ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

দিশেহারা কৃষক

বাগেরহাটে ঘনকুয়াশায় পানের বরজে পচন

প্রকাশিত: ২১:১৩, ২৬ ডিসেম্বর ২০২০

বাগেরহাটে ঘনকুয়াশায় পানের বরজে পচন

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ তীব্র শীত ও ঘনকুয়াশার কারণে জেলার অধিকাংশ পান বরজে নানারোগ দেখা দিয়েছে। গত অক্টোবর মাসের ভারি বর্ষণের পর সৃষ্ট বন্যায় জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল পান বরজ প্লাবিত হয়ে চাষীদের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল। সে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই শীতের শুরুতে পান গাছের পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়া ও পাতাপচা রোগসহ ছত্রাকের আক্রমণে পান চাষীরা বিপাকে পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ছত্রাকনাশক ওষুধ প্রয়োগের কথা বলা হচ্ছে। তবে কৃষকরা বলছে ঘনকুয়াশার কারণে বরজে ওষুধ ছিটিয়েও কোন সুফল পাচ্ছেন না। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে জানা যায়, এ বছর বাগেরহাট জেলায় ১১শ’ ৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৪৩৫ হেক্টর, চিতলমারী উপজেলায় ৩৯ হেক্টর, ফকিরহাট উপজেলায় ৪৫০ হেক্টর, মোল্লাহাট উপজেলায় ১৪০ হেক্টর, মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ২৫ হেক্টর, শরণখোলা উপজেলায় ১০ হেক্টর, কচুয়া উপজেলায় ৫ হেক্টর ও রামপাল উপজেলায় ১ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়েছে। সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দেওয়ানবাটি গ্রামের মোঃ মারুফ বলেন, ‘সমিতি দিয়ে টাকা ওঠায়ে ১৫ কাঠা জমিতে পানের বরজ করিছি। কয়েক মাস আগে যে বৃষ্টি হইলো, তাতে আমার বরজও ডুবে গেইল। সে সমস্যা যাতি না যাতি কয়েকদিন ধইরে যে ঠাণ্ডা পরতিছে, তাতে পানের পাতা সব হলুদ হয়ে ঝড়ে পরতিছে। এত কুয়াশার কারণে পান গাছের পাতায় কালা কালা দাগ পইড়ে হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এখন আমি কি করবো, সমিতির কিস্তির টাহাই বা দেবো কিরাম করে’। একই গ্রামের মানিক পাল ও আমিরুল ইসলাম মিন্টু বলেন, ‘প্রতিবছরই, শীতির সময় কমবেশি পান গাছে পাতা ঝইড়ে পড়ে। কিন্তু এবার শীত একটু বেশি পড়তিছে, সঙ্গে আবার কুয়াশা। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, শীত মৌসুমে কুয়াশার কারণে পান পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়াসহ ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দেয়। শীতের তীব্রতা ও কুয়াশার পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ সমস্যা বাড়তে থাকে। এ সময় পান পাতায় ছত্রাকজনিত কালো দাগও দেখা যায়। তবে এ সমস্যা সমাধানে আমরা কৃষকদের বরজের ভেতরে কুয়াশা যাতে না ঢুকতে পারে সেজন্য পলিথিন বা নেটজাল দিয়ে ছাউনি দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া বরাজে ছত্রাকের আক্রমণ রুখতে কৃষকদের নিয়মিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।