সোমবার ৪ মাঘ ১৪২৮, ১৭ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামে কারখানায় আগুন ॥ শ্বাসকষ্টে ফায়ার কর্মীর মৃত্যু

চট্টগ্রামে কারখানায় আগুন ॥ শ্বাসকষ্টে ফায়ার কর্মীর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগরিকা বিসিক শিল্প এলাকার একটি রাসায়নিক কারখানায় অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালে হোমল্যান্ড নামের ওই কারখানায় আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে ৪০ মিনিটের চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনে। কারখানাটিতে লুব্রিক্যান্ট থেকে গ্রিজ তৈরির করা হয়। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হওয়ায় কোন শ্রমিক কর্মচারী ছিল না। হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি। তবে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী অসুস্থ হয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আনিসুর রহমান জানান, শুক্রবার ওই কারখানার শ্রমিকরা ছুটিতে ছিল। তবে কয়েকজন শ্রমিক পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিল। কারখানায় দাহ্য পদার্থ থাকায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে প্রথমে স্টেডিয়ামে থাকা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ছুটে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে বন্দর ও আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশনের ১২টি গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের কেউ হতাহত হয়নি। আগুনের সূত্রপাত ও

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। কারখানায় তরল কেমিক্যাল ছিল। মালিকপক্ষ দাবি করেছে তাদের ২ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, হোমল্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের আগুন নেভানোর পর অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন ফায়ার ফাইটার মোঃ মিলন (৩৭)। তার বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায়। তিনি আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। আগুন নেভানোর সময় ধোঁয়ায় শ্বসকষ্ট ও বুকে ব্যথায় আক্রান্ত হন তিনি। দ্রুত তাকে চমেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হৃদরোগ বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে তার মৃত্যু হয়। উল্লেখ্য, কারখানা হতে প্রায় আধা কিলোমিটারের কম দূরত্বে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের টেস্ট ম্যাচের খেলা চলছিল। সেখান থেকেই কারখানার ধোঁয়ার কুন্ডলি দেখা যাচ্ছিল। কারখানা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রোডাকশন রুমের বৈদ্যুতিক বোর্ডে শব্দ হয়ে সেখান থেকেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক বোর্ড থেকেই আগুনের সূত্রপাত। চারদিকে কেমিক্যালের ড্রাম থাকায় তা ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানিয়েছে, কারখানার সকল কাগজপত্র দেখা হচ্ছে। তাদের পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে কি না এবং মূলত কীভাবে এই অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে তা দেখছেন তারা।

শীর্ষ সংবাদ: