ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১

প্রকাশ্যে ভবন ভেঙ্গে বাঁশ সরিয়ে নিল ঠিকাদার

প্রকাশিত: ২১:৪০, ২৯ জুলাই ২০২০

প্রকাশ্যে ভবন ভেঙ্গে বাঁশ সরিয়ে নিল ঠিকাদার

নিজস্ব সংবাদদাতা, আমতলী, ২৮ জুলাই ॥ রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি (টুনি) দিয়ে আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াস ব্লক নির্মাণ করেছে সাবেক ছাত্রলীগ আহ্বায়ক ঠিকাদার নুরুজামাল। এ খবর এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার ঠিকাদার প্রকাশ্যে তার লোকজন দিয়ে ভবন ভেঙ্গে বাঁশের কঞ্চি সরিয়ে নিয়েছেন। ভবন ভেঙ্গে বাঁশের কঞ্চি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখেছেন বিদ্যালয় এলাকার শত শত মানুষ । স্থানীয়রা রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণকারী ঠিকাদার নুরুজামালকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করেছেন। জানা গেছে, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর আমতলীর বৈঠাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণের জন্য ২০১৫ সালে দরপত্র আহবান করে। ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই কাজ পায় আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ঠিকাদার নুরুজামাল। ব্লক নির্মাণের শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। কাজের শুরুতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এতে বাধা দেয়। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার নুরুজামাল কাজ করেন। তার ভয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ দেখভাল করতে পারেনি। তৎকালীন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিমের সঙ্গে আঁতাত করে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছা মাফিক রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি (টুনি) দিয়ে ওয়াস ব্লক নির্মাণ করেছেন। ২০১৭ সালে ওই কাজ শেষ হয়। ওই সময়ে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোসাঃ সুলতানা রাজিয়ার কাছে প্রত্যয়ন চায়। কিন্তু কাজের মান ভাল না হওয়ায় তিনি প্রত্যয়ন দেননি এমন দাবি প্রধান শিক্ষকের। ওয়াস ব্লক নির্মাণের তিন বছরের মাথায় ফাটল ধরে। ওই ফাটল মেরামতের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এ বছর বিশ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। শনিবার ওই ওয়াস ব্লকের মেরামতের কাজ শুরু করেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রাজমিস্ত্রি সুলতান হাওলাদার কাজের শুরু করলেই মুহূর্তের মধ্যে ওয়াস ব্লকের লেন্টিন ও ওয়াল ভেঙ্গে পড়ে। এর পরই লেন্টিন থেকে বেড়িয়ে আসে রডের বদলে বাঁশের কাঞ্চি। তাৎক্ষণিক রাজমিস্ত্রি সুলতান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়দের খবর দেন। প্রধান শিক্ষক রড়ের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি দেখে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মজিবুর রহমানকে জানায়। রবিবার বিকেলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান বিদ্যালয় ভাঙ্গা ওয়াস ব্লক পরিদর্শন করেন। খবর পেয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ তরিকুল ইসলাম ও ঠিকাদার নুরুজামাল গিয়ে ভাঙ্গা ওয়াস ব্লক থেকে বাঁশের কঞ্চির লেন্টিন ও কঞ্চি সরিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ সময় স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন তারা। এ খবর বিভিন্ন মহল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার ঠিকাদার নুরুজামাল নিজেকে আড়াল করতে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তার লোকজন দিয়ে ওয়াস ব্লকের অবশিষ্টাংশ ভেঙ্গে বাঁশের কঞ্চি বের করে নিয়ে যায়। ঠিকাদারের এমন দৃশ্য অবলোকন করেছেন স্থানীয় শত শত মানুষ। তারা ঠিকাদার নুরুজামালের বিচার দাবি করেছেন।
×