। নতুন করে গ্যাস কূপ খননের তোড়জোড় না থাকায় গ্যাস উত্তোলনে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও এলএনজি আমদানি করে সেই চাহিদাও পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে সরকার। এতে করে জনজীবনে যেমনি এসেছে স্বস্তি তেমনি সচল হয়েছে অর্থনীতির চাকা। তৈরি পোশাক খাত থেকে শুরু করে অন্যান্য খাতের উৎপাদন বাড়ছে প্রতিনিয়ত। বাড়ছে বৈদেশিক আয়।

দেশে বিদ্যুতের যাত্রা শুরু হয় ১৯০১ সালের ৭ ডিসেম্বর। আহসান মঞ্জিলে জেনারেটরের সহায়তায় বিদ্যুত সরবরাহের মাধ্যমে। পরে ১৯৩০ সালে বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় প্রথম বিদ্যুত বিতরণ ব্যবস্থা চালু হয় এবং পরবর্তীতে বাণিজ্যিকভাবে বিতরণ করার লক্ষ্যে ‘ধানমন্ডি পাওয়ার হাউস’ স্থাপন করা হয়। তারপর ভারত বর্ষ ভাগের পর ১৯৪৭ সালে এই অঞ্চলে বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুত উৎপাদন ও বিতরণের ব্যবস্থা চালু ছিল। পরে ১৭ টি প্রাদেশিক জেলার শুধু শহরাঞ্চলে সীমিত পরিসরে বিদ্যুত সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। অধিকাংশ জেলায় শুধু রাতের বেলায় সীমিত সময়ের জন্য বিদ্যুত সরবরাহ করা হতো। ঢাকায় ১৫০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার দুটি জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুত সরবরাহ করা হতো। ১৯৪৮ সালে, বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারী পর্যায়ে বিদ্যুত অধিদফতর স্থাপন করা হয়। ১৯৫৯ সালে পানি ও বিদ্যুত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ওয়াপদা) স্থাপন করার মাধ্যমে বিদ্যুত খাতে নবদিগন্তের সূচনা হয় এবং বিদ্যুত খাত একটি কাঠামো লাভ করে।

১৯৬০ সালে, বিদ্যুত অধিদফতরটি ওয়াপদার সঙ্গে একীভূত হওয়ার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মাত্রা লাভ করে। সেই সময় সিদ্ধিরগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও খুলনায় অপেক্ষাকৃত বৃহৎ আকারের বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করা হয়, সিদ্ধিরগঞ্জে স্থাপন করা হয় ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার স্টিম টারবাইন বিদ্যুত কেন্দ্র। একই সময়ে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে কাপ্তাইয়ে ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুত ইউনিট স্থাপন করা হয়, যা ওই সময়ে সবচেয়ে বড় বিদ্যুত কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত ছিল। ১৯৬২ সালে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম ১৩২ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন চালু করা হয় যা এই দেশের বিদ্যুত বিকাশের মাইলফলক।

সোনার বাংলা বিনির্মাণে স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭২ সালে রচিত সংবিধানের ১৬নং অনুচ্ছেদে নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করার উদ্দেশ্যে কৃষি বিপ্লবের বিকাশ, গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকরণের ব্যবস্থা, অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের রূপান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

১৯৭২-৭৫ এই সময়ে আশুগঞ্জ, ঘোড়াশাল ও সিদ্ধিরগঞ্জ তিনটি পাওয়ার হাব প্রতিষ্ঠা করা হয়। কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের অপরিসীম গুরুত্ব বিবেচনা করে ১৯৭৭ সালের অক্টোবরে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) সৃষ্টি করা হয়। ১৯৭৫ পরবর্তীতে জাতির জনকের নির্মম হত্যাকান্ডের পর বিদ্যুত খাতের আশাব্যঞ্জক কোন অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। দেশের সার্বিক অর্থনীতি তথা বিদ্যুত খাতের পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়ে। অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, সিস্টেম লস বাড়তে থাকে। সামরিক শাসক এরশাদের শাসনামলে বিদ্যুত ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে পুরোপুরিভাবে। সেই অবস্থা থেকে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার বিদ্যুত খাত সংস্কার কর্মসূচীর আওতায় বিদ্যুত উৎপাদনে বেসরকারী বিনিয়োগসহ বিদ্যুত খাতের কাঠামোগত সংস্কার করে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ খাতকে আলাদা করে সংস্থা ও কোম্পানি গঠন করা হয়। বিদ্যুত খাতের ন্যায় জ্বালানি খাতেও কাঠামোগত সংস্কার করে নানাবিধ সংস্থা ও কোম্পানি গঠন করে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১, এই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে অনেক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়। এই সময়ে বিদ্যুত উৎপাদন ১,৬০০ থেকে ৪,৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়।

এই অবস্থা থেকে আবারও বিদ্যুত খাতে অন্ধকার নেমে আসে ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত। এ সময়টায় বিদ্যুতের অভাবে দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি শিল্প, বাণিজ্য ছিল স্থবির। অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল জনজীবন। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কবলে মানুষের জীবন ছিল অসহনীয়। এই অবস্থা থেকে ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিলেন দিন বদলের সনদ ২০২১ ‘রূপকল্প’। তিনি বিদ্যুত খাতের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিলেন ২০২১ সালের মধ্যে সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছানো হবে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২১ সালে শতভাগ বিদ্যুতায়নের পথে হাঁটছে দেশ। বিদ্যুত বিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল এই সময়টায় বিদ্যুত খাতে যে সাফল্য অর্জিত হয়েছে তা গত ১০০ বছরেও হয়নি।

সরকার বিদ্যুত খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুত উৎপাদনে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জানিয়ে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন জনকণ্ঠকে বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রেখে জ্বালানি বহুমুখীকরণের জন্য গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি কয়লা, এলএনজি, তরল জ্বালানি, ডুয়েল-ফুয়েল, পরমাণু বিদ্যুত এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণসহ বিদ্যুত আমদানির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি জানান, ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুত’ এ স্লোগান সামনে রেখে সকলের জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুত সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণকল্পে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার সুফল আমরা ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছি।

বিদ্যুত বিভাগ বলছে, ‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুত’ সেøাগান সামনে রেখে সকলের জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুত সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ১৮ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াট বিদ্যুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুত ক্ষমতা ক্যাপটিভসহ, ২৪ হাজার ৯৮২ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে এবং বিদ্যুতের সুবিধাভোগী জনসংখ্যা ৪৭ থেকে ৯৯ ভাগে উন্নীত হয়েছে। তাছাড়া ১৪ হাজার ১১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৮টি বিদ্যুত কেন্দ্র প্রকল্প নির্মাণাধীন, ২ হাজার ৯৬১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২০টি বিদ্যুত কেন্দ্রের চুক্তি প্রক্রিয়াধীন। যেগুলো খুব শীঘ্রই কার্যক্রম শুরু করবে। ৬৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৬টি বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়ার পাশাপাশি পুরাতন বিদ্যুত কেন্দ্রগুলো সংরক্ষণ, মেরামত বৃদ্ধির মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুত উৎপাদনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

জানা যায়, ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র ৪৭৫ মেগাওয়াট। ১৯৭২ সালে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৫০০ মেগাওয়াট। তবে এই ক্ষমতার অর্ধেক বিদ্যুতও উৎপাদন করা যেত না। এই সামান্য পরিমাণ বিদ্যুত নিয়েই বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের যাত্রা শুরু। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে সংযোগ চাহিদা যেখানে ১২ হাজার ৮৯৩ মেগাওয়াট সেখানে উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ ২৫ হাজার মেগাওয়াট।

বিদ্যুত খাতের মাস্টারপ্ল্যান ভিশন-২০৩০ এ বলা হয়, দেশের অভ্যন্তরীণ মুখ্য জ্বালানির উৎস তৈরি করতে হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৫০ শতাংশ জ্বালানির চাহিদা মেটাতে হবে, যার ২৫ শতাংশ হবে কয়লা, ২০ শতাংশ হবে প্রাকৃতিক গ্যাস ও বাকি ৫ শতাংশ হাইড্রো ও নবায়নযোগ্য শক্তি। বর্তমানে বিদ্যুত উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার ৫২ শতাংশ, ফার্নেস অয়েল ২৭ শতাংশ, ডিজেল ৬ শতাংশ, কয়লা ৮ শতাংশ, জল ১ দশমিক ১ শতাংশ, গ্রিড সোলার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ, বিদ্যুত আমদানি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত উৎপাদনের ক্ষেত্রেও নেয়া হয়েছে নানা পরিকল্পনা। এ লক্ষ্যে জমির প্রাপ্যতা, পরিবহন সুবিধা এবং লোড সেন্টার বিবেচনায় নিয়ে পায়রা, মহেশখালী ও মাতারবাড়ি এলাকাকে হাব হিসেবে চিহ্নিত করে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রামপাল ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল প্রজেক্ট, মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল প্রজেক্ট এবং পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্প। তাছাড়া যৌথ বিনিয়োগে মহেশখালী হাবে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্র উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুত ও জ্বালানি বিভাগ বলছে, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র ছাড়াও রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। পায়রা বিদ্যুত কেন্দ্রের ইউনিট-১ (৬২২ মেগাওয়াট) এবং ইউনিট-২ (৬২২ মেগাওয়াট) এর বাণিজ্যিক উৎপাদন সফলভাবে শুরু হয়েছে।

বিদ্যুত উৎপাদনের দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা কার্যক্রমের আওতায় ২০৪১ সালের মধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে প্রায় ৯০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমদানির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বিদ্যুত আমদানি ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট করা হচ্ছে। নেপাল থেকে বিদ্যুত আমদানির লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে একটি সমঝোতা স্মারক। এছাড়া, ভুটান থেকে বিদ্যুত আমদানির বিষয়ে বাংলাদেশ, ভুটান এবং ভারতের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত পর্যায়ে স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে। বিদ্যুত উৎপাদনের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুত ভিত্তিক বিদ্যুত উৎপাদনের ওপর অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এর জন্য ভবনের ছাদে সৌর বিদ্যুত উৎপাদন জনপ্রিয় করার জন্য ‘নেট মিটারিং গাইডলাইন’ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

সঞ্চালন লাইনের কারণে কয়েকটি বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলেও বিদ্যুত বিভাগ বলছে, গত একযুগে বিদ্যুত সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। এতে করে বর্তমানে মোট সঞ্চালন লাইনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৯২ সার্কিট কিলোমিটার এবং বিতরণ লাইনের পরিমাণ ৬ লাখ ৩ হাজার কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ: