শুক্রবার ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ মে ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

মুজিববর্ষ কেন্দ্র করে সব অফিস কাগজবিহীন হচ্ছে

ফিরোজ মান্না ॥ মুজিববর্ষ কেন্দ্র করে প্রতিটি সরকারী অফিস কাগজবিহীন করার উদ্যোগ নিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ (আইসিটি)। ’২১ সালের মধ্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশ ই-গবর্নমেন্ট জিআরপি সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাংলাভাষায় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক পেপারলেস অফিস সভা করে যাচ্ছে। এরপরই শুরু হবে কাগজবিহীন অফিস কার্যক্রম।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্র জানায়, মুজিববর্ষ ’২০ উদযাপন উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচীর মধ্যেই থাকবে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ। এ জন্য শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের কয়েকটি বিভাগ কাগজবিহীন কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ডিজিটাল করার কার্যক্রম চলছে। তবে, ঠিক কতদিনের মধ্যে ডিজিটাল হবে তা নির্ধারণ করে অন্য সরকারী প্রতিষ্ঠানকেও অনুসরণ করার তাগিদ দেয়া হবে। সূত্র মতে, ই-নথি কার্যক্রমে সাফল্য দেখিয়ে আসছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ রক্ষার্থে সবকিছুই ইআরডি ই-নথিতে। বড় ক্যাটাগরির আট বিভাগের মধ্যে এ বছরের ই-নথি কার্যক্রমের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ইআরডি। ইআরডি বর্তমানে সাত হাজার অফিস ই-নথির মাধ্যমে কাজ করছে। ইআরডির হাতে ৩ হাজার ৮৬১ ডাক আসে। এসব ডাক স্ক্যান করে অনলাইনে নিয়ে এসে নিষ্পত্তি করা হয়। ফলে ৩ হাজার ৭১৭ ডাক ই-নথির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেছে ইআরডি। এছাড়া এর মধ্যে স্ব-উদ্যোগে ই-নথি হয়েছে ৯৪২। ই-নথির মাধ্যমে ৯৩৮ পত্র জারি করেছে ইআরডি। কাজের গতি বাড়াতে ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে সব হার্ড কপিও স্ক্যান করে অনলাইনে এনেছে ইআরডি। ফলে ইআরডির কোন কর্মকর্তা অফিসে না থাকলেও কাজ থেমে থাকে না। যে কোন সিদ্ধান্ত দেশের বাইরে বসেও এ্যাপস ও ই-মেল ব্যবহার করে নিষ্পত্তি করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ইআরডির এক উর্ধতন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ফল হচ্ছে ই-নথি। সাধারণ জনগণও ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পাচ্ছেন। ইআরডি অফিসের সব ডাক স্ক্যান করে অনলাইনে নিয়ে আসা হয়। পরে ই-নথির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

আশা করছি সরকারের ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা ’২১ সালের আগেই ইআরডি কাগজবিহীন হবে। অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে ইআরডির সব দাফতরিক কাজ করতে পারবে। সামনে ই-নথি কার্যক্রম আরও বাড়বে। অনলাইনে নথি আদান-প্রদান একদিকে যেমন সময়সাশ্রয়ী তেমন নেই লালফিতার দৌরাত্ম্য নেই। দ্রুততম সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিষ্পত্তি হচ্ছে। সরকারী কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করতে ই-ফাইলিংয়ের কোন বিকল্প নেই।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ সূত্র জানায়, কয়েকটি দফতরে বেতন বিল বাজেট প্রণয়ন চিঠিপত্র ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল পদ্ধতিতে হচ্ছে। ডাকের পরিবর্তে এখন অনলাইনে এসব কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে। এ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অফিসে উপস্থিত না হয়েও দাফতরিক কাজ মোবাইলের মাধ্যমে ই-নথি এ্যাপ ব্যবহার করে কর্মকর্তাকে করে যাচ্ছেন। তবে অনেক মন্ত্রণালয় এখন আগ্রহী নয়, আবার অনেক মন্ত্রণালয়-বিভাগে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। ইআরডিতে ব্যাপক সাড়া মিললেও অনাগ্রহী পররাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ই-ফাইলিং কার্যক্রমকে তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এ বছরে ই-নথি কার্যক্রমে বড় ক্যাটাগরিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইআরডি। মধ্য ক্যাটাগরিতে শীর্ষ স্থান দখল করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। এছাড়া ছোট ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদন ই-নথির মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে এ হিসাব করা হয়। প্রথম ক্যাটাগরিতে সাত, দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে ১৪ ও তৃতীয় ক্যাটাগরিতে ৩৭ বিভাগ ও মন্ত্রণালয় রয়েছে। বর্তমান সরকার ই-ফাইলিংয়ে জোর দিয়েছে। এখন অধিকাংশ টেন্ডারও ই-ফাইলিংয়ে চলে এসেছে। দেশে মোট ১৯ হাজার সরকারী অফিসে দেড় থেকে দু’লাখ সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী কর্মরত। ফলে ১৬ কোটি মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। এসব অফিসে প্রায় ৮৫ হাজার ৫৩২ কর্মকর্তা ই-নথি কার্যক্রমে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। ই-নথির ফলে গোটা দেশের এক কোটি ১৭ লাখ ৯৫ হাজার ২৭১ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।

এদিকে, একসেস টু ইনফরমেশন গ্রোগ্রাম (এটুআই) ও সারাদেশে ই-ফাইলিং নিয়ে কাজ করছে। ই-নথির মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর হচ্ছে। একটা ডাক ম্যানুয়ালি যখন এক ডেস্ক থেকে অন্য ডেস্কে যায় তখন অনেক সময় লাগে। ’১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনী ইশতেহার ছিল আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে ফেলা। এটা একমাত্র ই-নথির মাধ্যমেই সম্ভব। রূপকল্প-২১ সারাদেশের সব সরকারী দফতর একটা কমন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দাফতরিক কাজ করবে। আর এটা হবে ই-নথি। বর্তমানে সাত হাজার সরকারী অফিসে ই-নথির মাধ্যমে কাজ করেন ৮৫ হাজার কর্মকর্তা। সবাই ই-নথির মাধ্যমে দাফতরিক কাজ সম্পন্ন করছেন। ’২১ সালের মধ্যেই সব অফিস পেপারলেস হবে। ফলে স্বচ্ছতার মাধ্যমে সব কাজ দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি ও সম্ভব হবে।

শীর্ষ সংবাদ:
//--BID Records