ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

ঘাসে ঘাসে পা ফেলে দেখা ছোট্ট সুন্দর ফুল

প্রকাশিত: ১০:২৮, ২৫ জুলাই ২০১৯

ঘাসে ঘাসে পা ফেলে  দেখা ছোট্ট সুন্দর  ফুল

মোরসালিন মিজান ॥ রবীন্দ্রনাথের প্রিয় সুরটি কানে বাজছে। ঘাসে ঘাসে পা ফেলেছি...। ঘাসে ঘাসে পা ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন কবিগুরু। সাধারণ মানুষও এই অভিজ্ঞতার বাইরে নয়। ভূমিভাগের সঙ্গে প্রায় লেপ্টে থাকা সবুজ ঘাস প্রতিদিন পায়ে মাড়িয়ে যাই আমরা। যেন মখমলের ওপর দিয়ে নগ্ন পায়ে হেঁটে যাওয়া। সে কী আনন্দের! তারও বেশি আনন্দ দেয় ফুল। হ্যাঁ, কিছু ঘাসে ফুল হয়। আছে বিশেষ একটি জাতও। এই জাতের ফুলকে আলাদা করে ঘাসফুল নামে ডাকা হয়। ইংরেজী নাম রেইন লিলি। এখন বৃষ্টির দিনে চমৎকার ফুটে আছে। বাগানে কতশত ফুল। বিশেষ নজর কাড়ে ঘাসফুলের সৌন্দর্য। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ফুল দেখতে আকাশের তারার মতো। অথচ জমিনেই সুন্দর ফুটে আছে। আষাঢ়ের শেষদিকে রাজধানীর মনিপুরীপাড়ার একটি বাসার সামনে দেখা হয়েছিল এই মৌসুমের প্রথম ঘাসফুল। নানা জাতের গাছ দিয়ে বাগান ভর্তি। মৌসুমি প্রায় সব ফুল ফুটে আছে। কিন্তু একেবারে নিচের দিকে শুধুই ঘাসফুল। সবুজ ঘাসের লম্বা ডগা। তার মাঝখানে ঘন হয়ে ফোটা ফুল। রঙিন ফুল দিয়ে বাগানের সীমানা এঁকে দেয়া হয়েছে। শরীর একটু নুইয়ে কাছে যেতেই ফুলের সৌন্দর্যটা দ্বিগুণ হয়ে ধরা দেয়। ঘ্রাণ নেই। তাতে কী? আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে দিতে বড় ভাল লাগছিল। অবশ্য বুধবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল অন্য ছবি। এরই মাঝে সব ফুল শুকিয়ে গেছে। ঝরে পড়ার অপেক্ষা। বাগানের মালিক গৃহকর্ত্রী হাসিনেরও মন কিছুটা খারাপ। বলছিলেন, আমার বাগানে সাদা, হলুদ এবং গোলাপি রঙের ঘাসফুলের চারা লাগিয়েছি। সব রং একসঙ্গে দেখার অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু এক রঙের ফুল ফুটে। অন্যটি ঝরে যায়। আর এখন তো কোনটাই দেখছি না। গত কয়েকদিন টানা রোদের কারণেই ফুলগুলো টিকতে পারেনি বলে জানান তিনি। তবে সামনের দিনগুলোতে বৃষ্টি হলে একসঙ্গে সব রং দেখার স্বপ্ন পূরণ হবে বলে আশা করছেন বাগান মালিক। ঘাসফুল দেখা যায় সমাধিসৌধেও। কবরের বিশেষ পরিচর্যার অংশ হিসেবে উপরের দিকে ঘাসফুল লাগিয়ে দেয়া হয়। বনানী কবরস্থানে এই ছবিটা একাধিকবার দেখা হয়েছে। বিভিন্ন রঙের ফুল। ছোট ছোট ফুল কবরের ব্যথা ভুলিয়ে দেয়। মনে করিয়ে দেয়-পৃথিবীর সুন্দর। সুন্দর এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা যোগায় ঘাসফুল। উদ্ভিদবিদ দ্বিজেন শর্মার বর্ণনা থেকে জানা যায়, গ্রীষ্ম থেকে ফুলটি ফোটা শুরু হয়। শরৎ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ঘাসফুলের উচ্চতা মাত্র ১৫ থেকে ২০ সেমি। ফুলটি সাধারণত দিনেরবেলায় হাসে। সন্ধ্যায় নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নেয়। উদ্ভিদবিদদের দেয়া তথ্য মতে, ঘাসফুল বা রেইন লিলি আমারিলিডাসি পরিবারের সদস্য। আদিনিবাস ছিল দক্ষিণ আমেরিকায়। বহু বছর ধরে আছে বাংলাদেশে। একই ফুল রেইন ফ্লাওয়ার, ফেয়ারি লিলি, জেফাইর লিলি, ম্যাজিক লিলি, আটামাসকো লিলি নামে পরিচিত। সাদা ফুলটির বৈজ্ঞানিক নাম জেফাইরান্থেসিস ক্যানাডিডা। হলুদ ফুলটি জেফাইরান্থেসিস সিট্রিনা। আমাদের দেশে বেশি দেখা যায় গোলাপি রঙের ফুলটি। রঙের কারণে রোজি রেইন লিলি নামেও পরিচিত। অন্য দুটি নাম রোজ ফেয়ারি লিলি ও রোজ জেফির লিলি। আর বোটানিক্যাল নাম জেফাইরান্থেসিস রোজ। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ঘাসফুলের জন্য তেমন যত্নের প্রয়োজন হয় না। অযত্নে- অবহেলায়ও বেঁচে থাকতে জানে। বেঁচে থাকুক প্রিয় ফুল। বাঁচতে শেখাক আমাদের।