বুধবার ৭ মাঘ ১৪২৭, ২০ জানুয়ারী ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

বেসরকারি খাতে ঋণের গতি আবারও কমছে

বেসরকারি খাতে ঋণের গতি আবারও কমছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে প্রণোদনায় ভর করে বাড়তে থাকা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ফের আবার তলানিতে নেমে এসেছে। কমতে কমতে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দেশের নিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি আট দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে এসেছিল। প্রণোদনা ঋণে ভর করে এই প্রবৃদ্ধি বাড়তে শুরু করেছিল।

ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল নয় দশমিক ২০ শতাংশ। অগাস্টে তা বেড়ে নয় দশমিক ৩৬ শতাংশে উঠে। সেপ্টেম্বরে তা আরও বেড়ে নয় দশমিক ৪৮ শতাংশ হয়। অক্টোবরে এই প্রবৃদ্ধি এক শতাংশ পয়েন্ট কমে আবার আট দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে এসেছে।

অর্থনীতির গবেষক ও ব্যাংকাররা বলেছেন, কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় সরকার সোয়া লাখ কোটির টাকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল, সেগুলোর বাস্তবায়নে গতি আসায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বেড়েছিল। এখন প্রণোদনা ঋণ তেমন বিতরণ না হওয়ায় এই প্রবৃদ্ধি ফের সেই তলানিতে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের চতুর্থ মাস অক্টোবর শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ১৪ হাজার ৩২২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে আট দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালের অক্টোবর শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ২৫ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সরকারি খাতেও ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমেছে। অক্টোবর শেষে সরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৯১ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা, যা গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে ২৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি। সেপ্টেম্বরে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ছিল ৫৯ দশমিক ৯২ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, টানা প্রায় ১০ বছর বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি দুই অঙ্ক বা ১০ শতাংশের উপরে ছিল। তবে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরের পর গত বছরের নবেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো তা নয় দশমিক ৮৭ শতাংশে নেমে আসে। ধারাবাহিকভাবে এই প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে গত এপ্রিলে নয় শতাংশের নিচে নেমে আসে। ওই মাসে বেসরকারি ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি আট দশমিক ৮২ শতাংশে নেমে যায়। গত জুনে তা আরও কমে আট দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে আসে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে ১৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যামাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। গত অর্থবছরের মুদ্রানীতিতেও এই একই লক্ষ্য ধরা ছিল, বিপরীতে ঋণ বেড়েছিল আট দশমিক ৬১ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত জুন মাসের মত এত কম প্রবৃদ্ধি এক দশকে হয়নি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আট দশমিক ৬১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের ইতিহাসেই সর্বনিম্ন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে ১৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৩২ শতাংশ। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক আট শতাংশ। গত অর্থবছরের মুদ্রানীতিতেও এই একই লক্ষ্য ধরা ছিল, বিপরীতে ঋণ বেড়েছিল আট দশমিক ৬১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সিএমএসএমইসহ অন্যান্য প্রণোদনার ঋণ বিতরণ বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নজরদারি ও তদারকি অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবারও ছোট ঋণ পাওয়ার সময় ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

গত ২৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২০-২১ অর্থবছরের যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, তাতে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯ দশমিক তিন শতাংশ; যার মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য হচ্ছে যথাক্রমে ৪৪ দশমিক চার শতাংশ ও ১৪ দশমিক আট শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, অক্টোবর শেষে দেশে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ১১ লাখ ১৪ হাজার ২০১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সরকার নিয়েছে এক লাখ ৯৬ হাজার ৩২২ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

গত বছরের অক্টোবর শেষে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৬৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। যার মধ্যে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ২৫ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর সরকারের ঋণ ছিল এক লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা। এ হিসাবে অক্টোবর শেষে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। সরকারি ঋণের ২৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ, আর বেসরকারি খাতের আট দশমিক ৬১ শতাংশ। কিছু ব্যাংকের আগ্রাসী বিনিয়োগের কারণে আড়াই বছর আগে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে ঋণ প্রবৃদ্ধি। ওই পরিস্থিতিতে ২০১৮ সালের শুরুতে বেসরকারি ঋণপ্রবাহে লাগাম টানতে ব্যাংকের ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) কিছুটা কমিয়ে আনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর থেকে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমতে থাকে। এর মধ্যে কয়েক দফা এডিআর সমš^য়ের সীমা বাড়ানো হলেও ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত ছিল।

প্রসঙ্গত, মহামারী মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত এক লাখ ২০ হাজার কোটি হাজার কোটি টাকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, তার মধ্যে বড় শিল্প ও সেবা খাতে ৩৩ হাজার কোটি টাকা এবং কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে (সিএমএসএমই) ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল অন্যতম। এই দুই তহবিলের জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকা (১৫ হাজার ও ১০ হাজার কোটি টাকা) যোগান দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

শীর্ষ সংবাদ:
সাকিব-হাসানে উইন্ডিজকে বিপর্যস্ত করল বাংলাদেশ         যুবলীগ চেয়ারম্যান করোনায় আক্রান্ত         বিদ্রোহীদের কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না ॥ সেতুমন্ত্রী         চাইলে বিএনপিকে আগে ভ্যাকসিন দিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব ॥ তথ্যমন্ত্রী         আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ॥ প্রধানমন্ত্রী         করোনা মহামারীর মধ্যেও থেমে নেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি         সংসদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি         পিকে হালদারের ৮৩ সহযোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ         প্রত্যাবর্তনে সাকিবের চমক         টেকনাফে অস্ত্রসহ পাঁচ সন্ত্রাসী রোহিঙ্গা আটক         ভারতে পাথর বোঝাই ডাম্পারের নিচে চাপা পড়ে ১৪ জনের মৃত্যু         দায়িত্বের চেয়েও বেশি কাজ করেছি ॥ বিদায়ী ভাষণে ট্রাম্প         ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আজ শপথ নিচ্ছেন বাইডেন         নদী দখলের থাবা ॥ ৬৪ জেলায় দখলদার ৬৩ হাজার         প্রেসিডেন্ট হিসেবে আজ বাইডেনের অভিষেক         রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু এপ্রিল-মে মাসে         ভারতের উপহার ২০ লাখ ডোজ টিকা আসছে কাল