রবিবার ২ কার্তিক ১৪২৮, ১৭ অক্টোবর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

জোরালো পদক্ষেপ চাই ॥ রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়কে প্রধানমন্ত্রী

জোরালো পদক্ষেপ চাই ॥ রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়কে প্রধানমন্ত্রী
  • নিউইয়র্কে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা
  • নিজ দেশে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ার হতাশা বহুমুখী বিপদের জন্ম দিচ্ছে

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অতি জরুরী ভিত্তিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জোরদার করার দাবি জানিয়ে বলেছেন, এ সঙ্কট প্রশ্নে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর নিষ্ক্রিয়তা বাংলাদেশকে মর্মাহত করেছে। অথচ সীমিত সম্পদ সত্তে¡ও মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ার হতাশা যে বহুমুখী বিপদের জন্ম দিচ্ছে তা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কথামালার উর্ধে উঠে সত্যিকারের গুরুত্ব দিয়ে এ সঙ্কটের সুরাহা করতে উদ্যোগী হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনায় তিনি বলেন, আমি বার বার বলে আসছি, তারা (রোহিঙ্গারা) মিয়ানমারের নাগরিক। সুতরাং নিরাপদে এবং আত্মমর্যাদার সঙ্গে নিজের দেশ মিয়ানমারেই তাদের ফিরে যেতে হবে। আমাদের সবাইকে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সে জন্য সম্ভব সব কিছু করতে হবে। খবর বাসস ও বিডিনিউজের।

শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতএব, এ ব্যাপারে জরুরী প্রস্তাব গ্রহণ করা প্রয়োজন এবং ‘আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, এক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশে যা কিছু করছি তা সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের যা কিছু করা সম্ভব তা অবশ্যই করতে হবে। এদিকে, তারা নিজেরাও তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়।

একই সঙ্গে, ন্যায়বিচার এবং দেশে প্রত্যাবর্তনে ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠীর মধ্যে দৃঢ় আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা স¤প্রদায়কে নিপীড়নের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রচার চালানোর ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।

২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে। তাঁর এ ভাষণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘হাই-লেভেল সাইড ইভেন্ট অন ফোর্সিবলি ডিসপ্লেসড মিয়ানমার ন্যাশনালস (রোহিঙ্গা) ক্রাইসিস : ইম্পারেটিভ ফর এ সাসটেইন্যাবল সল্যুশন’ শীর্ষক ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইউএনজিএ’র গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ আলোচনায় এ সঙ্কট তুলে ধরতে ঢাকার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর থেকেই এ সঙ্কটের একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য ধারাবাহিকভাবে ইউএনজিএ’র অধিবেশনে তিনি সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এ ব্যাপারে আমাদের সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আঞ্চলিক ক্ষেত্রে, আমরা চীন ও ভারতসহ প্রধান শক্তিগুলোকে এ সঙ্কট সমাধানে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছি। আমরা সর্বক্ষণিকভাবে আসিয়ানকে আরও সক্রিয় রাখার চেষ্টা চালিয়েছি।

বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে, আমরা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দেশ ও জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর মনোযোগ আকর্ষণ করে জাতিসংঘ প্রস্তাবের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনার টেবিলে ধরে রেখেছি। তবে, দুঃখজনকভাবে দুর্ভাগা, গৃহহীন হয়ে পড়া মিয়ানমারের নাগরিকদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য চালানো আমাদের প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত কোন আলোর মুখ দেখেনি।

তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত তাদের একজনও তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যেতে পারেনি।

শেখ হাসিনা বলেন, গত চার বছর ধরে বাংলাদেশ অনেক আশা নিয়ে অপেক্ষা করে রয়েছে যে, বাস্তুহারা এসব মানুষ নিরাপদে এবং মর্যাদাসহকারে তাদের নিজের দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবে।

তিনি বলেন, তা সত্তে¡ও, আমাদের আহ্বান অবহেলিত রয়ে গেছে এবং আমাদের প্রত্যাশা অসম্পূর্ণ রয়েছে। এ সঙ্কটের পঞ্চম বছর চলছে। এখনও আমরা রোহিঙ্গা সঙ্কটের একটি স্থায়ী সমাধানের আশা রাখছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মানবিক সঙ্কট সমাধান করা ছিল একটি সম্মিলিত দায়িত্ব এবং বিভিন্ন সীমান্তে এর প্রভাব পড়ছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে অতি দ্রæত কিছু করতে ব্যর্থ হলে ‘আমাদের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মহাবিপদে পড়বে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যাবাসনের অগ্রগতির ঘাটতির কারণে হতাশা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের অনেকে অপরাধমূলক কর্মকাÐে জড়িয়ে পড়ছে এবং তারা অতিসহজে জঙ্গীবাদী মতাদর্শের শিকার হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী এই সঙ্কট সমাধানে পাঁচ দফা আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রথমত, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘আমাদের সকলের জোরালো প্রচেষ্টা’ চালানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা দূর করতে মিয়ানমারে রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তন ঘটানো এবং এই সঙ্কট সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার একটি সংশোধন প্রয়োজন। তৃতীয়ত, শেখ হাসিনা বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে আসিয়ানের জোরদার প্রচেষ্টা দেখতে চান এবং আমরা বিশ্বাস করি যে এক্ষেত্রে আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের পদক্ষেপ মিয়ানমারকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে।

তিনি বলেন, চতুর্থত, আমাদের অবশ্যই মনে রাখা দরকার মানবিক সহায়তা জরুরী হলেও এটি কোন স্থায়ী সমাধান নয়। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও তাদের ধারণক্ষমতার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে জাতিসংঘ ও অংশীদারদের মিয়ানমারে অবশ্যই স্পষ্ট বিভিন্ন পদক্ষেপ ও প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা এক্ষেত্রে কোন অগ্রগতি দেখতে পাইনি। শেখ হাসিনা বলেন, দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া জনগোষ্ঠীর আস্থা সৃষ্টিতে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালানোর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি থেকে রেহাই দেয়া মোটেও উচিত হবে না। তিনি আরও বলেন, নির্যাতনকারীদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো নিশ্চিত করতে বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দাঁড় করাতে চলমান আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার প্রতি ঢাকার জোরালো সমর্থন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও মানবাধিকার পরিষদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণে বিশ্বের জোরালো সমর্থন চান।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালে নিপীড়ন এড়াতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক আগমনের শুরুতে আমাদের করণীয় ছিল, তাদের জীবন বাঁচানো অথবা সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া। সীমান্ত বন্ধ করে দিলে তারা জাতিগত নিধনের মুখে পড়ত।

শেখ হাসিনা বলেন, মানবতার দিক বিবেচনা করে আমরা তাদের জীবন বাঁচানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করি।

তিনি বলেন, এই মানবিক সিদ্ধান্ত ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের জনগণের নিজস্ব বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবং বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে গ্রহণ করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের এ সংগ্রাম শান্তি ও ন্যায় বিচারের জন্য সর্বজনীন লড়াইয়ের প্রতীক। অতএব, বাংলাদেশ বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের পাশে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেবে, এটা ছিল খুবই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের সূচনা থেকেই এমনটা হয়ে আসছে।

তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন অনিষ্পন্ন থাকায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদে অস্থায়ীভাবে অবস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। প্রাকৃতিক সম্পদ ও জমির সীমাবদ্ধতা সত্তে¡ও বাংলাদেশ তা করেছে।

তিনি বলেন, একটি সীমাবদ্ধ এলাকায় এ ধরনের বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘকাল অবস্থানে আশপাশের পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থানের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে বিভিন্ন পাহাড় ও বনভূমি কেটে ফেলতে হচ্ছে।

এমনকি মহামারী করোনাভাইরাসে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মধ্যেও আমরা রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার কথা ভুলে যাইনি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, যতক্ষণ না আমরা সকলে নিরাপদ, আসলে ততক্ষণ আমরা কেউই নিরাপদ নয়। আমরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আমাদের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় এনেছি।

তিনি বলেন, প্রতিবছর ৩০ হাজারের বেশি নতুন শিশু জন্মগ্রহণ করায় ক্যাম্পে জনসংখ্যার চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কক্সবাজারে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাপ কমাতে আমরা ভাসানচর নামের একটি দ্বীপে তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। দেশের দক্ষিণে অবস্থিত এ দ্বীপের ১৩ হাজার একর এলাকাজুড়ে এ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস আপডেট
বিশ্বব্যাপী
বাংলাদেশ
আক্রান্ত
২৪০৫০৯৩৩৮
আক্রান্ত
১৫৬৫১৭৪
সুস্থ
২১৭৭৯৮৫৯০
সুস্থ
১৫২৭৩৩৩
শীর্ষ সংবাদ:
দেশ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসব না ॥ বিশ্ব খাদ্য দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী         নিরাপদে দেশে ঢুকছে ভয়ঙ্কর আইস         দিগঙ্গনার অঙ্গন আজ পূর্ণ তোমার দানে ॥ এসেছে হেমন্তলক্ষ্মী         করোনাপরবর্তী স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন         ‘আগের রাতেই মণ্ডপে কেউ কোরান শরীফ রেখে যায়’         ২৩ অক্টোবর সারাদেশে ছয় ঘণ্টার গণঅনশন         উন্নয়নে পিছিয়ে নেই শেরপুর         পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিতে হবে         সরকারের সঙ্গে আলেম ওলামাদের কোন বিরোধ নেই         ত্রিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ৫ জনসহ নিহত ৭         বগুড়ায় ১৪ বেইলি ব্রিজ সরিয়ে নতুন সেতু নির্মাণ শুরু হচ্ছে         করোনায় দেশে ৬ জনের মৃত্যু         করোনা : গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৬         ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে’         ঢাকামুখী অভিবাসন রোধ করতে হবে : মেয়র তাপস         রবিবার ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা শুরু         প্রতিদিন ৪০ হাজার স্কুল শিক্ষার্থী টিকা পাবে ॥ মাউশি         ইভ্যালির ওয়েবসাইট বন্ধ         ডেঙ্গু : গত ২৪ ঘন্টায় ১৮৩ জন হাসপাতালে         বিদেশে এনআইডির জন্য বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকা