ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯

অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি ভাল

প্রকাশিত: ২২:৩৪, ২৪ ডিসেম্বর ২০২০

অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি ভাল

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ করোনা মহামারীর মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি ভাল অবস্থায় আছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, সারাবিশ্ব এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বের সব দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু করোনা মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি, সময়োযোগী সিদ্ধান্ত এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রণোদনা প্যাকেজের ফলে অর্থনীতি গতিশীল হয়েছে। এ কারণে করোনার মধ্যেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে রেকর্ড এবং রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি এখন ভাল অবস্থানে। তিনি বলেন, এ ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী। আমদানি করে নেপালে ৫০ হাজার টন ইউরিয়া সার রফতানিরসহ ৩৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে চার ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারী ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার সরকারী ক্রয়সংক্রান্ত বৈঠক শেষে অনলাইন প্রেসব্রিফিংয়ে যুক্ত অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন। ওই সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের অর্থনীতি সঠিক জায়গায় আছে, ভাল অবস্থানে আছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অর্থনীতি অনেক ভাল অবস্থানে আছে। যেটা আপনারা কেউ চিন্তা করতে পারেননি। তিনি বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধির গড় হার নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০.২০ শতাংশ। গত ৫ অর্থবছরে ধরে সেটা নবেম্বর মাস পর্যন্ত দেখেছি ৩.১৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের নবেম্বর পর্যন্ত ভাল দেখাচ্ছে। আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, করোনার জন্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। লক্ষমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ অবস্থায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব কিনা বা এ বিষয়ে সরকারের কী পরিকল্পনা রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা হলো আমরা বাজেট দিয়েছি। এখন ২০২০ সাল কদিন পরেই শেষ হবে। সে অনুযায়ী আমরা পর্যালোচনা করছি। আমাদের পর্যালোচনা অনুযায়ী আমাদের সংশোধন করা দরকার সেখানে সংশোধন করা হবে। তিনি এখনও সকল সূচকে প্রবৃদ্ধি রক্ষা করছি। আমদানি করে নেপালে ৫০ হাজার টন সার রফতানি ॥ বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র নেপালে রফতানির জন্য ৫০ হাজার টন সার কেনায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নেপালে রফতানির জন্য কাফকো থেকে ১০৯ কোটি ৭৪ লাখ ৪৭ হাজার ৮১২ টাকা ব্যয়ে ৫০ হাজার টন গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনায় অনুমোদন দিয়েছে সরকারী ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, সরকারী ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সভায় অনুমোদনের জন্য ৫টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের ২টি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ১টি প্রস্তাবনায় ছিল। ৫টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ৪৩৮ কোটি ৯৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬৪৯ টাকা। এর মধ্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কুমিল্লায় পুলিশের আবাসন প্রকল্প প্রস্তাবটি ফেরত দেয়া হয়েছে। কারণ প্রকল্পটির মেয়াদ রয়েছে মাত্র ৪ থেকে ৫ মাস। তাই বৈঠকে চারটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭২ কোটি ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ১০৭ টাকা। বাংলাদেশ সার আমদানি করে চাহিদা মিটিয়ে থাকে। তবে নেপালে রফতানির করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা কাফকো থেকে সার নিয়ে নেপালকে সার দিচ্ছি। বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে নেপালের সঙ্গে এটা প্রথমবারের মতো করা হলো। আমার মনে হয় এতে আমাদের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও ভাল হবে। আমদানি করে রফতানি করা যায়। সিঙ্গাপুরও আমদানি করে রফতানি করে। তারা নিজেরা কিছু তৈরি করত না। আমরাও সেটা করলাম। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু সালেহ মোস্তফা কামাল ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২৫৭ দশমিক ৩৭ ডলার প্রতি টন ৪০ হাজার টন বাল্ক, বাকি ১০ হাজার টন ব্যাগড ২৬২ দশমিক ৩৭ ডলার মূল্যে এ সার দেয়া হচ্ছে। এটি লোন হিসেবে ধরা হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বৈঠকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রস্তাব হলো- স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেজ-৩)। এছাড়া ২০২১ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজী ভার্সন), ইবতেদায়ি, দাখিল, এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল এবং কারিগরি (ট্রেড বই) স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত ৩ লাখ ২৮ হাজার ৮১৭টি পাঠ্যপুস্তক ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ১৪০ টাকায় ক্রয়ের সংশোধিত চুক্তি সম্পাদনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।